চট্টগ্রাম বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

পাউবোর স্লুইচ গেইটে পানি আটকিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

পেকুয়ায় চেয়ারম্যানকে হেনস্তা, আহত ৬

চকরিয়া-পেকুয়া সংবাদদাতা

১৯ আগস্ট, ২০২৩ | ৮:৪১ অপরাহ্ণ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) স্লুইচ গেইটে দরজা ফেলে পানি আটকিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেছে ফোরকান ও শাহদাত হোসেন নামের স্থানীয় দুই যুবকের বিরুদ্ধে। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার রাজাখালী ইউপির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে গেলে চেয়ারম্যানের সাথে তর্কে জড়ান ফোরকান।

 

এ সময় ফোরকান ও শাহদাতের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের উচ্ছৃঙ্খল যুবক চেয়ারম্যানকে শারীরিক হেনস্তা করে। চেয়ারম্যানকে বাঁচাতে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তাদের হামলায় ছয়জন আহত হয়।

 

শনিবার ( ১৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে রাজাখালী ইউনিয়নের টেকঘোনা পাড়ার মফিজ উল্লাহর নাশি নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দু’দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

 

আহতরা হলেন- পারভেজ (৩৫), গিয়াস উদ্দিন (৩৭), নেজাম উদ্দিন (৩৮), আলী মোর্শেদ টিপু (২৪), ছাত্রলীগ নেতা মো. ফারুক (২৪) ও ইসমাঈল জিহাদী (২৫)। আহতদের পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সিকদার বাবুল বলেন, মফিজ উল্লাহর নাশি নামে পরিচিত পাউবোর স্লুইচ গেটে দরজা ফেলে পানি আটকিয়ে স্থানীয় লবণচাষী, চিংড়িঘেরের মালিক ও কৃষকের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছে টেকঘোনা পাড়ার আবুল হোসেনের ছেলে ফোরকান। পানি আটকানোর কারণে মারাত্বক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কৃষকরা।

 

তিনি বলেন, সকাল থেকে রাজাখালীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের কাজের পরিদর্শনে যাই। পরে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে দুপুরের দিকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে সেখানে যাই। এ সময় নাশির স্টেশনে আগে থেকে অবস্থান করা ফোরকানকে নাশির দরজা খুলে দিতে বললে সে ক্ষেপে যায়। একপর্যায়ে সে আমাকে হেনস্তা করে।

 

তিনি আরও বলেন, ফোরকানের নেতৃত্বে তার ভাই সিকদার, চাচাতো ভাই পারভেজ, মিজান, কবির হোসেন, মৃত নাছির উদ্দিনের ছেলে শাহদাত হোসেনসহ ১০-১২ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে তাদের হামলায় ছাত্রলীগ নেতাসহ কয়েকজন আহত হন।

 

এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ফোরকানের মুঠোফোনে কল করা হয়। সংযোগ বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি। তবে ফোরকানের মা সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলেকে মারধর করা হয়েছে। বৃষ্টি হলে কয়েকটি গ্রাম পানিতে ডুবে থাকে। এজন্য নাশিতে দরজা ফেলে পানি আটকানো হয়েছে।

 

পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর হায়দার বলেন, চেয়ারম্যানের সাথে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পূর্বকোণ/জাহেদ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট