
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, এখনো তা স্বাভাবিক হয়নি। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর সরকার সংকার গঠন করেছে বিএনপি।
নির্বাচন পরবর্তী বাস্তবতায় বাংলাদেশের নতুন সরকারের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যসভার সদস্য ও একসময় বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনারের দায়িত্ব পালন করা হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আনন্দবাজারে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এ পরামর্শ দেন।
নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের নতুন সরকার যদি ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলায় আন্তরিক হয়, তা হলে ভারতের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা ও সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেওয়া স্বাভাবিক হবে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল যে দিকে গিয়েছে, তাতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের সম্ভাব্য পুনর্গঠনের পথও খোলা সম্ভব। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং টালমাটাল অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায়ের পরে একটি নির্বাচিত সরকারের উত্থান সে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে পারে; আঞ্চলিক আস্থা পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনাও তৈরি করতে পারে। নির্বাচনের আগে বিএনপি নেতা তারেক রহমান ভারত সম্পর্কে তুলনামূলক ভাবে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন, এবং বাস্তবসম্মত সহযোগিতার উপরে জোর দিয়েছেন।’
অবশ্য বিএনপির বিগত সরকারের সময় ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকারণও ভুলে যাননি ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকায় ভারতীয় মিশনের নেতৃত্ব দেওয়া শ্রিংলা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের এই সাবেক হাই কমিশনার বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শাসনকালে বিএনপির ভারত সম্বন্ধে অবস্থানের স্মৃতি বর্তমানকে প্রভাবিত করবে না, তেমন নিশ্চয়তা দেওয়া মুশকিল। কিন্তু, এটাও মনে রাখতে হবে যে, পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তব পরিস্থিতি অনেক সময় ইতিহাসের বিপ্রতীপ পথ তৈরি করে দেয়। বর্তমান মুহূর্ত তেমনই একটি সুযোগের সন্ধিক্ষণ কি না, সে দিকে নজর রাখতে হবে।’
পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ