সীতাকুন্ডে মহাসড়কের সরকারি-বেসরকারি যানবাহন থেকে চালক- হেল্পারের যোগসাজশে অল্প দামে কিনে বেশি দামে বিক্রির লক্ষ্যে একের পর এক চোরাই তেলের দোকান গড়ে উঠেছে। এতে লোকাসানের শিকার হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা মালিকরা আর তাতে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে চোরাই তেল দোকানি এবং কতিপয় চালক-হেল্পার। একেবারে প্রকাশ্যে বছরের পর বছর এসব তেল বেচাকেনা চললেও এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই কারো। সম্প্রতি এরকম একটি দোকানে তেল কেনার সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৩ কোটি টাকার সম্পদহানি হবার পর চোরাই তেল ব্যবসায়ী শাকিল পালিয়ে গেলে অনুসন্ধানে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ অংশে মহাসড়কের পরিবহন থেকে চোরাই তেল ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে ব্যবসা জমাজট হয়ে উঠেছে। অল্প দামে পরিবহন থেকে তেল কিনে তা বাজারে উচ্চ মূল্যে বিক্রির লোভে অনেকেই এসব ব্যবসা গড়ে তুলছেন বলে অভিযোগ। শুধু উপজেলার কুমিরা থেকে ফৌজদারহাট-বন্দর সংযোগ সড়কের ২৫ কিলোমিটারেই রয়েছে এরকম ৪০টি চোরাই তেলের দোকান। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাতে এসব দোকানের সামনে একের পর এক যানবাহন দাঁড়িয়ে তেল বিক্রি করে। আর তাদের কাছ থেকে তেল কিনে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে মহাসড়কের পাশে ঘুরে দেখা যায়, কুমিরা থেকে ফৌজদারহাট-বন্দর সংযোগ সড়কের দুই পাশেই কিছুদূর পরপর এ ধরনের চোরাই তেলের দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকানের পক্ষে ১-২ জন করে লোক বসা থাকে। বন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী গাড়ির চালক-হেল্পার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের গাড়ির চালক-হেল্পারদের সাথে গোপন আঁতাত করে তারা ১০-২০ লিটার বা যতটুকু সম্ভব তা গাড়ি থেকে নিয়ে পুনরায় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করেন।
এ ব্যবসা করতে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কিছু দালাল তাদের কাছ থেকে মাসোহারা নিয়ে যায় বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চোরাই তেল ব্যবসায়ী। তিনি প্রতিবেদককে বলেন, আমরা বাজার মূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে জ্বালানি তেল কিনে নিয়ে বিক্রি করি। এতে আমাদের লাভ থাকে। মাঝে মাঝে পুলিশের সোর্স আসে। মাসে মাসে তারা দোকান অনুসারে ৩ হাজার, ৫ হাজার কিংবা ১০ হাজার টাকা করে নিয়ে যায়। তাই ঝামেলা হয় না।
ফৌজদারহাটে অবস্থিত মা ফাতেমা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. রুবেল বলেন, যে সকল ফিলিং স্টেশন ভাড়ায় চালিত ভাউচার দিয়ে তেলের ডিলার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে তেল কিনে আনেন তাদের গাড়ি চালক বা হেল্পাররা পথিমধ্যে এসব দোকানে তেল বিক্রি করে দেয় বলে শুনেছি। এগুলো বন্ধ করা উচিত।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অন্তত ২০-২৫ টি অবৈধ তেলের দোকান থাকতে পারে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান বলেন, মহাসড়কের পাশে ঠিক কতটি চোরাই তেলের দোকান রয়েছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য তার কাছে নেই। এসব দোকানের তালিকা করে অভিযান চালাবেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়ক-মহাসড়কের পাশের জমি সওজের। তারাই কেবল জানে এ ধরনের কতটি অবৈধ তেলের দোকান রয়েছে। দোকানগুলো অবৈধ হলে সওজ উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা সওজকে সহযোগিতা করবেন বলে জানান।
সওজ এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিন বলেন, অবৈধ স্থাপনার তালিকা থাকলেও এরমধ্যে কোনগুলো চোরাই তেলের দোকান তা তারা জানেন না। খোঁজ নিয়ে এ ধরনের তালিকা তৈরি করে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করবেন তিনি।
পূর্বকোণ/ইব