চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪

কেউ কি নেই ডলু নদীর কান্না শোনার?

ইকবাল মুন্না, সাতকানিয়া

১ আগস্ট, ২০২৩ | ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ

দখল-দূষণে মরছে ডলু নদী। পানিবিহীন হাহাকার করছে নদীটি। অথচ কেউ শুনছে না নদীর এই কান্না। নদীকে জীবন্ত সত্তা ঘোষণা করে নদীর প্রাণ ফিরিয়ে দিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত নির্দেশ দিলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।

 

৫৩ কিলোমিটারজুড়ে এই নদী ৪৬ মিটার গড় প্রস্থে পার্বত্য বান্দরবান থেকে প্রবাহিত হয় চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলার ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে। এছাড়া সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়ন, সোনাকানিয়া ইউনিয়ন, সাতকানিয়া পৌরসভা, পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়ন, এওচিয়া ইউনিয়ন, আমিলাইশ ইউনিয়ন, নলুয়া ইউনিয়ন দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সাঙ্গু নদীতে পতিত হয়েছে।

 

এই অঞ্চলজুড়ে স্থানীয়দের বাসা বাড়ির বর্জ্য, দোকানের ব্যবহৃত অধিকাংশ ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে ডলু নদীতে। ফলে দ্রুতই ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীটি,  বাড়ছে পরিবেশ ও বায়ূ দূষণ। ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ-ব্যাধি। দূষণে ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে নদীর পানি।

 

অন্যদিকে, নদীর নাব্যতা সংকট, অবৈধভাবে নদীর উপর দাঁড়িয়ে থাকা দখলদারদের অট্টালিকা ও বালু উত্তোলন। এতে নদীটি যেমন সরু হয়েছে তেমনি পানির প্রবাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে ফেলেছে তার ঐতিহ্য, চিরচেনা চিত্র। শুধু যেন দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। সবমিলিয়ে ডলু নদীর বুকে ধু-ধু বালুচর। আর এসব চর এখন ফসলের বিস্তীর্ণ মাঠ।

 

নদী মরে যাওয়ায় নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকাও মারাত্মক হুমকির মুখে। নদী শুকিয়ে যাওয়ায় হুমকিতে মৎস্য সম্পদ। সেই সাথে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষি ও পরিবেশে।

 

সাতকানিয়া পৌরসভা ১ নম্বর ওয়ার্ডের বণিক পাড়ার গঙ্গা চন্দ্র ধর বলেন, আগেকার দিনে ভারত-মিয়ানমার থেকেও মালামাল আসতো ডলু নদী হয়ে। ডলু ব্রিজে বাদশা মিঞার ঘাট হয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে বোট গুলো পাড়ে ভিড়তো। এ ঘাটে আমরাও মালামাল আনতাম। আমাদের বণিক পাড়া মূলত ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হয়েছে। ডলুব্রিজ আরেকটি ঘাট ছিল যেটির নাম কালু মিঞার ঘাট। যখন বাঁশের সাঁকো থেকে ডলুব্রিজ নির্মাণ হচ্ছিল তখন আমি ৫ টাকা দিনমজুরিতে কাজ করেছি। মূলত সাতকানিয়ায় বিভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা সড়ক পথ হওয়ায় নৌকার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাছাড়া নদীতে ময়লা আর্বজনা ফেলা এবং নদী থেকে বালু উত্তোলনে নদীর স্রোত এবং নদীর পরিচয় হারিয়ে গেছে।

 

সাতকানিয়ার পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের পূর্বকোণকে বলেন, ডলু নদীর বিভিন্ন অংশে চর জেগে উঠেছে। যার ফলে নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া নদী দূষণের স্বীকার হয়েছে। এই মুহূর্তে জরুরি ড্রেজিং এর আওতায় এনে নদী সংরক্ষণ করা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রয়োজন এটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং ভবিষ্যতে কৃষকের যাতায়তের সুবিধার্থে কৃষি উন্নয়ন বোর্ডের ও পরামর্শ নেওয়া।

 

তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলে ডলু নদীতে ফেলছে। পৌর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। আমাদের একটি সু-নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় সমস্যাটি হচ্ছে। আবর্জনা মুক্ত এবং পরিচ্ছন্ন পৌরসভা করতে সাতকানিয়া পৌর এলাকায় একটি ময়লার ডাম্পিং স্টেশন করা উদ্যোগ নিয়েছি।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড পটিয়া উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অপু দেব পূর্বকোণকে বলেন, ডলু নদীতে পানি আনতে চাইলে সাঙ্গু নদীর মুখ থেকে ড্রেজিং এর মাধ্যমে খনন করে আসতে হবে। তবে বর্তমানে ডলুতে ড্রেজিং এর কোন সুযোগ নেই কারণ এখানে বড় ড্রেজার ডুকবে না। এছাড়া আবর্জনায় নদীটি ভরাট হচ্ছে, বিষয়টির ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডলুতে পানি রাখতে আমরা একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট