চট্টগ্রাম শনিবার, ০২ মে, ২০২৬

ইতালিতে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুনের নেপথ্যে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

২ মে, ২০২৬ | ১২:২১ অপরাহ্ণ

পারিবারিক দ্বন্দ্বে গত বৃহস্পতিবার ইতালির লেইজ শহরে বড় ভাইয়ের হাতে খুন হলেন ছোট ভাই। এই ঘটনার পর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে চলছে শোকের মাতম। এরইমধ্যে ঘাতক বড় ভাই হুমায়ূন ফকিরকে গ্রেপ্তার করেছে ইতালি পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

নিহত নয়ন ফকির উপজেলা সোনারং টঙ্গীবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারং গ্রামের মো. দেলোয়ার ফকিরের ছেলে।

জানা গেছে, পরকীয়া, আর্থিক লেনদেন এবং বাড়ির বিদ্যুৎ লাইন কাটা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে খুন হন নয়ন ফকির।

নিহত নয়নের বোন দিলারা আক্তার একটি গণমাধ্যমে জানান, ৬ বছর আগে হুমায়ূন লিবিয়া দিয়ে ইতালি যান। ৪ বছর আগে ১৩ লাখ টাকা খরচ করে ছোট ভাই নয়নকে ইতালি নিয়ে যান। কিন্তু ইতালি নেওয়ার বিনিময়ে নয়ন হুমায়ূনকে ২০ লাখ টাকা প্রদান করেন। হুমায়ূন তার বাবা মায়ের ভরণপোষণ বাবদ বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ১৬ লাখ টাকার র্অধেক (৮ লাখ) টাকা নয়নের কাছে দাবি করেন। সেই টাকা দিতেও রাজি হয় নয়ন। কিন্তু হুমায়ূনের দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে না নিয়ে বরং তার বাড়িতে উঠার খবর শুনে ওই ঘরের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে দেন বাবা দেলোয়ার হোসেন। মূলত এ নিয়ে ক্ষিপ্ত হয় হুমায়ূন। পরে ইতালিতে হুমায়ূনের বাড়ির নিচে নিহত নয়ন সাইকেলে বৈদ্যুতিক চার্জ দিতে আসলে সাইকলে বৈদ্যুতিক চার্জ দেওয়ার জন্য ফ্লাগ লাগানোর সময় পিছন দিক হতে পিঠে পরে মাথায় আঘাত করে ছোট ভাই নয়নকে হত্যা করে হুমায়ুন।

হুমায়ূনের প্রথম স্ত্রী আমেনা আফরিন জানান, হুমায়ূনের সঙ্গে ৩ বছর আগে টেলিফোনের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে দেড় বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পরে তিনি জানতে পারেন বাড়ির পাশে বিয়ানের সঙ্গে তার প্রেমের সর্ম্পক রয়েছে। হুমায়ূন আমাকে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিত না। দুই বছর আগে ছুটিতে এসে গোপনে সে তার বিয়াইনকে বিয়ে করে বিদেশে চলে যান। সে বিভিন্নভাবে আমাকে মানুষিক নির্যাতন করত আমাকে আমার বাবা বাড়ি চলে যাইতে বলত। সে কিছুদিন হতে আমাকে তালাক দিয়ে দিবে বলে আসছে। সে আমাকে হুমকি দিয়ে বলে কাবিনের ৫ লাখ টাকা নিয়ে চলে যেতে। ছেলের জন্য প্রতিমাসে ১০ হাজার করে টাকা দিব। তাতে আমি রাজি হই। ১৫ দিন পরে আমার চলে যাওয়ার কথা ছিল।

নিহত নয়নের মা বিউটি বেগম জানান, হুমায়ূন নয়নকে ইতালি নেওয়ার সময় টাকা দিয়েছিল। নয়ন তার চেয়ে বেশি টাকা হুমায়ূনকে পরিশোধ করেছে। এখন আমাদের খাওয়া দাওয়ার জন্য দেওয়া টাকার অর্ধেক ভাগ নয়নের কাছে চায় হুমায়ূন। নয়ন তাও দিতে রাজি হয়। কিন্তু হুমায়ূন আরেকটি বিয়ে করেছ এ জন্য ওর ঘরের কারেন্ট লাইন আমরা বন্ধ করে দেই। এ সমস্ত বিষয় নিয়ে ক্ষেপে গিয়ে হুমায়ূন নয়নকে ছুরি দিয়ে কোপাইয়া মেরে ফেলে। ভিডিও কলে আমাদের জানায়।

জানা গেছে, দুদিন আগে ইতালি হতে টঙ্গীবাড়ী থানা পুলিশকে ফোন দেয় প্রাবসী হুমায়ূন। এ সময় তিনি তার ছোট ভাই নয়নের কাছে ১৩ লাখ টাকা পায় বলে পুলিশকে জানায় এবং পুলশিকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। থানা পুলিশ হুমায়ূনকে জানায় লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। পরে হুমায়ূন তার প্রথম স্ত্রীকে দিয়ে তার মা, বাবাসহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করান।

এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই ইতালিতে খুন হয়েছে বলে আমি শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরর্দিশন করেছে।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট