চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

বানভাসি চট্টলার মুক্তি কবে?

ডা. মো. সাজেদুল হাসান

১২ আগস্ট, ২০২৩ | ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘ দেড় দশক অনুকূল পরিবেশ, রাজনৈতিক সমর্থন এবং প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ পাওয়ার পরও সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আর পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের নাগরিকদের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। এর কারণ বিশ্লেষণ চলছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও তাদের মত করে ব্যাখ্যা প্রদান করছেন। কিন্তু তাতে করে আশ্বাস ছাড়া জনগণের কোনো উপকার হল না। এতবছরেও জনগুরুত্ব সম্পন্ন এই সমস্যাটির সুরাহা হয়নি, বিষয়টি ভাবনার। পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী এখনও এক তৃতীয়াংশ কাজ বাকি আছে; তাহলে প্রকল্পের সুফল জনগণ ভোগ করবে কবে? অথচ এই চট্টগ্রামেই কর্ণফুলী টানেল, পোর্ট কানেকটিং বাইপাস, এক্সেস রোড, গভীর সমুদ্র বন্দর, সমুদ্র তলদেশ দিয়ে ১০০ কিলোমিটার এলএনজি পাইপ লাইন, কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন, একাধিক ফ্লাইওভারের মত বৃহৎ প্রজেক্ট ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে বা সমাপ্তির পর্যায়ে আছে। তাহলে সমস্যা কোথায়? নগরবাসী যেই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হতে পারতো বা তাদের দুর্ভোগ হ্রাস পেতো তা আমরা অবহেলা করলাম। পারস্পরিক দোষারোপ আর অন্তহীন অজুহাত এখন আমাদের নগরকর্তাদের সম্বল। আমরা কি আদৌ এখনও আমাদের জলাবদ্ধতার কারণসমূহ চিহ্নিত করতে পেরেছি? যদি এমন হয় প্রকল্প শেষ হলো কিন্তু সমস্যা রয়ে গেলো তখন?

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কারণ বহুমাত্রিক। একদিকে সাগরের জোয়ার-ভাটা অন্যদিকে প্রভাবশালীদের পাহাড় কর্তনজনিত ভূমিধস এবং খাল ভরাট। পরিবেশ অধিদপ্তরেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। পলিথিনে ঠাসা নালা নর্দমা খাল আর কত চাপ নিবে, জনসচেতনতাও প্রয়োজন। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনার। আমরা জানি, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে মূল্যায়ন একটি স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। যদি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কোনো কারণে মনে হয় পরিকল্পনায় ত্রুটি আছে তখন বিভিন্ন সিমুলেশন মডেল বিশ্লেষণ করে সেটি সংশোধন করা জরুরি। আমরা কি সেটি অনুসরণ করি? নাকি গড্ডালিকা প্রবাহের মত চলছি!

এ বছর চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে তার প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে! সরকারের জন্য ছিলো এটি একটি এসিড টেস্ট, নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ। এটি নির্বাচনী বছর, নজিরবিহীন বর্ষায় জলাবদ্ধতা যদি এত প্রকট না হতো মানুষ নিশ্চয় অনেক সন্তুষ্ট হতো, ভোটের রাজনীতেতেও এর ব্যাপক প্রভাব হয়তো দেখা যেত। কিন্তু তার বিপরীতে এখন ডেঙ্গুর প্রবল প্রতাপ, আল্লাহ না করুন সেই সাথে ওয়াসার সুয়ারেজ লাইন সয়লাব হলে শুরু হবে জন্ডিস, ডায়রিয়া, টাইফয়েড। এই দায় কাউকে তো নিতেই হবে। মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে যারা দায়িত্বপ্রাপ্ত তাঁরা যত দ্রুত বিষয়টি অনুধাবন করেন ততই মঙ্গল।

লেখক: বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট