চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শাস্তির বদলে পদায়ন
শাস্তির বদলে পদায়ন

১৬ মার্চ, ২০২০ | ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

ষোলশহর রেল স্টেশনে দুর্ঘটনা

শাস্তির বদলে পদায়ন

দায়িত্বে অবহেলা তদন্ত ­ কমিটির অনুসন্ধানে উঠে আসলেও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি

নগরীর ফরেস্ট গেট এলাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরগামী শাটল ট্রেনের সঙ্গে মালবাহী ওয়াগনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিলো ষোলশহর স্টেশন মাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) জাফর উল্লাহ মজুমদারের দায়িত্ব অবহেলার কারণে। গত ৪ মার্চ সকাল দশটায় সংগঠিত ট্রেন দুর্ঘটনার সময় তিনি স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি পরে তিনি স্টেশনে এসেছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গঠিত রেলের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের হবার কথা। ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য স্টেশন মাস্টার জাফর উল্লাহর দায়িত্ব অবহেলার কথা তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে উঠে আসলেও তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং দুর্ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় তাকে ষোলশহর স্টেশনের শূন্য পদে পদায়ন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।

গত ১১ মার্চ পূর্বাঞ্চল রেলের চিফ অপারেটিং সুপারিন্টেনডেন্টের (সিওপিএস) কার্যালয় থেকে দেয়া এক দাপ্তরিক আদেশে বলা হয়েছে, ষোলশহর স্টেশন মাস্টার (ভারপ্রাপ্ত) জাফর উল্লাহ মজুমদারকে ষোলশহর স্টেশনের শুন্য পদে কাজ দেখাশোনা করার জন্য পদায়ন করা হলো। পুনরায় আদেশ না দেয়া পর্যন্ত পদায়নাদেশ জারি করা হলো।
গতকাল (রবিবার) সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, পূর্বাঞ্চল রেলের সিওপিএস এ এম এম শাহনেওয়াজ জানান, ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য জাফর উল্লাহকে দায়ী করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার বিষয়টি আমি জানি না। প্রতিবেদনটি কখন দিলো তাও বুঝলাম না। তাকে ষোলশহর স্টেশনে পদায়ন করার কথা স্বীকার করে সিওপিএস জানান, দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখনো নেয়া যাবে। এ ধরনের ঘটনায় তার শাস্তি হবেই।
গত ৪ মার্চ সকাল দশটায় নগরীর ফরেস্ট গেট এলাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরগামী শাটল ট্রেনের সঙ্গে মালবাহী ওয়াগনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়। আহতরা হলেন, ওয়াগনের চালক (লোকামাস্টার) শেখ আবদুল্লাহ ও শাটল ট্রেনে থাকা পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ মিজান ও মো. শরীফ। ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়। সংঘর্ষের কারণে সকাল দশটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ওই রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।
দুর্ঘটনার পর পর ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার জাফরুল্লাহ মজুমদার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মালবাহী ট্রেনটি ষোলশহর এলাকায় ছিল। সকাল দশটার দিকে স্টেশনের এক লাইন থেকে আরেক লাইনে ট্রেনটি নেওয়ার কাজ চলছিলো। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাটল ট্রেনটি চলে আসে এবং মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। তবে শাটল ট্রেনকে আগেই সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিলো। সিগন্যাল না মানায় দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তদন্তে দেখা যায়, জাফর উল্লাহ মজুমদার দুর্ঘটনার সময় স্টেশনে উপস্থিত ছিলেন না।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গঠিত তদন্ত কমিটির ওই দিনই (৪ মার্চ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত ওইদিন স্টেশনের দায়িত্বে ছিলেন স্টেশন মাস্টার জাফর উল্লাহ মজুমদার। সকাল দশটায় দুর্ঘটনার পর পর রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বেলা বারোটার দিকে পাঞ্জাবি পড়ে দুর্ঘটনাস্থলে আসেন জাফর। তার পরনে ইউনিফর্মও ছিলো না। অথচ সুপারভাইজিং কর্মকর্তা হিসাবে সকাল আটটা থেকে স্টেশনে তার দায়িত্ব পালন করার কথা। তিনি যদি যথাসময়ে স্টেশনে আসতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেনের লাইন ক্লিয়ার দেয়ার পর অন ডিউটি স্টেশন মাস্টার সুুপারভাইজিং স্টেশন মাস্টার হিসাবে তার সাথে পরামর্শ করে মালবাহী ওয়াগন মুভমেন্ট না দিলে দুর্ঘটনা ঘটতো না। এ দুর্ঘটনার জন্য জাফর উল্লাহ দায় এড়াতে পারেন না। তিনি দায়িত্ব পালন করেননি। জাফর উল্লাহ মজুমদার তার উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে মনিটরিং করলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো।
সুপারিশ : দুর্ঘটনা এড়াতে পাঁচটি সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি। তা হলো, স্টেশন ওয়ার্কিং রুল সম্পূর্ণ বুঝে স্টেশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হবে। ওয়ার্কিং রুল অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনা করতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতি ওয়ার্কিং রুলের নির্দেশনা দ্বারা সমাধান করা সম্ভব না হলে অবশ্যই কন্ট্রোল অফিসের সাথে যোগাযোগ করে নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী কাজ বাস্তবায়ন করতে হবে। পরিস্থিতি যাই হোক না কেন এলএম ও এএলএম তাদের জন্য প্রদর্শিত সিগন্যাল অনুসরণ ও সেই অনুযায়ী ট্রেন পরিচালনা করবেন এবং সচরাচর স্টেশনগুলোতে সাধারণ সিগনালে যেইভাবে এসপেক্ট প্রদর্শিত হয় তার প্রতি পূর্বপ্রসূত ধারণা না রেখে প্রকৃতই তার জন্য সিগনালের যে এসপেক্ট প্রদর্শিত হয়েছে তা অবলোকন ও অনুসরণ করতে হবে।

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
The Post Viewed By: 225 People

সম্পর্কিত পোস্ট