চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪

কালুরঘাট ফেরিতে জনপ্রতি টোল আদায় প্রতিবাদের মুখে বন্ধ

বোয়ালখালী সংবাদদাতা

২৯ জুন, ২০২৪ | ৮:০১ অপরাহ্ণ

কর্ণফুলী নদী পারাপারে কালুরঘাট ফেরিতে জনপ্রতি পাঁচ টাকা হারে টোল আদায় প্রতিবাদের মুখে বন্ধ করেছেন কর্তৃপক্ষ।

 

শুক্রবার (২৮ জুন) দিবাগত রাত ১২টা থেকে এ টোল আদায় শুরু করে ফেরিঘাট ইজারাদার কর্তৃপক্ষের লোকজন। এ নিয়ে শনিবার (২৯ জুন) জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হলে দুপুর ২টার পর টোল আদায় বন্ধ করা হয়।

 

এ সময় টোল আদায়ের জন্য ফেরির যাত্রী সাধারণের সাথে বাগবিতণ্ডায় জড়ান টোল কর্মচারীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে টোল আদায়কারী দুই কর্মচারী বলেন, আমরা বেতনভুক কর্মচারী। আমাদের জনপ্রতি টোল আদায়ের নির্দেশনা দেওয়ায় পাঁচ টাকা হারে নিচ্ছিলাম। অনেকে টাকা দেননি।

 

ফেরির যাত্রী মো. সোলাইমান বলেন, বলা নেই-কথা নেই, হঠাৎ করে বলছে পাঁচ টাকা করে দেন। এ কি রকম কথা। এমনিতে কষ্টের শেষ নেই এ ফেরিতে।

 

কলেজ শিক্ষার্থী মো. আবরার বলেন, ঘর থেকে ৫০ টাকা গাড়ি ভাড়া নিয়ে বের হয়েছি। এর মধ্যে ফেরিতে যদি ১০ টাকা দিয়ে ফেলি বাকি পথ আসা যাওয়া করা যাবে না। এই ফেরি চালুর পর থেকে দুই পাড়ের আসা যাওয়ায় গাড়ি ভাড়া দ্বিগুণ গুনতে হচ্ছে।

 

স্থানীয়রা জানান, সংস্কারাধীন কালুরঘাট সেতুর নবনির্মিত ওয়াকওয়ে খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে সবাই হেঁটে সেতু পারাপার করতে পারছেন না। বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ মানুষ জন ফেরিতে উঠছেন। অনেকে সময়ের কারণে কাজের তাগিদে ফেরিতে উঠেন।

 

চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোসলেহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জনপ্রতি টোল আদায়ের অভিযোগ পেয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফেরি পারাপারে শুধু মাত্র যানবাহন থেকে টোল আদায়ের নির্দেশনা রয়েছে। এর বাইরে টোল আদায়ের সুযোগ নেই।

 

গত বছরের ১ আগস্ট সংস্কার কাজের জন্য কালুরঘাট সেতু বন্ধ ঘোষণা করলে যানবাহন পারাপারের জন্য কালুরঘাটে ফেরি চালু করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। ফেরি চালুর পর টোল নির্ধারণ করে ফেরিঘাট ইজারা দেয় সওজ। ইজারা পায় আমরিন এণ্ড ব্রাদার্স।

 

 

এতদিন যানবাহন পারাপারে টোল আদায় করা হলেও জনপ্রতি টাকা নেওয়া হতো না। জনপ্রতি টোল আদায়ের খবরে উষ্মা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝাড়েন বোয়ালখালীবাসী। তবে জনপ্রতি টোল আদায়ের বিষয়ে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের টোল ও এক্সেল শাখার উপসচিব ফাহমিদা হক খান বলেন, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানা যায়, চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগাধীন কালুরঘাট ব্রিজের নদীর পশ্চিম প্রান্ত (মোহরা অংশ) হতে পূর্ব প্রান্ত (বোয়ালখালী অংশ) পর্যন্ত ফেরিঘাট পারাপারে যানবাহন হতে টোল আদায়ের নিমিত্তে টোল নীতিমালা, ২০১৪ অনুযায়ী বিভিন্ন শ্রেণির যানবাহন চলাচলের জন্য টোল নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এতে যানবাহনের শ্রেণিভেদে ৫ টাকা থেকে ৫৬৫ টাকা আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়। জনপ্রতি টোল আদায়ের বিষয়ে বলা হয়নি।

 

জানা গেছে, ফেরি সার্ভিস চালুর প্রথম দিন থেকেই নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পারাপারের যানবাহন চালক, শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষকে। প্রায়শ ঘটে দুর্ঘটনা। কালুরঘাট ফেরিঘাটের বেইলি ব্রিজে টেম্পুর ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছে কলেজ শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জোহরা। অনেকে আহত হয়েছেন ফেরিতে নদী পার হতে গিয়ে।

 

অভিযোগ রয়েছে, নানা অজুহাতে ফেরি যাত্রীদের নৌকায় যেতে বাধ্য করা হতো। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই এসব নৌকা চলাচল করছিল। নৌকার প্রতি ট্রিপে জনপ্রতি নেওয়া হয় ১০টাকা। এর একটি অংশ ফেরি কর্তৃপক্ষের পকেটে ঢুকতো। ফলে দেরিতে ও প্রায় সময় নানা অজুহাতে একটি ফেরি চালু রাখতো।

 

গত ২২ জুন নৌ দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি -১ এর পরিচালক আশরাফ উদ্দিন কাজল নিখোঁজ হন। এ ঘটনার পরপরই উধাও হয়ে যায় ফেরিঘাটের নৌকা। একদিন পর নদীতে মিলে কাজলের লাশ। ফলে এ উৎসের টাকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ফেরি পারাপারে জনপ্রতি পাঁচ টাকা করে আদায় শুরু করেছিল ফেরি কর্তৃপক্ষ। প্রতিবাদের মুখে তা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

 

 

পূর্বকোণ/পূজন/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট