চট্টগ্রাম বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন, মূল পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

কক্সবাজার সংবাদদাতা

১০ জুলাই, ২০২৪ | ৭:১৬ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের রামু থানাধীন রশিদ নগর ইউনিয়নের খাদেমের পাড়া রেললাইনের পাশে পড়ে থাকা আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী তার বন্ধু মো. শাহেদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১৫।

 

জানা যায়, মোবাইলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ডিলিট না করায় বন্ধু মামুনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এক লাখ টাকার বিনিময়ে সন্ত্রাসী ভাড়া করে হত্যার এই মিশন বাস্তবায়ন করা হয়। হত্যার পর রেল লাইনের পাশে ফেলে রাখা হয় নিহত মামুনের মরদেহ।

 

বুধবার (১০ জুলাই) সকালে র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।

 

গ্রেপ্তার মো. শাহেদ হোসেন ঈদগাঁও মাছুয়াখালী সিকদার পাড়ার মো. মতিউর রহমানের ছেলে। সে শহরের ঝাউতলা গাড়ির মাঠ এলাকায় থাকতো।

 

র‌্যাব জানায়, সদরের খরুলিয়ার মৃত নবী হোসেনের ছেলে নিহত আব্দুল্লাহ আল-মামুন (৩০) একজন ইলেক্ট্রনিক্স ব্যবসায়ী। লিংক রোড বাজারে তার যৌথভাবে ভিশন ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রয়ের একটি শো-রুম রয়েছে। ওই শো-রুমে মামুন তার বন্ধু মো. শাহেদ হোসেন ও শাহেদ হোসেনের ভগ্নিপতি জসিম উদ্দিনের শেয়ারের ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

 

মামুনকে হত্যার পিছনে তদন্তে উঠে আসা তথ্য:

 

কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানা এলাকার এক মেয়ের সাথে মো. শাহেদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের সময় তাদের দুজনের কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছিল। সম্পর্কের অবনতি হলে মেয়েটি মো. শাহেদকে ওই ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। মো. শাহেদ সেই ছবি ও ভিডিওগুলো আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের মোবাইলে পাঠিয়ে দেয় এবং পরে মেয়েটির সামনে নিজের মোবাইল থেকে ছবি ও ভিডিওগুলো ডিলিট করে দেয়। মো. শাহেদ যখন আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের কাছ থেকে ছবি ও ভিডিও ফেরত চায়, তখন মামুন তা দিতে নারাজ। পরে মো. শাহেদ ক্ষোভে আগ্নেয়াস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সাথে যোগাযোগ করে মাত্র ১ লাখ টাকার বিনিময়ে আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে।

 

র‍্যাবের তদন্তে উঠে আসা হত্যা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা যায়, গত ৬ জুলাই রাত ৮ টার দিকে আব্দুল্লাহ-আল-মামুনকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে শাহেদ। এ সময় মামুনকে বলা হয় এক জায়গায় যাওয়ার জন্য শহরের ভিশন শো-রুম থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাহারছড়া বাজারে আসার জন্য। মামুন বাহারছড়া বাজারে পৌঁছালে শাহেদ বন্ধু মামুনকে মোটরসাইকেল থামাতে বলে।

 

মোটরসাইকেল থামানোর পরপরই ঈদগাঁওর শীর্ষ ডাকাত মাছুয়াখালীর আলী আহদ প্রকাশ চুনতি মৌলভীর ছেলে শাহীন প্রকাশ লালুর নেতৃত্বে কয়েকজন সন্ত্রাসী মামুনের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। মামুনের মোবাইলটি শাহেদকে বুঝিয়ে দিলে এসময় তাদের এক লাখ টাকা প্রদান করে শাহেদ। পরে মামুনের মোবাইলটি শাহেদ ভেঙে চুরমার করে পানির ডুবায় ফেলে দিয়ে চলে যায়। অপরদিকে শাহেদের নির্দেশে ডাকাত শাহীনের নেতৃত্বে মামুনকে হত্যা করে হাত-পা বেঁধে রেললাইনের পার্শ্বে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। গত ৭ জুলাই সকাল ১০টার দিকে রামু রশিদ নগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খাদেমের পাড়া এলাকার রেললাইনের পূর্বপার্শ্বে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মামুনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

 

র‍্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক আবু সালাম চৌধুরী জানান, ঘটনার পর র‌্যাব দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং মো. শাহেদকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার শাহেদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

 

পূর্বকোণ/এরফান/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট