চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

কর্ণফুলীতে নির্বিচারে চলছে চিংড়ি পোনা আহরণ

পূজন সেন, বোয়ালখালী

২৮ মে, ২০২৩ | ১২:১৭ অপরাহ্ণ

কর্ণফুলীতে নির্বিচারে চলছে চিংড়ি পোনা আহরণ। প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শতশত ঠেলা জাল দিয়ে পোনা ধরা হচ্ছে। জালে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা উঠে আসলেও চিংড়ি পোনাগুলো আলাদা করে অন্য সব পোনা ফেলে দেওয়া হয়। প্রতিটি চিংড়ি পোনা বিক্রি করে পাওয়া যায় এক থেকে দেড় টাকা। একশ চিংড়ি পোনা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা করে কিনে নেন পোনার ব্যবসায়ীরা। তারা সাতক্ষীরা-খুলনার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন প্রতিটি পোনা তিন থেকে সাড়ে তিন টাকা দরে।

 

গতকাল শনিবার বোয়ালখালী উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ঠেলা জাল দিয়ে পোনা ধরছেন চিংড়ি পোনা সংগ্রহকারীরা। নদী থেকে পোনা জাল দিয়ে তুলে তা গামলা বা বালতিতে সংগ্রহ করছেন। সেখান থেকে শুধুমাত্র চিংড়ির পোনাগুলো বেছে নেওয়া হয়। বাকি পোনা ফেলে দেওয়া হয়। ফেলে দেওয়া শত শত পোনা মারা পড়ে নদীর পাড়ে। নদী তীরে ছড়িয়ে-ছিড়িয়ে পড়ে থাকা পোনাগুলো কাক ও অন্য পাখিরা গিলে খাচ্ছে।

 

উপজেলা মৎস্য অফিসারের কার্যালয় সূত্র জানায়, মৎস্য আইনে চিংড়ি পোনা আহরণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে জেল-জরিমানা বা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। তারপরও অবৈধভাবে পোনা আহরণ ও বিক্রি চলছে।

 

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিংড়ি পোনার সঙ্গে প্রায় ১২৫টি অন্য প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী উঠে আসে জালে। মাছ আহরণকারীরা শুধু চিংড়ি পোনাটি বাছাই করার পর অন্য প্রজাতির পোনাগুলো মাটিতে ফেলে দেন। এতে এসব পোনা আহরণকারীদের হাতে প্রতিদিন মারা পড়ছে কয়েক হাজার অন্য প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণী। ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। 

 

জানা গেছে, ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতে পোনা ছাড়ে মা চিংড়ি। বৈশাখ মাসে রেণু ছাড়ে মা চিংড়ি। ভাদ্র মাস পর্যন্ত পোনা পোনা সংগ্রহকারীরা জানান, আহরিত পোনা সাতক্ষীরা, খুলনা বাগেরহাট, ফেনী ও যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় চিংড়ি হ্যাচারিতে সরবরাহ করা হয়।

 

বোয়ালখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইমরান পূর্বকোণকে বলেন, অবৈধভাবে চিংড়ির পোনা আহরণকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। হাটহাজারী উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় হালদা, হালদা সংযুক্ত কর্ণফুলী, কালুরঘাট এলাকায়ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট