চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে ছুরিকাঘাতে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হত্যার প্রতিবাদে লাশবাহী এম্বুলেন্স নিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শতশত স্থানীয় জনতা। সমাবেশে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রধান আসামি মো. রুবেল প্রকাশ হাট্টা রুবেলসহ সকল আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ বিক্ষোভরতদের শান্ত করে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিত নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গত ১০ ডিসেম্বর রাতে খোয়াজনগরস্থ হল-২১ কমিউনিটি সেন্টারে একটি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজি ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে ছেলের সামনে পরিবহন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার বিকালে মারা যান তিনি।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের সালেহ তালুকদার বাড়ির মৃত শরীফ আলীর ছেলে।
সরেজমিন দেখা যায়, রবিবার বিকেলে উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় শতশত লোকজন জড় হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। চমেক হাসপাতাল থেকে সাড়ে চারটার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত জাহাঙ্গীরের লাশবাহী এম্বুলেন্স মইজ্জারটেক এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয়রা এম্বুলেন্স থামিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এসময় তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান। তাদের বিক্ষোভের কারণে ওই সময় সড়কটিতে যান-চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পরে বিক্ষোভরতদের শান্ত করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। লাশ জাহাঙ্গীরের বাড়িতে আনা হলে স্বজনদের আহাজারীতে পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। মাগরিবের পর সৈন্নার গোষ্ঠী জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কর্ণফুলী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মিনি ট্রাক-পিকআপ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি ছাবের বাবুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ইসলাম আহমদ, এডভোকেট আনোয়ার হোসেন, সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম, কর্ণফুলী ট্রাক চালক সমিতির সভাপতি মো. ইসমাইল মোসলমান প্রমুখ।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ পূর্বকোণকে বলেন, জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হামলার ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় একটি মামলা হয়েছিল। আহত জাহাঙ্গীর আলম মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হবে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
পূর্বকোণ/নয়ন/মামুন/পারভেজ












