চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

বাঁধ সংস্কারে ৪২ কোটি টাকা চেয়ে ফ্যাক্সবার্তা

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

১৬ আগস্ট, ২০২৩ | ১:৩৬ অপরাহ্ণ

পাহাড়ি ঢল, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যায় নদী-নদীর তীর এবং বেড়িবাঁধের ১০ কিলোমিটার ভেঙে ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। বেশি ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায়। পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু ও টঙ্কাবতী খালের পানি বিপৎসীমায় প্রবাহিত হয়ে ভাঙন তীব্র রূপ ধারণ করে। ভাঙন-এলাকা দ্রুত সংস্কারের জন্য ৪২ কোটি টাকা চেয়ে জরুরি ফ্যাক্সবার্তা পাঠিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, জেলার সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা,   হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনীয়া উপজেলায় সাঙ্গু, টঙ্কাবতী, কর্ণফুলীসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি অতিরিক্ত বেড়ে যায়। পাহাড়ি ঢল, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার তোড়ে উপকূলীয় এলাকা এবং বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ভেঙেচুরে চুরমার করে ফেলে।  পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রাউজান উপজেলায় কর্ণফুলী, হালদা নদী ও সর্তা-ডাবুয়া খালের ২৯ স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সবমিলে এক কিলোমিটার ২১০ মিটার অংশ বিলীন হয়ে গেছে। দুই কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। হাটহাজারীর উত্তর মাদার্শা, মেখল, বোয়ালিয়া, গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ১৯২ মিটার অংশে ভাঙন ধরেছে। মান্দারি, বোয়ালিয়া, চেংখালী, প্যারাখালী খালের ভাঙনে এসব অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এরমধ্যে মান্দারি রেগুলেটর, বোয়ালিয়া রেগুরেটর, হালদার ডানতীরে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে। এসব স্থানে ৭৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। রাঙ্গুনীয়ার সরফভাটা, বেতাগী, পদুয়া ইউনিয়নে কর্ণফুলী নদী ও শাখা খালের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। কর্ণফুলী নদী, মাহফুজ-বাঙালহালিয়া খালের ভাঙনে ২৩০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। এতে এক কোটি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাঙামাটি পওর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, টানা বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে রাউজান, রাঙ্গুনীয়া, হাটহাজারী ও রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ এবং উপকূলীয় এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হয়। বাঁধ উপচিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করা না গেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। জরুরিভিত্তিতে সংস্কারের জন্য সাড়ে ৬ কোটি টাকার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

 

এছাড়াও সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, আনোয়ারা উপজেলায় সাঙ্গু ও বঙ্গোপসাগরের পানির আঘাতে তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতেও পানির তোড়ে বেড়িবাঁধ এবং উপকূলীয় এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর-১) নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ পূর্বকোণকে বলেন, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও আনোয়ারায় বেশি ক্ষতি হয়েছে। সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ায় পাহাড়ি ঢলে বেশি ক্ষতি হয়েছে। সবমিলে প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও উপকূলীয় এলাকা সংস্কার করার জন্য ৩৫ কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। তবে কয়েকটি এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যেই অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরিভিত্তিতে সংস্কার কাজ শুরু করে দিয়েছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সাঙ্গু নদীর ভাঙনে দেড় কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। চন্দনাইশে ভেঙেছে ৮০০ মিটার এলাকা। সাতকানিয়ায় ঢলু খালের ভাঙনে আড়াই কিলোমিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। টঙ্কাবতী খালের ভাঙনে ৩৫০ মিটার এলাকা খালের গর্ভে হারিয়ে গেছে।

 

আনোয়ারার পরৈকোড়া ও জুঁইদন্ডী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ টপকিয়ে পানি উপচে যায়। এতে পুরোনো বেড়িবাঁধের বিভিন্ন এলাকার ৮০০ মিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

 

প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, ৬০ সালে নির্মিত বাঁধ গড়িয়ে পানি লোকালয়ে ঢুকেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় বাঁধ টপকিয়ে পানি ঢুকছে। বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি করতে হবে। না হলে এ ধরনের বন্যা-জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হলেই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

 

এছাড়াও নাজিরহাট পৌরসভা এলাকায় ৮শ মিটার ও ফটিকছড়ির লেলাং এলাকায় দেড় কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

তবে মিরসরাই, সন্দ্বীপ ও বাঁশখালীতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর-২) নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ-জামান খান।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট