চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সর্বশেষ:

ইপিএ স্বাক্ষর: জাপানে ৭৩৭৯ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ

ইপিএ স্বাক্ষর: জাপানে ৭৩৭৯ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি করল বাংলাদেশ।

 

দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও এটি। এর আওতায় তৈরি পোশাকসহ প্রায় সাত হাজার ৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে পর্যায়ক্রমে এক হাজার ৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে জাপান।

 

সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, শুক্রবার জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সই করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হোরি ইওয়াও। অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

এ চুক্তিকে দ্বিপক্ষীয় ‘দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন’ হিসেবে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, চুক্তিটি কেবল একটি বাণিজ্যিক দলিল নয়, এটি বাংলাদেশের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও দুই দেশের মধ্যে গভীর পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। এ চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন পারস্পরিক সমৃদ্ধির একটি নতুন অধ্যায় শুরু করবে।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, পোশাক খাতে ‘সিঙ্গেল স্টেজ ট্রান্সফরমেশন’ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এখন থেকে কাঁচামাল নিয়ে কোনো জটিলতা ছাড়াই বাংলাদেশি পোশাক খুব সহজে জাপানে রপ্তানি করা যাবে। এর পাশাপাশি জাপানের তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিক্ষা, কেয়ারগিভিং ও নার্সিংয়ের মতো প্রায় ১৬টি বিভাগের ১২০টি সেবা খাতে বাংলাদেশি দক্ষ পেশাজীবীদের কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

 

অন্যদিকে বাংলাদেশ জাপানের জন্য ১২টি বিভাগের আওতায় ৯৮টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। তবে উপখাতগুলোর নাম বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। এতে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ার পাশাপাশি এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদন, অবকাঠামো, জ্বালানি ও লজিস্টিকস ইত্যাদি খাতে জাপানের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ইপিএ কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের সাত হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে শুরুতে পর্যায়ক্রমে এক হাজার ৩৯টি জাপানি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। পরে ছয় থেকে আট বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে আরও দুই হাজার ৭০২টি জাপানি পণ্য শুল্ক ছাড়ের আওতায় আসবে। 

 

এক পর্যায়ে উভয় দেশে মোট ৯ হাজার ৩৫৪টি পণ্যে কোনো শুল্ক থাকবে না। এর মধ্যে বাংলাদেশি পণ্যের সংখ্যা সাত হাজার ৪৩৬টি। তবে জাপানের গাড়ি এই চুক্তির আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না। স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদনে জাপানি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

এ সম্পর্কিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইপিএর আওতায় কয়েক ধাপে শুল্ক ছাড় দেবে বাংলাদেশ। সর্বশেষ পর্যায়ে সব পণ্যে শুল্ক ছাড় কার্যকর হলে বছরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এই চুক্তি না হলে এলডিসি উত্তরণের পর জাপানের বাজারে শুল্ক সুবিধা হারিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি তিন হাজার কোটি টাকা থেকে তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা পর্যন্ত কমে যেতে পারে। তাই সার্বিক লাভক্ষতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে শুল্ক ছাড় দিতে রাজি হয়েছে বাংলাদেশ।

 

বর্তমানে এশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য জাপান। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ বছরে প্রায় ২০০ কোটি ডলার, যার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক। অন্যদিকে গত কয়েক বছর ধরে জাপান থেকে আমদানি বছরে ১৮০ কোটি থেকে ২৭০ কোটি ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে।

 

পূর্বকোণ/আরআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট