চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

সংস্কার কাজ শেষ আজ ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের

বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাতকানিয়ার তেমুহনি এলাকায় কয়েকশ’ মিটার রেললাইন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪ আগস্ট, ২০২৩ | ১২:২৮ অপরাহ্ণ

দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের সাতকানিয়া অংশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকশ মিটার রেললাইনের সংস্কার কাজ শেষ হচ্ছে আজ। প্রায় ২০০ শ্রমিক দিয়ে গত রবিবার থেকে সাতকানিয়ার তেমুহনি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন সংস্কারের কাজ শুরু হয়। পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পানিতে মাটি-পাথর সরে গিয়ে দেবে যাওয়া রেললাইনের নিচে ফের পাথর বসিয়ে রেললাইন ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তুলছেন শ্রমিকরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভয়াবহ বন্যা আর পাহাড়ি ঢলের স্রোতেই মূলত রেললাইনের নিচ থেকে মাটি-পাথর সরে যায়। এখন ফের রেললাইনের নিচে পাথর বসিয়ে সেটি ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে। গতকাল ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের নিচে পাথর বসানোর শেষ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হবে। বিলের পানি শুকিয়ে গেলে এই এলাকায় তিনটি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

 

দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মফিজুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, বন্যার পানিতে রেললাইনের যে ক্ষতি হয়েছে তা খুবই সামান্য। মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইনের সংস্কার কাজ শেষ করতে যাচ্ছি আমরা। বৃহস্পতিবার সংস্কার কাজ শেষ হলে রেললাইনের সাতকানিয়া অংশে ট্রেন চলাচলে আর কোনো সমস্যা হবে না।নতুন ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে এই এলাকায় নতুন তিনটি কালভার্ট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। রেললাইনের দুই পাশের বিলে পানি থাকায় এখনই কালভার্ট নির্মাণ শুরু করা যাচ্ছে না। পানি শুকিয়ে গেলে দ্রুতই আমরা কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু করবো। তবে এতে রেললাইনের উপর ট্রেন চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না।

 

২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তবে অর্থ সংস্থান না হওয়ায় কাজ আটকে যায়। পরে এডিবির সঙ্গে চুক্তির পর সরকার ও এডিবি মিলে এই প্রকল্পে জন্য ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থের জোগান দেয়। ২০১৮ সালে ডুয়েলগেজ সিঙ্গেল ট্র্যাকের এই রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু হয়।  

 

চলতি বছরের আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নির্মাণাধীন দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের কয়েকশ মিটারের বেশি রেললাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অংশের বিভিন্ন স্থান থেকে সরে যায় রেললাইনের মাটি ও পাথর। ক্ষতি হয় এমব্যাংকমেন্টেরও। এতে স্থানে স্থানে দেবে যায় রেললাইন। এখন ফের সেটি ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হচ্ছে।

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট