করোনাভাইরাসের ছোবলে আক্রান্ত পুরো বিশ্ব। স্থবির হয়ে আছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি সব অফিস (জরুরি সেবা ছাড়া)। করোনার দুঃসময় শেষ হলে নতুন করে শুরু হবে বলে আটকে আছে সব কাজ। তবে কখন এ দুঃসময় কাটবে তা জানা নেই কারো। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ায় চট্টগ্রামসহ সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। প্রথম ধাপে এ বন্ধ ৩১ মার্চ পর্যন্ত রাখার কথা থাকলেও তৃতীয় ধাপে বন্ধ বৃদ্ধি করে তা ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। তবে ঈদ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এ লম্বা ছুটিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় যাতে কোন প্রভাব ফেলতে না পারে সেজন্য অনলাইনে শিক্ষার্র্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন কোন কোন শিক্ষক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্য্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরিয়া। গত ১ এপ্রিল থেকে অনলাইনে জুম অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে পাঠদান শুরু করেন তিনি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনলাইনে ক্লাস চলবে বলে জানান তিনি। নগরীর এমইএস কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর বাহার উদ্দীন মো. জোবায়ের। গত ১ এপ্রিল থেকে লেকচার ভিডিও করে ফেসবুক ও ইউটিউবে আপলোড দেন তিনি। প্রতিদিন একটি করে লেকচার আপলোড দিচ্ছেন তিনি। এ লেকচারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যাপাক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান এ শিক্ষক। এছাড়া, নগরীতে আরো কিছু শিক্ষক অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন বলে জানা যায়।
জানতে চাইলে প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়েছে অনেকদিন। এসময় শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য অনলাইনে ক্লাস নেয়ার পরিকল্পনা করি। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ভাবার পর চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে অনলাইনে ক্লাস শুরু করি। প্রথমে ফেসবুকে, স্কাইপি, ইমোসহ বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস নেয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিলে পরে জুম নামের একটি অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে ক্লাস কন্টিনিউ করছি।
তিনি আরো বলেন, সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে আমার অনলাইন ক্লাসের খবর ছড়িয়ে পড়লে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষকরা ফোন করে ভালো উদ্যোগ বলে জানাচ্ছেন। তারাও বলছেন এটা তথ্যপ্রযুক্তির একটা ভালো দিক। মাস্টার্সে যেহেতু শিক্ষার্থী কম এবং তাদের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর মেইল আইডিও আমার কাছে আছে। তাই তাদের নিয়ে ক্লাস অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছি। এছাড়া, আমার সাথে গবেষণায় কাজ করা মাস্টার্সের ১৬ জন এবং অনার্সের ৭-৮ শিক্ষার্র্থী অনলাইন ক্লাস করছেন।
জুম অ্যাপ্লিকেশনের সুবিধার কথা উল্লেখ করে ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে একসাথে ১০০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করতে পারবে। পাওয়ার পয়েন্ট ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের লেকচার দেওয়া হচ্ছে। এখানে একসাথে শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ কোন সমস্যা সৃষ্টি করলে তাকে মিউট করে দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া, কোন শিক্ষার্থী চাইলে প্রশ্নও করতে পারেন। আর পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে লেকচার দেওয়ায় শিক্ষার্থীরা স্ক্রিনশর্ট দিয়ে সংরক্ষণ করে পরে এটি নোট করতে পারে।
এমইএস কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর বাহার উদ্দীন মো. জোবায়ের জানান, এ বন্ধের সময়ে শিক্ষার্থীরা যাতে বাসায় অলস সময় পার না করে সেজন্য হিসাব বিজ্ঞানের চাপ্টার ভাগ করে আলাদা আলাদা করে ফেসবুক ও ইউটিউবে আপলোড করি। যাতে শিক্ষার্থীরা বাসায় বসেই পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারে। গত ১ এপ্রিল থেকে গতকাল বুধবার ৮ এপ্রিল পর্যন্ত আট পর্ব করে আপলোড করা হয়েছে। প্রতিদিনের পাঠে কী কী থাকছে তাও শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, আমার এ পাঠ থেকে তিনটি শ্রেণি অধ্যয়ন করতে পারবে। একাদশ শ্রেণি, ¯œাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ ও ¯œাতক (ডিগ্রি) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা আমার ক্লাসগুলো থেকে উপকৃত হবে বলে আশা করছি। যতদিন পর্যন্ত স্বাভাবিক না হচ্ছে ততদিন এ ক্লাস চালিয়ে যাওয়ার আশা করছি। শিক্ষার্থীরা ইধযধৎ তঁনধরৎ (বাহার জোবায়ের) ফেসবুক আইডিতে গিয়ে ক্লাসগুলো দেখতে পারবে।






















