
চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি, স্বাক্ষর জাল এবং দ্বৈত চাকরির অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক সব দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড চট্টগ্রাম।
বোর্ডের তদন্তে তার বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির তথ্য উঠে আসার পর এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম প্রায় ৯ বছরের ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ ব্যবহার করে সরাসরি সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে উচ্চতর পদে আসীন হওয়ার জন্য তিনি এমএ (ইংরেজি) বিষয়ের একটি ভুয়া সনদ ব্যবহার করেন। শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে ওই সনদটি জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে।
তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, তিনি একই সময়ে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার পাশাপাশি কৌশলে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগেও জড়িত ছিলেন। এ বিষয়ে আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হলো- তিনি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (হিসাব ও নেজারত) মোহাম্মদ শাহজাহানের স্বাক্ষর জাল করে একটি ভুয়া দাপ্তরিক কার্যবিবরণী তৈরি করেন। বিষয়টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের তদন্তে ধরা পড়ে। পরে অভিযুক্ত শিক্ষক লিখিতভাবে এই জালিয়াতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. আবুল কাশেম স্বাক্ষরিত গত ১ মার্চ তারিখের (স্মারক নং–৩৭৫) এক চিঠিতে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে বোর্ডকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
এরপর গত ৯ মার্চ তারিখে (স্মারক নং–৪২৭) পাঠানো আরেকটি চিঠিতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে সব ধরনের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পূর্বকোণ/পিআর