চট্টগ্রাম শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশে চিকিৎসাশিক্ষা

মানের প্রশ্নে নতুন সময়, নতুন কাঠামো, নতুন জাতীয় লাইসেন্সিং পরীক্ষার দাবি

ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন

২৫ এপ্রিল, ২০২৬ | ১২:২৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে চিকিৎসাশিক্ষা আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কেবল সংখ্যার হিসাব দিয়ে আর সাফল্য মাপা সম্ভব নয়। গত তিনদশকে দেশে মেডিকেল কলেজের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। সরকারি, বেসরকারি ও সামরিক বাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এখন এক শতাধিক মেডিকেল কলেজ চালু রয়েছে; প্রতি বছর প্রায় ১২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে। বাইরে থেকে দেখলে এটি নিঃসন্দেহে এক বড় অগ্রগতি। কিন্তু ভিতরে তাকালে দেখা যায়, এই বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি গভীর সংকটও বেড়েছে-সেটি হলো মানের সংকট, কাঠামোর সংকট, এবং জবাবদিহিতার সংকট। এই বাস্তবতার মধ্যেই এখন সামনে এসেছে একটি জরুরি প্রশ্ন: একই MBBS ডিগ্রি অর্জনকারী সব গ্র্যাজুয়েট কি সত্যিই সমমানের জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা নিয়ে বের হচ্ছে? এই প্রশ্নের সৎ উত্তর যদি ‘না’ হয়, তবে বাংলাদেশকে এখনই চিকিৎসাশিক্ষা পুনর্গঠনের পথে হাঁটতে হবে।

চিকিৎসাশিক্ষা কোনো সাধারণ উচ্চশিক্ষা নয়। এটি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা, যার শেষ ফলাফল সরাসরি মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও আস্থার সঙ্গে জড়িত। একটি দুর্বল মেডিকেল কলেজ মানে কেবল একটি দুর্বল প্রতিষ্ঠান নয়; এর অর্থ হচ্ছে এমন এক ভবিষ্যৎ চিকিৎসক, যিনি পর্যাপ্ত বুনিয়াদি জ্ঞান, ক্লিনিক্যাল বিচারবোধ বা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ ছাড়াই রোগীর সামনে দাঁড়াতে পারেন। কাজেই মেডিকেল কলেজের বিস্তারকে শুধু ‘আরও বেশি সিট’ বা ‘আরও বেশি ডাক্তার’ উৎপাদনের প্রশ্ন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি মূলত জাতীয় সক্ষমতা, রোগী সুরক্ষা, চিকিৎসার মান এবং ভবিষ্যৎ জনস্বাস্থ্যের প্রশ্ন।

বাংলাদেশে বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপনের জন্য আইনে বহু শর্ত নির্ধারিত আছে-নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি, নিজস্ব মালিকানা, ইজারা বা ভাড়া জমিতে কলেজ ও হাসপাতাল না করা, সংরক্ষিত তহবিল, পর্যাপ্ত ফ্লোর স্পেস, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, বেড অকুপেন্সি, পূর্ণকালীন শিক্ষক, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি, ছাত্রাবাস, দরিদ্র রোগীদের জন্য সংরক্ষিত ফ্রি বেড-সবই কাগজে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। অর্থাৎ, নীতির স্তরে সমস্যা কম; সমস্যা মূলত বাস্তবায়নে। দেশে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে মেডিকেল কলেজের নাম আছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক পরিবেশ নেই; হাসপাতাল আছে, কিন্তু পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল শিক্ষার পরিবেশ নেই; শিক্ষক তালিকা আছে, কিন্তু পূর্ণকালীন ও স্থায়ী শিক্ষকসংখ্যা প্রশ্নবিদ্ধ; অবকাঠামো আছে, কিন্তু তার কার্যকর ব্যবহার সীমিত। এই বাস্তবতা ক্রমেই স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন এবং প্রকৃত মানসম্মত শিক্ষাদানের মধ্যে বড় ফাঁক রয়ে গেছে।

এই ফাঁক সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে শিক্ষক সংকটে। বিশেষত বেসিক সায়েন্স বিভাগ-অ্যানাটমি, ফিজিওলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফার্মাকোলজি, ফরেনসিক-এসব জায়গায় বহু পদ দীর্ঘদিন শূন্য পড়ে থাকে। কোথাও Mphil-নির্ভরতা বেশি, কোথাও সিনিয়র শিক্ষক নেই, কোথাও আবার লেকচারার বা জুনিয়র ফ্যাকাল্টি দিয়ে বিভাগ চালাতে হয়। ফিজিওলজি ও বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের শূন্যপদের হারই দেখায় যে চিকিৎসাশিক্ষার ভিত কতটা চাপের মধ্যে আছে। ফরেনসিক মেডিসিন বা ফার্মাকোলজির মতো বিষয়েও একই ধরনের ঘাটতি আছে; সংখ্যায় শিক্ষক থাকলেও গবেষণা, সিনিয়র একাডেমিক নেতৃত্ব ও আধুনিক দক্ষতার সংকট স্পষ্ট। ফলে একদিকে শিক্ষার্থীরা তও্বগতভাবে কোর্স সম্পন্ন করছে, অন্যদিকে তাদের বুনিয়াদি একাডেমিক foundation কতটা শক্ত হচ্ছে-তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ক্লিনিক্যাল এক্সপোজারের অসমতা। চিকিৎসাশিক্ষা কেবল বই পড়ে হয় না; রোগী দেখা, শারীরিক পরীক্ষা, bedside teaching, case discussion, ward round, procedure observation-এসবই একটি ভালো চিকিৎসক তৈরির কেন্দ্রীয় উপাদান। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় কোথাও রোগীর চাপ এত বেশি যে শিক্ষার্থীদের শেখার পরিবেশই থাকে না, আবার কোথাও পর্যাপ্ত রোগী নেই বলে বাস্তব exposure সীমিত। এক কলেজের শিক্ষার্থী যে পরিমাণ clinical material পায়, অন্য কলেজের শিক্ষার্থী তার ধারে কাছেও যায় না। একই MBBS ডিগ্রি, কিন্তু training experience এক নয়-এটি একটি গভীর নীতিগত সমস্যা।

এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের চিকিৎসাশিক্ষায় এখন সবচেয়ে জরুরি প্রয়োজন একটি জাতীয় ন্যূনতম মানদণ্ড, যা সব গ্র্যাজুয়েটের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। আর সেই কারণেই বাংলাদেশ মেডিকেল লাইসেন্সিং এক্সামিনেশন (BMLE) নিয়ে এখন গুরুত্বসহকারে ভাবা উচিত। পৃথিবীর বহু দেশে শুধু মেডিকেল ডিগ্রি থাকলেই প্র্যাকটিস শুরু করা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে USMLE, কানাডায় LMCC-এসব পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য একটাই: একজন গ্র্যাজুয়েট যে-ই হোন, তিনি কোন মেডিকেল স্কুল থেকে পাস করেছেন তা নয়, তিনি কি নিরাপদ ও দক্ষ চিকিৎসা দেওয়ার উপযুক্ত কি না, সেটিই যাচাই করা। অর্থাৎ, ডিগ্রি একটি একাডেমিক সনদ; কিন্তু লাইসেন্সিং পরীক্ষা হলো জননিরাপত্তার চুড়ান্ত ফিল্টার।

বাংলাদেশেও এখন সেই বাস্তবতায় পৌঁছে গেছে। দেশে যখন সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১২৫-১৩০টির কাছাকাছি মেডিকেল কলেজের কথা আলোচনা হচ্ছে, তখন সবাইকে একটি অভিন্ন competence standard -এ নিয়ে আসার প্রয়োজন অস্বীকার করার উপায় নেই। BMLE চালু হলে এটি প্রথমত সব গ্র্যাজুয়েটকে একটি জাতীয় মানদণ্ডে মূল্যায়ন করবে; দ্বিতীয়ত, দুর্বল কলেজগুলোর ওপর শিক্ষার মান উন্নত করার চাপ তৈরি করবে; তৃতীয়ত, রোগী সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেবে; এবং চতুর্থত, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশি গ্র্যাজুয়েটদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এটি কেবল আরেকটি পরীক্ষা হবে না; এটি হবে চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত সংস্কারের একটি নীতিগত হাতিয়ার।

তবে ইগখঊ কেমন হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এটি যদি শুধুই আরেকটি মুখস্থনির্ভর লিখিত পরীক্ষা হয়, তাহলে উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে। বরং এটিকে ধাপে ধাপে গড়ে তুলতে হবে। একটি অংশে থাকতে পারে বেসিক সায়েন্স জ্ঞান, আরেক অংশে ক্লিনিক্যাল decision-making, এবং চুড়ান্ত স্তরে skills, communication, ethics I professionalism যাচাইয়ের OSCE বা সমমানের মূল্যায়ন। ২০২৯-৩০ সাল থেকে যারা ফাইনাল MBBS পাস করবে, তাদের দিয়ে পরীক্ষাটি ধীরে ধীরে শুরু করার একটি ট্রানজিশনাল রূপরেখা বাস্তবসম্মত হতে পারে। এতে বর্তমান শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতির সময় পাবে, কলেজগুলোও পাঠক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে।

কিন্তু BMLE নিয়ে আরেকটি বড় প্রশ্ন আছে-এই পরীক্ষা পরিচালনা করবে কে? এখানেই BMDC -এর ভূমিকা নিয়ে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত চিকিৎসক ও দন্তচিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন, লাইসেন্সিং, পেশাগত আচরণ, নৈতিকতা, disciplinary oversight এবং রেজিস্ট্রেশন নবায়ন সংক্রান্ত কাজ। কিন্তু একই সঙ্গে যদি BMDC-কে মেডিকেল শিক্ষার কারিকুলাম নির্ধারণ, প্রতিষ্ঠান স্বীকৃতি, শিক্ষার মান যাচাই, আবার পেশাগত লাইসেন্সিং-সবকিছু দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে একদিকে সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়, অন্যদিকে conflict of role তৈরি হয়। বাস্তব প্রশ্ন হলো: একটি সংস্থা কি একই সঙ্গে curriculum setter, college recognizer, inspector, examiner Ges license registrarÑme হতে পারে? বর্তমান অভিজ্ঞতা বলছে, সেটি কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে করা কঠিন।

বাংলাদেশে এখন দরকার একটি স্বতন্ত্র জাতীয় চিকিৎসা শিক্ষা কর্তৃপক্ষ, যা BMDC থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আলাদা হবে। এই সংস্থা কাজ করবে মূলত চিকিৎসা শিক্ষা নীতিমালা, curriculum development, medical college accreditation, recognition, periodic inspection, faculty standards, assessment benchmarks, internship competency framework Ges quality assurance নিয়ে। অর্থাৎ, এটি হবে বাংলাদেশের চিকিৎসা শিক্ষার একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক মানরক্ষার কেন্দ্র। অন্যদিকে BMDC সীমাবদ্ধ থাকবে ডাক্তার ও দন্তচিকিৎসকদের licensing, registration, professional conduct এবং professional oversight -এ। এই বিভাজন শুধু যুক্তিসংগতই নয়, প্রশাসনিকভাবে স্বাস্থ্যকরও। কারণ medical education governance এবং professional licensing -দুটি কাজের প্রকৃতি আলাদা, দক্ষতাও আলাদা।

এখানে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় শুধু ডাক্তার ও দন্তচিকিৎসক নন, বিপুলসংখ্যক allied health worker -ও কাজ করেন-মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, রেডিওগ্রাফার, ল্যাব পারসোনেল, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী। তাদের registration ও oversight ideally একটি পৃথক allied medical education board বা সমমানের সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত। সবকিছু BMDC -এর অধীনে এনে এক অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্রীভবন তৈরি করলে কার্যকারিতা বাড়ে না; বরং দায়িত্বের বিস্তার হয়, জবাবদিহিতা দুর্বল হয়।

অবশ্য BMLE প্রস্তাবের বিরোধিতা বা আশঙ্কাও একেবারে অমূলক নয়। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত পরীক্ষার চাপ বাড়বে, কোচিং নির্ভরতা তৈরি হতে পারে, দুর্বলভাবে নকশা করা হলে এটি আবারও শুধু নম্বরের প্রতিযোগিতায় পরিণত হতে পারে। কিন্তু এসব ঝুঁকি পরীক্ষার ধারণাকে বাতিল করার কারণ নয়; eis পরীক্ষাটি কীভাবে ন্যায্য, বৈজ্ঞানিক, competency-based এবং transparent করা যায়, সেটি নিশ্চিত করার কারণ। নীতি নির্ধারকদের মনে রাখতে হবে-একটি ভালো licensing exam চিকিৎসা শিক্ষাকে উন্নত করে, আর একটি খারাপ licensing exam শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ায়। কাজেই পরীক্ষার নকশা, governance, standard setting, item development, psychometric analysis এবং quality control-সবকিছু আন্তর্জাতিক মানে করতে হবে।

সবশেষে বলতে হয়, বাংলাদেশের চিকিৎসাশিক্ষার বর্তমান সংকটের সমাধান শুধু নতুন মেডিকেল কলেজ খোলা নয়, শুধু নতুন আইন করা নয়, শুধু আরও সিট বাড়ানোও নয়। আমাদের দরকার একটি সমন্বিত reform package:  বিদ্যমান মেডিকেল কলেজগুলোর কঠোর পুনর্ম‚ল্যায়ন, শিক্ষক সংকট নিরসন, অবকাঠামো ও teaching hospital capacity উন্নয়ন, curriculum আধুনিকীকরণ, accreditation -কে শক্তিশালী করা, এবং সর্বোপরি BMLE -এর মতো একটি জাতীয় licensing framework চালু করা। একই সঙ্গে BMDC-এর ভূমিকা পুনঃসংজ্ঞায়িত করে তাকে professional licensing bodz হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা এবং চিকিৎসা শিক্ষা পরিচালনার জন্য আলাদা জাতীয় সংস্থা গঠন করা এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে- আমরা কি শুধু আরও বেশি MBBS ডিগ্রি দিতে চাই, নাকি এমন চিকিৎসক তৈরি করতে চাই যারা দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম, নিরাপদ চিকিৎসা দিতে সক্ষম, এবং আন্তর্জাতিক মানের পেশাগত সক্ষমতা নিয়ে দাঁড়াতে সক্ষম? যদি দ্বিতীয়টিই আমাদের লক্ষ্য হয়, তবে চিকিৎসা শিক্ষার শাসনব্যবস্থা, স্বীকৃতি কাঠামো এবং লাইসেন্সিং পদ্ধতিতে মৌলিক সংস্কার আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। BMLE সেই সংস্কারের একটি কেন্দ্রীয় অংশ হতে পারে-কিন্তু তার সাফল্য নির্ভর করবে আমরা কতটা আন্তরিকভাবে মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে অগ্রাধিকার দিই তার ওপর।

 

লেখক: রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, সেইন্ট জন রিজিওনাল হসপিটাল, নিউ ব্রুান্সউইক; এসিস্টেন্ট প্রফেসর, ডালহাউসী ইউনিভার্সিটি, কানাডা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট