চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

নতুন ৩ জাতের বাঁশ উদ্ভাবন

বিএফআরআই’র গবেষণার ফসল

ইফতেখারুল ইসলাম

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নতুন তিন জাতের বাঁশ উদ্ভাবন করলো বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) চট্টগ্রাম। দীর্ঘ দুই দশকের গবেষণার ফসল এই উদ্ভাবন। সম্প্রতি নতুন তিন জাতের বাঁশের নিবন্ধনও দিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বীজ বোর্ড। বাঁশের নতুন জাতসমূহ হল বিএফআরআই ব্যাম্বো বিবি১, বিএফআরআই ব্যাম্বো বিএন১ ও বিএফআরআই  ব্যাম্বো বিএস১।

বাঁশের জাতগুলো সফলভাবে বেড়ে ওঠার পর নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জাতগুলোর নাম দেওয়া হয়- বিবি১ (বরাক বাঁশ থেকে), বিএন১ (মাকলা বাঁশ থেকে) এবং বিএস১ (করজবা বাঁশ থেকে)।

ইনব্রিড ধরনের জাত হিসেবে সারাদেশে চাষের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে এগুলো। অন্য বাঁশের তুলনায় নতুন জাতের বাঁশের উৎপাদন হার ৫ থেকে ৬ গুণ বেশি। এই তিন জাতের বাঁশের চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএফআরআই এর ইতিহাসে বাঁশের নতুন জাত উদ্ভাবনের ঘটনা এটিই প্রথম। ফলে বর্তমানে দেশীয় বাঁশের প্রজাতির সংখ্যা দাঁড়ালো ৪০টি।

জাতীয় বীজ বোর্ডের সচিব ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. আবু জবাইর হোসেন বাবলু এবং প্রধান বীজতত্ত্ববিদ ড. মো. আকতার হোসেন খান স্বাক্ষরিত নিবন্ধনের প্রত্যয়নপত্রে নতুন প্রজাতির শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্যমতে, বাঁশের চারা তৈরি বা চাষ অনেক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কোনো কোনো প্রজাতির বাঁশের ফুল আসতে ২০ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। এজন্য বর্তমানে কঞ্চি কলম পদ্ধতিতে চারা তৈরি করা হয়।

বৃহৎ পরিসরে আধুনিক পদ্ধতিতে চারা তৈরির জন্য বিএফআরআই ১৯৯১ সাল থেকে টিস্যু কালচার ল্যাব চালু করে। আর এ আধুনিক পদ্ধতিতে বরাক, মাকলা ও করজবা বাঁশের চারা তৈরি করতে গিয়ে নতুন তিন প্রজাতির উদ্ভাবন করেন গবেষকরা।

বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিলভিকালচার-জেনেটিক্স বিভাগের ল্যাবের গবেষকরা ২০০২ সালে বরাক বাঁশের টিস্যু কালচার প্রটোকল সম্পন্ন করেন। পরে তারা ২০০৪ সালে মাকলা বাঁশ এবং ২০০৫ সালে করজবা বাঁশের টিস্যু কালচার প্রটোকল সম্পন্ন করেন।

গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, নতুন জাতের এই বাঁশের চারাগুলোর রূপগত (মরফোলজিক্যাল) বৈশিষ্ট্য মূল প্রজাতির থেকে আলাদা।

২০০৫ সালে গবেষকরা পাবনা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এবং বান্দরবানে মাঠ পর্যায়ে নতুন এই জাতগুলোর পরীক্ষামূলকভাবে রোপণ করেন।

গবেষণা দলের প্রধান বিএফআরআই সিলভিকালচার জেনেটিক্স বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পূর্বকোণকে জানান, ২০০৫ সাল থেকেই মাঠ পর্যায়ে গবেষণা শুরু করেন। টিস্যু কালচার এবং কঞ্চি কলমের মাধ্যমে এখন বেশি বেশি চারা তৈরি করে বাঁশের চাষ করা যাবে। অন্য সাধারণ বাঁশের চেয়ে ৫ থেকে ৬ গুন বেশি উৎপাদন হয়।

বিবি-১ এবং বিএস-১ জাতের বাঁশ ঘরের খুঁটি ও আসবাবপত্র তৈরি করা যাবে। এই দুই জাতের বাঁশ খুব শক্ত। বিএস-১ প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। বিএন-১ তার তুলনায় একটু কম লম্বা হয়। তবে এই বাঁশের বিশেষ বৈশিষ্ট হল দুইটি গিটের মাঝের অংশটি অনেক বেশি লম্বা। তাই এই জাতের বাঁশ দিয়ে খাঁচি, ডালা, কুলা চালুনি ইত্যাদি তৈরি করা যাবে। গিট যত কম থাকবে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ততবেশি বানানো যায়।

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট