চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ চমক

বিনোদন ডেস্ক

২১ আগস্ট, ২০২৩ | ৪:০২ অপরাহ্ণ

শুটিং সেটে তর্কাতর্কি, পুলিশ ডাকার পাশাপাশি নির্মাতা ও সহশিল্পীদের সঙ্গে অসদাচরণের জন্য আগামী তিন মাস ছোটপর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমককে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি এ অভিনেত্রীকে সব ধরনের নাটক-টেলিফিল্মের কাজেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সোমবার (২১ আগস্ট) দুপুরে নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টর গিল্ডসের নেতাদের সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।

প্রথম থেকেই সহশিল্পীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে আসছিলেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। কিন্তু পরে দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা বলার পর দেখা যায়, আসলে ভুল ছিল চমকেরই। এ জন্য সবার কাছে দুঃখপ্রকাশসহ তাকে আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেওয়ার কথা জানিয়েছিল অভিনয়শিল্পী সংঘ। তখন ধারণা করা হয়েছিল, চমককে নাটক পাড়ায় নিষিদ্ধও করা হতে পারে। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ডিরেক্টরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সাগর। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ প্রমাণিত রুকাইয়া জাহান চমকের সঙ্গে আমরা ডিরেক্টরস গিল্ডের কোনো সদস্য আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী তিন মাসের জন্য টেলিভিশন ও ডিজিটাল মাধ্যমে সব ধরনের নির্মাণ থেকে বিরত থাকব।’

নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো নির্মাতা যদি চমককে নিয়ে কাজ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সাফ জানিয়েছে ডিরেক্টরস গিল্ড।

শুধু তাই না, নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হলেও আগস্টের মধ্যেই অভিযোগকারী নির্মাতার আর্থিক ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে চমককে। এ বিষয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে নির্মাতার আর্থিক ক্ষতি যা হয়েছে, সেটা পরিশোধ করবেন এবং থানা থেকে জিডি প্রত্যাহার করে নেবেন। অন্যথায় আমরা নতুন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।

গত ৪ আগস্ট উত্তরার একটি শুটিং বাড়িতে আদিব হাসান পরিচালিত ‘শ্বশুর বাড়িতে প্রথম দিন’ নাটকের দ্বিতীয় দিনের শুটিংকে কেন্দ্র করে চমকের বিরুদ্ধে দেরি করে সেটে আসার অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়ে তার বিরুদ্ধে ডিরেক্টরস গিল্ডে অভিযোগও দেওয়া হয়।

চমকের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়, ৪ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার একটি শুটিং হাউসে ‘শ্বশুর বাড়িতে প্রথম দিন’ নাটকের শুটিং চলছিল। সময়মতো শুটিংয়ে না আসায় ফোন করা হলে তিনি দুর্ব্যবহার করেন।

এই অভিযোগ অস্বীকার করেন চমক। তিনি বলেন, ‘আমি শুটিংয়ে দেরি করে আসিনি। ১১টায় শুটিং সেটে পৌঁছেছি। মেকআপ রুমে এক ঘণ্টার মত অপেক্ষা করেছি। এরপর আমার সহকর্মী আরশ খান আসেন। তাহলে আমি পরে এসেছি এটা কীভাবে অভিযোগ করেন তারা।’

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আরশ খান ও নির্মাতা আদিব হাসানের চক্রান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “অভিনেতা আরশ খান ও নির্মাতা মিলে চক্রান্ত করে এটি ছড়াচ্ছে। কারণ আরশ আমার খুব ভালো বন্ধু ছিল। একটা সময় বন্ধুর চেয়ে বেশি কিছু হতে চায় সে। যে কারণে আমাদের মাঝে দূরত্ব বাড়ে। সেই রাগ আর ক্ষোভ থেকেই তিনি এটা ছড়াচ্ছেন।” এর জবাবে আরশ খান বলেন, “শুটিং সেটে হওয়া ঝামেলা থেকে মনযোগ অন্যদিকে ফেরাতে চমক এই অভিযোগ করেছেন।”

এরপর গত ১৩ আগস্ট বিষয়টি নিয়ে অভিনয়শিল্পী সংঘের বিচার সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে চমক দোষী প্রমাণিত হলে তাকে চার দফা সাংগঠনিক শাস্তি দেয় সংগঠনটি। তবে সেই শাস্তি যথেষ্ট নয় বলে দাবি করে নির্মাতাদের সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড। এ কারণেই তারা নতুন করে চমকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।

২০১৭ সালে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছিলেন চমক। একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করেছেন তিনি। ঢাকায় সাংস্কৃতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা চমক শৈশব থেকেই নাচ শিখতেন। সেই থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ। বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট