চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

বোয়ালখালীতে বালু ব্যবসায় কৃষিজমি ভাড়া

পূজন সেন, বোয়ালখালী

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১০:০৬ অপরাহ্ণ

বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের রেনু ঘোষ বাড়িতে এক ব্যক্তি বালি ব্যবসার জন্য ভাড়ায় লাগিয়ত করেছেন ফসলি জমি।

এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই গ্রামের শতাধিক মানুষ। তাদের অভিযোগ, গ্রামের দয়াল ঘোষ তার জমি বালির ব্যবসার জন্য লাগিয়ত করেছেন। এতে করে ওই জমিতে ড্রেজার দিয়ে বালি তোলার কারণে আশপাশের সমস্ত জমি অনাবাদি হয়ে যাবে। গ্রামের বাসিন্দা নির্জ্বল ঘোষ ও তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের গ্রামের ২২টি পরিবার কৃষিজমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। গ্রামের দয়াল ঘোষ তার জমি বালি ব্যবসার জন্য লাগিয়ত করেছেন। তার এই জমিতে ড্রেজার থেকে পাইপ দিয়ে বালি ফেলা হলে পার্শ্ববর্তী জমিগুলো আর চাষযোগ্য থাকবে না। এছাড়া ওই ২২ পরিবারের ব্যবহারের কোনো পুকুর নেই। যা-ও আছে, তা হলো একটি চৌবাচ্চা। বালি ফেললে তা-ও ভরাট হয়ে যাবে।’

দয়াল ঘোষ বলেন, ‘আমার জমিতে বর্ষা মৌসুমে চাষ হয় না। একগলা পানিতে ডুবে থাকে। তা ভরাট করার উদ্দেশ্যে বালি ব্যবসায়ীদের নিকট নির্ধারিত সময়ের জন্য লাগিয়ত করছি। চুক্তি অনুযায়ী তারা জমিটি ভরাট করে দেবেন। এজন্য কোনো প্রকার টাকা দাবি করবে না।’ জানা গেছে, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে শীতকালীন শাক-সবজি, ডাল জাতীয় ফসল ও আমন ধানের চাষ হয়ে থাকে। চাষাবাদ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত আগস্ট মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন গ্রামবাসী।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ফসলি জমিতে বালু ব্যবসায়ীরা ২৪টির বেশি বালুর অবৈধ মহাল গড়ে তুলেছেন। কর্ণফুলী নদী থেকে বালু উত্তোলন করে ফসলি জমিতে পাইপ দিয়ে রাখা হয়। এরপর তা ট্রাকে করে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। এতে নদীর তীরে ভাঙন বাড়ার পাশাপাশি ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আগামী সোমবার উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট