হুমায়ূন আহমেদ রচিত নব্বই দশকের সাড়া জাগানো নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’র অন্যতম চরিত্র সেই বাকের ভাই ফিরছে। আগামীকাল সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে মাসব্যাপী বিটিভির পুনঃপ্রচারের মাধ্যমে। প্রতিদিন রাত ৮টার বিটিভির সংবাদের পর ‘কোথাও কেউ নেই’ প্রচার শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিটিভি’র পরিচালক (অনুষ্ঠান ও পরিকল্পনা) জগদীশ চন্দ্র এষ।
করোনাভাইরাসের কবলে ‘গৃহবন্দি’ মানুষের একঘেঁয়েমি কাটাতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে টানা একমাস ধরে প্রতিদিন প্রচার করা হবে নন্দিত দুই ধারাবাহিক নাটক ‘কোথাও কেউ নেই’ ও ‘বহুব্রীহি’। ‘কোথাও কেউ নেই’ শেষ হওয়ার পরপরই ‘বহুব্রীহি’র প্রচার করা হবে পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ধারাবাহিকের একটি করে পর্ব প্রচার করা হবে বলেও জানান তিনি।
উপন্যাসিক হুমায়ূন আহমেদের রচনায় ১৯৯২-৯৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিকের নির্দেশনা দেন বরকত উল্লাহ; নাটকের ‘বাকের ভাই’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর। বাকের ভাইয়ের ফাঁসি আটকাতে সাধারণ মানুষ রাজপথে মিছিল করে প্রতিবাদ করে; সমসাময়িক পত্রপত্রিকায় এ খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারও করা হয়। ফাঁসির বিপক্ষে জনমত থাকা সত্ত্বেও চিত্রনাট্য অনুযায়ী বাকের ভাইয়ের ফাঁসিই দেওয়া হয়। এতে মুনা চরিত্রে সুবর্ণা মুস্তফা, বদি চরিত্রে আবদুল কাদের, মজনু চরিত্রে লুৎফর রহমান জর্জ, মতি চরিত্রে মাহফুজ আহমেদ, বকুল চরিত্রে আফসানা মিমি, উকিল চরিত্রে হুমায়ুন ফরিদীসহ আরো অনেকে অভিনয় করেন।
অপরদিকে, ১৯৮৮-৮৯ সালের দিকে বিটিভিতে প্রচারিত আরেক ধারাবাহিক ‘বহুব্রীহি’ও লিখেন হুমায়ূন আহমেদ; এটি প্রযোজনা করেন নওয়াজিশ আলী খান। একটি পরিবারকে ঘিরে আবর্তিত হওয়া এ নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, আসাদুজ্জামান নূর, আলী যাকের, আফজাল হোসেন, লুৎফরনাহার লতা, লাকী ইনাম, আবুল খায়ের, আফজাল শরীফসহ আরো অনেকে। সামরিক শাসনের সেই সময়ে এ ধারাবাহিকে পাখির মুখ দিয়ে বলানো ‘তুই রাজাকার’ সংলাপটি স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতি ঘৃণার প্রকাশভঙ্গি হিসেবে মুখে তুলে নেয় বাংলাদেশের মানুষ। যা পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন আন্দোলনে শ্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এ সংলাপ।
পূর্বকোণ-আরপি






















