চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

আফিম পাচারেরও প্রধান রুট ‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল’

নাজিম মুহাম্মদ 

২৫ আগস্ট, ২০২৩ | ১:২৪ অপরাহ্ণ

ইয়াবা ও ক্রিস্টাল মেথের পর আফিম উৎপাদন এবং পাচারের প্রধান উৎস হচ্ছে ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল। আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্র ও পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলো এই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণ করে। এ বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপগুলো বাংলাদেশের বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার পাহাড়ি দুর্গম সীমান্তে বসবাসকারীদের পপি চাষে উদ্ধুদ্ধ করছে। ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নাগালের বাইরে থাকায় আফিম উৎপাদন-বেচাকেনা ও পাচার বহুগুণ বেড়েছে।

গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল থেকে বাংলাদেশ : বাংলাদেশের মেথামফিটামিন মাদকের উৎস-প্রকৃতি ও পাচার রুট শীর্ষক এক গবেষণায় আফিম পাচারের রুটের তথ্য উঠে এসেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড্রাগ এনালিস্ট হুমায়ুন কবির খোন্দকার এ গবেষণা পরিচালনা করেন।

ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল হচ্ছে মিয়ানমারের রাখাইন ও চিন স্টেটের অধিকাংশ অঞ্চল, ভারতের মিজোরামের দক্ষিণাংশ এবং বাংলাদেশের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল। এই ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী অপরাধীদের নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি।

গবেষণায় বলা হয়, ব্ল্যাক টায়াঙ্গেলের মিয়ানমারের চিন স্টেট ও রাখাইন রাজ্য হয়ে বাংলাদেশে মেথাফিটামিন (ইয়াবা/ক্রিস্টাল মেথ) ও অস্ত্রসহ নিষিদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ ও আফিম পাচার এ অঞ্চল থেকে নিয়ন্ত্রণ হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকায় পপি চাষ ধ্বংস ও পপি উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়। কিন্তু ব্ল্যাক টায়াঙ্গেল অঞ্চলের মিয়ানমার অংশে বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সেখানে পপি চাষ ধ্বংস কিংবা উদ্ধার অভিযানে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এতে এ অঞ্চলে পপি চাষ বেড়েই চলেছে।

গবেষণায় গত দুই দশকে উদ্ধার হওয়া আফিম ও ধ্বংস করা পপি ক্ষেতের ৪৭টি ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়। তাতে উঠে এসেছে, দুই-একটি ছাড়া সবকটি ঘটনা চট্টগ্রাম ও বান্দরবান এলাকাতেই পরিচালনা করা হয়েছে। যেমন- ২০০৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শতাধিক পপি ক্ষেত ধ্বংস করা হয় বান্দরবান-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায়। পরবর্তীতেও যেসব পপি ক্ষেত ধ্বংস করা হয়েছে তার সবকটির অবস্থান বান্দরবানের সাঙ্গু রিজার্ভ, আলীকদম, থানচির রেমাক্রি ইউনিয়নের করাইখাসানব, ইবানমান ঝিরি, আলীকদমের পানঝিরি, লেইক্রিঝিরি, রুমার কেওক্রাডাং, আলীকদমের কুরুকপাতা, লারনিং ঝিরি, রুমার ক্যাতেই খুমি পাড়া, তংগ্রী পাড়া, শৈরাংতাং পাড়া, খুলিয়ান কুমি পাড়া, থানচির তিন্দু ইউনিয়নের কাইচা খুচি পাড়া, পাইরিং ¤্রাে পাড়া, তিন্দুমুখ, থানচির বলিবাজার কোআং পাড়া, রুমার তুইক্কাঝিরি এবং তিন্দুর কাইয়্যাটাক পাড়া। গবেষণায় বলা হয়, বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গত দুই দশক ধরে প্রায় শতাধিক একর পপি ক্ষেত ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংস করা সবকটি পপি ক্ষেত মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায়।

সংগ্রহ প্রক্রিয়া : গবেষণায় বলা হয়, সব পপি ফুল থেকে মাদকদ্রব্য তৈরি হয় না। পপি ফুলের আবার অনেক নিরীহ প্রজাতি রয়েছে, যা বাগানে শোভা পায়, ফল দেয় না। পপি ফল যখন পরিপক্ক হয় তখন ব্লেড দিয়ে ফলের গায়ে গভীর করে আঁচড় কাটা হয়। পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর ফল থেকে কষ বের হয়। সেই কষ সংগ্রহ করে চাষিরা। তাই হলো আফিমের কাঁচামাল। পরে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আফিমে পরিণত করা হয়

বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম : গবেষণায় বলা হয়েছে, গত দুই দশকে উদ্ধার করা আফিমের অধিকাংশই পাচার হয় বান্দরবান-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক পথে। চট্টগ্রাম মহানগরীতেও আফিম উদ্ধারের একাধিক ঘটনা রয়েছে। এসব অফিমও বান্দরবান থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ক হয়ে নগরীতে পাচার করে পাচারকারী চক্র। যেমন-২০১৬ সালের ৩ আগস্ট নগরীর চকবাজার এলাকা থেকে এক কেজি আফিম উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের ১ আগস্ট চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকেও এক কেজি আফিম উদ্ধার করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আফিম উদ্ধারের ২১ টি ঘটনা ঘটেছে। যার সবগুলো বান্দরবান-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সড়ক পথে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রবেশ করেছে।

 

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট