চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

সাতকানিয়ায় দুর্বিষহ জীবন নিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ

ইকবাল মুন্না, সাতকানিয়া

১১ আগস্ট, ২০২৩ | ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, বৃষ্টি কমে যাওয়া বসতঘর, সড়ক থেকে পানা নামতে শুরু করেছে।যারা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে গেছিলো তারাও বাড়ি ফিরছে, তবে রেখে যাওয়া সে বাড়ি আর নেই। মানুষ মানবেতর জীবন পার করছে, মিলছেনা সঠিকভাবে খাবার,বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ করার মাধ্যম মুটোফোনের নেটওয়ার্ক বিপর্যয়।

পানি নেমে গেলেও চারিদিকে সব একাকার : সাতকানিয়া  উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পরই জেগে উঠেছে বন্যায় বিপর্যস্ত এলাকা। চারপাশে শুধুই বন্যার তা-ব। বিভিন্ন কাঁচা বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেও কাদা-পানিতে একাকার এসব বাড়িঘরে এখনই প্রবেশের উপায় নেই। পুরো সাতকানিয়ায় রয়েছে খাদ্য ও পানি সঙ্কট।

প্রয়োজন ব্যাপক ত্রাণ সহায়তা। উপজেলার চরতি, কেঁওচিয়া, কালিয়াইশ, ধর্মপুর, বাজালিয়া, পুরানগড়, ঢেমশা, পশ্চিম ঢেমশা, এওচিয়া, নলুয়া, আমিলাইশ ইউনিয়নে বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া সড়কসমূহ জেগে উঠেছে। তবে কাদামাটির কারণে সড়ক দিয়ে চলাচলে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। সাতকানিয়া উপজেলা সদর ও থানা এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। দুই দিন পর পানির নিচ থেকে জেগে উঠেছে সাতকানিয়া পুলিশ স্টেশন ও আদালত চত্বর এখনো পানিতে ডুবে রয়েছে।

এই পর্যন্ত ৪ জনের লাশ উদ্ধার : উপজেলায় বন্যায় চরতী ইউনিয়ন, সাতকানিয়া পৌরসভা এলাকায় ৮ জন পানিতে ডুবে যায়, এর মধ্যে পৌরসভা এলাকা থেকে হেলাল (২০) সাতকানিয়া মির্জাখীল বার্মা মার্কেট এলাকার পাশের বিল থেকে মোহাম্মদ হেলাল (২০) চরতী ইউনিয়নে নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ জান্নাতুল ফেরদৌস (৪) ও  আব্দুর রহিম (৪৫) সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছন থেকে মোহাম্মদ ইদ্রিসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া চরতী ইউনিয়নে নৌকাডুবির ঘটনায় শহিদুল ইসলাম (৩), সানজিদা আক্তার (৪) নামে দু’জন শিশুর নিখোঁজ আছেন।

ত্রাণ নিয়ে বন্যার্তদের মাঝে স্থানীয় সাংসদ, রাজনৈতিক নেতা, ও সামাজিক সংগঠন : বন্যা পরিস্থির বিপর্যয় মুহুর্তে প্রথম এগিয়ে আসে সামাজিক সংগঠনে ছদাহা ডটকম। এছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ সাংসদ আবু রেজা মুহম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী, চট্টগ্রাম-১৪ সাংসদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান এম, এ মোতালেব সিআইপি, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান, উপজেলা প্রশাসন,ফ্রি মোশন ফিরোজ কামাল, রাউজানের সাংসদ এ. বি. এম. ফজলে করিম চৌধুরীর ছেলে ফারাজ করিম, অভিনেতা তৌহিদ আফ্রিদি, গায়ক তাসরিব খান, আলেম শায়েখ আহমদুল্লাহ্সহ বিভিন্ন সংগঠন। এবারের বন্যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসতে দেখা মিলে বেশি।

পানিতে ডুবে যাওয়া কবরস্থানের মাটি জেগে উঠার অপেক্ষায় মানুষ : বন্যায়  হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় চরতী এলাকার জানে আলম। অতিরিক্ত পানি তাই ১০ হাজার টাকায় নৌকা ভাড়া করে প্রথমে চন্দনাইশ, সেখান থেকে ফ্রিজার করে চট্টগ্রামে নিয়ে হালিশহর এলকায় দাফন করে। চরতী বন্যার শুরুর আগে থেকেই পানি আতঙ্ক ছিল। জানে আলমের ছোট ভাই আফজাল হোসেন বলেন, পানিতে আমাদের বাড়িঘর, করবস্থান ডুবে যাওয়ায় আমার ভাইকে দাফন করতে না পেরে চট্টগ্রাম নগরীতে নিয়ে গিয়ে দাফন করি।

সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক : টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া এলাকায় সৃষ্ট বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। এতে দুই দিন প্রায় বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহাসড়কে ধীরে ধীরে যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। গ্রামীন সড়কেও যানবাহন বেড়েছে।

রাত হলেও মসজিদের মাইকে ডাকাত বলে চিৎকার : সাতকানিয়ায় পৌরসভা ভোয়ালিয়া পাড়া এলাকায় হাজী রফিকের বাড়ি, চরপাড়া বাদামতল এলাকা, ঢেমশা ইউনিয়নের ফকির পাড়া, আলি হোসেন নামে এক ব্যক্তির বাড়ি, চরতী তালগাঁও এলাকায় নিজ বাড়িতে ডাকাত এসেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাস্টাস দেয়। এবিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় এবং পানিবন্দী মানুষ চারিদিকে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। চারিদিকে মসজিদের মাইকে মিথ্যাচার করতে থাকে। এই বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ বিশেষ শাখার (ডিএসবি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে সাতকানিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় ডাকাতের আক্রমণ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা স্ট্যাস্টাস দিয়ে গুজব সৃষ্টি করেছে, যারা এ অবস্থায় সাতকানিয়ার মানুষকে আতঙ্কিত করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সার্বিক বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  মিল্টন বিশ্বাস বলেন, উপজেলায় বন্যায় আটকে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার করছি, তাছাড়া বিশুদ্ধ পানি, এবং  ১’লাখ পানি বিশুদ্ধ করন ট্যাবলেট, ৬০ মেট্রিক টন চাউল ২ হাজার লিটার পানি দিয়েছি। পৌরসভায় ৫ মেট্রিক টন চাউল ৫ লাখ টাকা দিয়েছি।

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট