চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

চকরিয়ার সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে কারা?

এম জাহেদ চৌধুরী, চকরিয়া-পেকুয়া

১৭ আগস্ট, ২০২৩ | ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের চকরিয়ায় মানবতাবিরোধী অপরাধে দ-প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ভারী অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণকারীরা কারা, এমন প্রশ্ন এখন সকলের মুখে-মুখে। সংঘর্ষ চলাকালীন অংশ নেয়া যে কয়েকজনের হাতে ভারী অস্ত্র দেখা গেছে তারা মাথায় হেলমেট পরিহিত ছিলেন। অন্যান্যদের হাতে লাঠি ছিল। যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ৬ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন ১৩ জন।

 

গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় চকরিয়ার চিরিংগায় গায়েবানা জানাজা চালাকালীন এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে নিহত চকরিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল ফজলের ছেলে মোহাম্মদ ফোরকানকে (৬০) জামায়াত কর্মী হিসেবে দাবি করেছে সংগঠনটি।

 

জামায়াতের কক্সবাজার শহর আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুকের দাবি, চকরিয়ায় গায়েবানা জানাজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। যেখানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। জানাজা শেষে বাড়ি ফেরার পথে চকরিয়া পৌরসভায় বায়তুশ শরফ রোডের মাথায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করে। এতে জামায়াত কর্মী ফোরকান নিহত হন, আহত হন অনেকেই। এসময় অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।  তবে নিহত মোহাম্মদ ফোরকান কোনভাবেই জামায়াত কর্মী নন বলে জানিয়েছেন ওই আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য জাফর আলম। তিনি জানান, বুধবার আড়াইটায় মোহাম্মদ ফোরকানের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওখানে তার বড় ভাই বক্তব্য রেখেছেন। বক্তব্যে তিনি বলেছেন, ফোরকান কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নন। তাদের পরিবার এবং স্বজনরা নৌকায় ভোট দেন।

 

চকরিয়ায় সংঘর্ষে হেলমেট পরে অস্ত্র, লাঠি নিয়ে নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লায়ন আলমগীর বলে দাবি করছেন জামায়াতের কক্সবাজার শহর আমীর আবদুল্লাহ আল ফারুক। তিনি দাবি করেন, লায়ন আলমগীর ওই আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জাফর আলমের নিকটজন হিসেবে পরিচিত। আলমগীরের নেতৃত্বেই গুলি বর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে।

 

এ ব্যাপারে লায়ন আলমগীরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সংসদ সদস্য জাফর আলম জানান, সংঘর্ষের সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কেউ সেখানে ছিলেন না। তারা শোক দিবস এবং বন্যায় দুর্গত মানুষকে ত্রাণ বিতরণে ব্যস্ত ছিলেন।

 

চকরিয়া থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, পুলিশ কোনভাবেই গুলিবর্ষণ করেনি। বরং পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনিসহ পুলিশের ৬ সদস্য। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অস্ত্র হাতে থাকা ব্যক্তি কারা তাও তদন্ত করে বের করা হবে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষে মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

 

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ঘটনাটি নিজেদের মধ্যে কিনা তদন্ত করা হচ্ছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে নিজেরাই এমন ঘটনা ঘটানোর বিষয়টি একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

 

এদিকে পেকুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ওমর হায়দার দাবি করেন, পেকুয়ায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা শেষে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় নেতৃত্বে দিয়েছেন বারবাকিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাওলানা বদিউল আলম জিহাদি। কোন কারণ ছাড়াই পুলিশের উপর হামলা করা হয়েছে। ঘটনায় তিনিসহ ১৫ জন পুলিশ আহত হন। এ ব্যাপারেও মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট