চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬১৯ জন

উখিয়া সংবাদদাতা

১৭ জুলাই, ২০২৩ | ১০:৫১ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬১৯ জন রোহিঙ্গা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

 

সোমবার (১৭ জুলাই) কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ পংকজ পালের দেয়া এক তথ্য বিবরণী থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

 

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলায় নতুন করে ৬৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তার মধ্যে রোহিঙ্গা ৬১৯ জন। বাকি ৪৯ জন স্থানীয়।

 

জানা যায়, কক্সবাজার জেলায় এ নিয়ে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৮৪১ জন। যেখানে রোহিঙ্গা ২ হাজার ৫২১ জন। স্থানীয় ১৬৫ জন।

 

পরিসংখ্যানবিদ পংকজ পাল জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাঁচটি এলাকা ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩ নম্বর ক্যাম্পে ৬২০ জন, ১৭ নম্বর ক্যাম্পে ১৭১ জন, ৪ নম্বর ক্যাম্পে ১৬৭ জন, ১ নম্বর ডব্লিউ ক্যাম্পে ১১৫ জন এবং ২৪ নম্বর ক্যাম্পে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। এছাড়া কক্সবাজার পৌরসভায় ৩২ জন, চকরিয়ায় ২৭ জন, উখিয়ায় ২৬ জন, টেকনাফে ২৩ জন, সদরে ২০ জন এবং মহেশখালীতে ১৩ জন রোগী পাওয়া গেছে।

 

তিনি আরও জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার পর্যন্ত ভর্তি আছে মোট ২৫ জন। এর বাইরে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৫ জন ভর্তি রয়েছে। সর্বশেষ ২৩ জুন একজনের মৃত্যুসহ গত ৬ মাসে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তারা সকলেই রোহিঙ্গা। আক্রান্ত বিবেচনায় ৬৫ শতাংশ পুরুষ ও ৩৫ শতাংশ নারী।

 

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের স্বাস্থ্য কো-অর্ডিনেটর ডা. আবু তোহা বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অধিক সংখ্যক ডেঙ্গু আক্রান্ত শনাক্ত হলেও এটা উদ্বেগজনক বলা যাবে না। সচেতনতার কারণে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এখানে চিকিৎসা নিয়ে ঘরে ফিরছেন ৯৯ শতাংশ। মাত্র ৪ জন রোগী নানা কারণে মারা গেছেন।

 

তিনি বলেন, ক্যাম্পে এখন অধিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ক্যাম্পে অবস্থিত বিভিন্ন ড্রেনেজ সিস্টেমে ব্লিচিং পাউডার নিয়মিত ছিটানো এবং এ বিষয়ে তদারকির জন্য ওয়াস সেক্টরের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। ক্যাম্পে হেলথ সেক্টরের সঙ্গে নিয়মিত সভা হচ্ছে। প্রতিটি ক্যাম্প ব্লকের নেতা (মাঝি) এবং উপনেতাদের (সাব-মাঝি) সঙ্গে সভা করে জমানো পানি অপসারণ করা হচ্ছে। ডেঙ্গু নির্ণয়ের জন্য পর্যাপ্ত কিট সরবরাহসহ নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু কমানো সম্ভব বলে আশা করা যাচ্ছে।

 

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, সম্ভাব্য ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় কক্সবাজারে সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। ইতোমধ্যে চিকিৎসায় ১০ জন চিকিৎসক নিয়ে টেলিমেডিসিন সেবা চালু হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছে সদর হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো।

 

পূর্বকোণ/মানিক/জেইউ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট