চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

পটিয়ার রাজনীতি

আ. লীগে ঘরের শত্রু বিভীষণ

রবিউল আলম ছোটন, পটিয়া

১৩ জুন, ২০২৪ | ১১:০০ পূর্বাহ্ণ

সদ্য সমাপ্ত পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নিজেরাই নিজেদের প্রতিপক্ষ বানিয়েছে, জড়িয়েছেন মামলায়ও। ফলে উপজেলা জুড়ে দলের বিভেদ আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। যা আওয়ামী লীগের জন্য অশুভকর বলে ধারণা করছেন দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে অনুষ্ঠিত হওয়া পটিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকায় দলের একাধিক নেতা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হন। সর্বশেষ প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ ও নগর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. দিদারুল আলম দিদার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ-যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দুই প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ করেছেন। নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় তেমন কোন সংঘাত-সংঘর্ষ না হলেও নির্বাচনের আগের দিন রাতে কোলাগাঁও ইউনিয়নের সাততেতৈয়া গ্রামে মো. দিদারুল আলম দিদারের নির্বাচনী কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলায় অধ্যাপক হারুনুর রশিদের ৩৯ জন কর্মী সমর্থককে আসামি করা হয়। তারা সবাই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সাবেক চেয়ারম্যানসহ যুবলীগ ছাত্রলীগের নেতা। এ নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভেদ দেখা দেয়। মামলার আসামিদের দাবি, নির্বাচনে ঘায়েল করতে এটি একটি ‘গায়েবি’ মামলা করা হয়েছে। গত ৯, ১১ ও ১২ জুন এ মামলায় ৩৯ জন আসামির মধ্যে প্রায় ৩৭ জন আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন বলে জানান মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শোভনদন্ডী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফরিদুল আলম টুটুল বলেন, কোলাগাঁও ইউনিয়নে যে মামলায় আমাকে আসামি করা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে আমি এ ঘটনা সম্পর্কেও কিছু জানি না। মামলায় ২৭ মে রাত সাড়ে দশটার দিকে ঘটনার সময় উল্লেখ করা হলেও সে সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি।

 

জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশিদ বলেন, দল প্রার্থিতা উন্মুক্ত রেখেছে বলে নির্বাচন করেছি। নির্বাচন ঘিরে যে মামলা হয়েছে এতে ৩৯ জনের মধ্যে ৩৭ জনের জামিন মঞ্জুর হয়েছে। সবাই দলের লোক, সকলকেই রাজনীতি করতে হবে। মামলার কারণে নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্দ হয়েছে। তবে এ নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে না বলে আমি মনে করি।

 

পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.ক.ম সামশুজ্জামান বলেন, নির্বাচন শেষ, দলের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এখন সবাইকে মিলেমিশে রাজনীতি করতে হবে। দলের ঐক্য ধরে রাখতে নির্বাচন কেন্দ্রিক যে দ্বৈরথের সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ইতিমধ্যে দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে আলোচনা হয়েছে।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট