চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

বোয়ালখালীতে ভারী বর্ষণে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন

পূজন সেন, বোয়ালখালী

১৪ আগস্ট, ২০২৩ | ১২:১১ অপরাহ্ণ

এক বুক আশা নিয়ে পেঁপে বাগান গড়ে ছিলেন মো. এনামুল। ৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৩ একর জায়গাজুড়ে লাগিয়ে ছিলেন ১৭০০ পেঁপে চারা। সবেমাত্র ফলন আসা শুরু হয়েছে। ঠিক এই সময়ের অতি ভারী বৃষ্টিতে ভেসে গেছে এনামুলের পেঁপে বাগান। তছনছ হয়ে গেছে এনামুলের স্বপ্ন।

 

বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা এনামুল কঠোর পরিশ্রম করে খরণদ্বীপে বাগানটি গড়ে ছিলেন গত মার্চ মাসে। এর মধ্যে ২ লাখ টাকার কাঁচা পেঁপে বিক্রি করেছেন। এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টির পর বাগানের সব গাছই ফলসহ ঢলে পড়ছে মাটিতে। এনামুল বলেন, ‘বৃষ্টিতে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এতে তো কারো হাত নেই।’ এখন যদি সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যায় তাহলে তিনি ঘুরে দাঁড়াবেন বলে জানান। তাঁর মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন আমুচিয়া ইউনিয়নের মো. শাহজাহান। তিনি গড়েছিলেন ৬০০ গাছের রেড লেডি জাতের পেঁপে বাগান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ বলেন, উপজেলায় ভারী বর্ষণে পেঁপে বাগান, মাল্টা বাগান ও আম বাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলায় গত এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৫ হেক্টর ফসলি জমি। এর মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৬০ হেক্টর ফসলি জমি। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০৮ হেক্টর ফসলি জমি। এতে ১ হাজার ৮৮৫ কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ টাকার।

 

ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষকদের স্বল্প সময়ের মধ্যে আবাদে প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে সহায়তা পেলেই তাদের কাছে দ্রুত পৌঁছানো হবে বলে জানান এই কৃষিবিদ। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, ৬৭৫ হেক্টর আমন ধানের জমির মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৫০ হেক্টর। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩২৫ হেক্টর। এতে ১ হাজার জন আমন চাষির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৯০ লাখ টাকার। আমনের বীজ তলা নষ্ট হয়েছে ১১০ হেক্টর জমির। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৫০ হেক্টর জমির বীজতলা। ৪৮০ জন কৃষকের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৫ হেক্টর শরৎকালীন সবজির ক্ষেত। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ২০ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৬০ জন কৃষক। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬৫ লাখ টাকা। নষ্ট হয়েছে ৩২ হেক্টর আউশ ধানের ক্ষেত। আংশিক ক্ষতি হয়েছে ১০ হেক্টর। এতে ১০৫ জন কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২২ লাখ টাকা। উপজেলার ২০ হেক্টর ফল বাগানের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হেক্টর। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হেক্টর ফল বাগান। এতে ৪০ জন কৃষকের ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট