চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪

মামলা নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা

পিতা-পুত্রের দ্বন্দ্ব নাকি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র?

মোহাম্মদ আলী

২৫ জুলাই, ২০২৩ | ১:৫৪ অপরাহ্ণ

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পুত্র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা নিয়ে গত দু’দিন ধরে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকে পিতা-পুত্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে মুখরোচক সমালোচনা করতেও ছাড়ছেন না। হাটহাজারী থানায় গত ২২ জুলাই মামলাটি দায়ের হলেও সংবাদপত্রের মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে আসে গত ২৩ জুলাই। এ নিয়ে সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

 

অনেকে বলেছেন- ‘পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধ নিয়ে পিতা-পুত্র এবার মুখোমুখি’। আবার অনেকে বলেছেন, ‘রাজনৈতিক মামলা’। তবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য স্বার্থান্বেষী মহল এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছেন- মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও তার পুত্র ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের।

 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘এ মামলাটির বাদী করা হয়েছে আমার মালিকানাধীন হাটহাজারী পৌরসভার আলীপুরস্থ ডালিয়া-নুসরাত মেমোরিয়াল টাওয়ারের কেয়ারটেকার মো. নুরুল ইসলাম। অথচ সে মামলা নিয়ে কিছুই জানে না। এ ব্যাপারে আমি গত ২৩ জুলাই হাটহাজারী মডেল থানার ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র)  অফিসার ইনচার্জ মো. মনিজ্জামান বরাবরে একটি চিঠি দিয়েছি।

 

চিঠিতে আমি লিখেছি- আমার ছেলে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে আসামি করে যে মামলা করা হয়েছে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমার ছেলের বিরুদ্ধে আমি মামলা করবো তা কল্পনাতীত, ভাবতেও অবাক লাগে। এ মামলার বাদী আমি নই। আমার ছেলেকে ফিজিক্যালি ভিক্টিমাইস করার জন্য এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দেখানো হয়েছে। এই চিঠি পাওয়ার সাথে সাথে আমার ছেলেকে তথাকথিত মামলা থেকে বাদ দেওয়া হোক। আমার বাসার কর্মচারী নুরুল ইসলামও এই ব্যাপারে কিছুই জানে না।’

 

মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, ‘মূলত টাওয়ার দখল ও রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ মামলা করা হয়েছে।’

 

এদিকে, এই মামলার বিষয় নিয়ে কথা হয়, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সাথে। দৈনিক পূর্বকোণকে তিনি বলেন, ‘ডালিয়া-নুসরাত মেমোরিয়াল টাওয়ার আমি দেখাশোনা করি না। আমার বাবা দেখাশোনা করেন। মূলত হাটহাজারী বিএনপিতে আমার শক্তিশালী অবস্থান দেখে প্রতিপক্ষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ মামলা নিয়ে বাদীও কিছুই জানেন না। আমার আব্বা ও আমাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক এ মামলা করা হয়েছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘মামলার এজাহারে বলা হয়েছে- গত ১৫, ১৯ ও ২০ জুলাই আমি চাঁদার জন্য দলবল নিয়ে ডালিয়া-নুসরাত মেমোরিয়াল টাওয়ারে যাই। ভয়ভীতি ও হুমকি ধমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করি। মূলত এসব ঘটনা সম্পূর্ণ সাজানো। গত ২০ জুলাই আমি চট্টগ্রামেই ছিলাম না, ঢাকায় ছিলাম। এ ব্যাপারে যথেষ্ট উপযুক্ত প্রমাণ রয়েছে।’

 

মামলা নিয়ে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন আরো বলেন, ‘মামলাটি যে রাজনৈতিকভাবে ষড়যন্ত্রমূলক তা এজাহারে আসামিদের নাম দেখলে বুঝা যায়। যে নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলার বিবাদী করা হয়েছে তারা সবাই বিএনপি নেতা। রাজনৈতিকভাবে হেয় এবং দুর্বল করতে পরিকল্পিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা হলেন, ২ নম্বর আসামি তকিবুল হাসান চৌধুরী ত্বকি হাটহাজারী উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক, ৩ নম্বর আসামি জিএম সাইফুল ইসলাম হাটহাজারী উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, ৪ নম্বর আসামি গিয়াস উদ্দিন হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং মেখল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, ৫ নম্বর আসামি মনিরুল ইসলাম জনি চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ৬ নম্বর আসামি মো. সাহেদ হাটহাজারী পৌরসভা ছাত্রদলের সদস্য সচিব, ৭ নম্বর আসামি মো. সাইফুল উত্তর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক, ৮ নম্বর আসামি মো. এমরান সিকদার উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক কমিটির সদস্য এবং ৯ নম্বর  আসামি মিজান হাটহাজারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সুতরাং আসামির তালিকা দেখলেই মামলার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হয়ে যায়।’

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট