
চট্টগ্রামে ইনডোর মেলা আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন প্রায় তিনশ’ নারী উদ্যোক্তা। আট বছর ধরে নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এই মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনকালীন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার পরও নির্বাচন শেষে অনুমতি না দেওয়া এবং অন্য আয়োজকদের অনুমতি দেওয়ার খবর বৈষম্যে তৈরি করেছে।
আজ রোববার (১ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উদ্যোক্তা দিলরুবা বেগম।
চট্টগ্রামের একটি পাঁচতারকা হোটেলে ইনডোর মেলা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে অনুমতি না দেওয়ায় আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও তারা সাক্ষাতের সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, মেলা দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, যা সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও সামাজিক বন্ধনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎসব, পার্বণ ও বিশেষ দিবসকে কেন্দ্র করে নারী উদ্যোক্তারা নিয়মিত ইনডোর মেলার আয়োজন করে আসছেন। এ মেলায় দেশীয় ঐতিহ্য তুলে ধরে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কার্যকর বিপণন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।
এই উদ্যোক্তা আরও জানান, এই ইনডোর মেলার সঙ্গে সরাসরি ৩০০ থেকে ৪০০ নারী উদ্যোক্তা জড়িত। এ ছাড়া ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও জামালপুর সহ বিভিন্ন জেলার উদ্যোক্তারাও এতে অংশ নেন।
মেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেকে আগেভাগে স্টল ভাড়া নিয়েছেন, পণ্য প্রস্তুত করেছেন, পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় করেছেন, এমনকি ঋণ নিয়েও প্রস্তুতি নিয়েছেন। মেলা বাতিল হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাদের দাবি, এসব মেলা কেবল ব্যক্তিগত আয়ের উৎস নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতিকেও সক্রিয় করে, আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও উপকৃত হয়। তাদের উদ্দেশ্য কারও ব্যবসার ক্ষতি করা নয়; বরং নারী উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করা ও স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সামিয়া রহমান, অষ্মিতা রহমান, নাভিলা বিনতে নাসির, তানজিনা সুলতানা, জান্নাত ইসলাম, তানিয়া লোপা, উম্মে আতিয়া, মাহিয়া মাহি, ইঞ্জিয়ার সাহা সুমনা রেবা ও সাইয়েদা তামান্না প্রমুখ।
পূর্বকোণ/কায়ছার/পারভেজ