চট্টগ্রাম বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

দুর্ভোগে কয়েকশ স্কুল শিক্ষার্থী ও চার গ্রামের বাসিন্দারা

রাঙ্গুনিয়ায় ৮ ফুট সড়কের ৫ ফুট দখল

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাঙ্গুনিয়া

৭ আগস্ট, ২০২৩ | ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের আলহাজ আবুল বশর চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ৮ফুট প্রস্থের সড়কটির ৫ ফুট দখল করে টিনের বেড়া দিয়ে দিয়েছেন আবু মুছা নামের এক ব্যক্তি। এতে ওই সড়ক পথে স্কুলগামী চারটি গ্রামের কয়েকশ স্কুল শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্কুলে যাতায়াতের সড়ক দখলের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ার শান্তিরহাট-বেতাগী সড়কের ডিঙ্গললোঙ্গা স্টেশন থেকে পূর্বে তিন সৌদিয়া-মির্জাখীল সড়কের স্কুল গেটের সাথে সংযুক্ত করেছে আলহাজ আবুল বশর চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় সড়কটি। প্রায় এক কিলোমিটার এই সড়কটি প্রস্থে আট ফুট। আলহাজ আবুল বশর চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় সড়ক নামে পরিচিত এই সড়কের প্রবেশমুখ ও শেষপ্রান্তে সরকারিভাবে স্থাপন করা হয় দুটি কালভার্ট। ২০১৫ সালে স্কুলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণও করা হয় সড়কটিতে। সড়ক দিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ডিঙ্গললোঙ্গা, আন্দরঘোনা, বানিয়াখোলা ও আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রামের বাসিন্দারাও যাতায়াত করেন।

সম্প্রতি জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের অর্ধেক অংশ কেটে টিনের বেড়া দিয়ে দখল করে ফেলেছে স্থানীয় আবু মুছা নামের এক ব্যক্তি।

আবুল বশর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রবীর কান্তি নাথ জানান, স্থানীয় গ্রামবাসী ও স্কুল শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পথ বাধাগ্রস্ত করার প্রতিবাদ করেও আবু মুছাকে সড়ক দখলে নেয়া থেকে বিরত রাখতে পারেনি স্থানীয়রা। ফলে চার গ্রামের বাসিন্দাদের অনুরোধে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্কুল পরিচালনা কমিটি।

তিনি আরও জানান, কালভার্টের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করায় বর্তমান স্কুলের প্রবেশপথ ও মাঠের ভেতর দিয়ে পানি চলাচল করছে। এতে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছয়’শ শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক চলাচল ও শিক্ষার পরিবেশ নস্ট হচ্ছে। স্কুল সড়কটি দখল করে ফেলায় শত শত শিক্ষার্থীর চলাচলেও ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। সড়ক দখলমুক্ত ও কালভার্টের পানি চলাচল ব্যবস্থা অবমুক্ত করতে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্কুল গেইটের পাশেই সড়কের কালভার্টের উপর বৃক্ষরোপণ সম্বলিত সাইনবোর্ড রয়েছে। এর পাশ থেকেই ৮ ফুট সড়কের মাঝ বরাবর কেটে টিনের বেড়া দিয়ে বসতবাড়ির সাথে দখল করে ফেলা হয়েছে সড়কটির ৫ ফুট। বসতভিটা ফেলে কিছুদূর এগুলেই দেখা যায় সড়ক কেটে দখল করার কারণে এটি ভেঙে নিচু জমিতে পড়ার উপক্রম হয়েছে। তাতে মাটির বস্তা দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। স্কুল শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই ওই ঝুঁকিপূর্ণ সড়কের উপর দিয়ে চলাচল করছেন।

অন্যদিকে, স্কুল গেইটের কাছে মির্জাখীল সড়কের উপর স্থাপিত অন্য একটি কালভার্টের পশ্চিম অংশ বন্ধ করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে বৃষ্টির পানি স্কুল মাঠে প্রবেশ করে ডোবায় রূপ নিয়েছে। এ ব্যাপারেও ইউএনও’র কাছে অভিযোগ দিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সড়ক দখলের ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওই এলাকার বদন মিয়ার ছেলে আবু মুছা চৌধুরী জানান, এটি আগে তিন ফুটের চলাচলের পথ ছিল, আট ফুটের রাস্তা ছিলনা। আমি প্রবাসে থাকা অবস্থায় আমার জায়গা ও ছড়া দখল করে সড়কটি নির্মাণ করেছেন তিন সৌদিয়া গ্রামের মানুষ। এখন স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা হেঁটে যেতে পারবেন, হয়তো গাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন না। তার খতিয়ানভুক্ত জায়গা দখলে নিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতাউল গণি ওসমানী বলেন, স্কুলের পক্ষ থেকে সড়ক দখলের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তা তদন্তের জন্য সম্প্রতি স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মকর্তাকে সরেজমিনে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাবার পর এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

পূর্বকোণ/সাফা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট