চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

ভিজিডির চাল ও পঙ্গু ভাতায় তালিকাভুক্ত করতে দৌছড়িতে টাকা নেয়ার অভিযোগ

শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি

১৪ মে, ২০১৯ | ২:১০ পূর্বাহ্ণ

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দৌছড়ি ইউনিয়নের বাঁকখালী এলাকায় দুস্থ ও অসহায় নারীদের ভিজিডি এবং পঙ্গু ভাতার তালিকায় নাম দেয়ার কথা বলে আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জালাল আহাম্মদ বাচ্ছুরু নামের ওই ব্যক্তি দৌছড়ি ইউনিয়নের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা। তাকে টাকা দেয়ার পরও ভিজিডি ও পঙ্গু ভাতার তালিকায় নাম না ওঠায় ক্ষুব্ধ একই এলাকার শফি উল্লাহর স্ত্রী ছালেহা বেগম ওই নেতার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিয়া আফরিন কচির কাছে অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ৫/৬ মাসের মাঝামাঝি জালাল আহাম্মেদ বাচুরু ভিজিডির এবং পঙ্গু ভাতা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ওই এলাকার শফি উল্লাহর স্ত্রী ছালেহা বেগমের কাছে ভিজিডি এবং তার পঙ্গু ছেলেকে ভাতা পাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এক হাজার টাকা চান। ছালেহা বেগম তাকে এক হাজার টাকাসহ ভিজিডির জন্য দুই কপি ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পঙ্গু ছেলের জন্য ছবি দেন। কিন্তু ভিজিডি ও পঙ্গু ভাতা পাওয়ার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশে ছালেহা এবং পঙ্গু ছেলে ওমর সাঈদের নাম না থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হন।
গত ১৭ এপ্রিল বুধবার ১ নম্বর ওয়ার্ডের দৌছড়ি ইউনিয়নের বাঁকখালী গ্রামের অভিযোগকারী ছালেহা বেগমের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি জানান, ভিজিডি কার্ড এবং পঙ্গু ভাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতা জালাল আহাম্মেদ বাছুরু তার কাছ থেকে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ এক হাজার টাকা নেন। পরে জানতে পারেন, তালিকায় তার নাম নেই। এরপর তিনি উপজেলায় গিয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে একই গ্রামের আরও সাত-আটজন নারীর। এরা হলেন নুর হোসেনের স্ত্রী দিলারা বেগম, মো. হোছাইনের স্ত্রী পারভীন আক্তার, মো, আব্দুলের স্ত্রী জুহুরা বেগম, ছলিম উল্লাহর স্ত্রী রাশেদা বেগম, মো আবুর স্ত্রী ইসমতারা বেগমসহ অনেকের। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতা হিসেবে ভয়ে তারা লিখিত অভিযোগ করেননি।
গ্রামের রাশেদা বেগম, দিলারা বেগম, পারভীন আক্তার ও ইসমতারা বেগম জানান, ১নং ওয়ার্ডের নুরুল ইসলাম মেম্বারের সাথে চেয়ারম্যান হাবীব উল্লাহর দূরত্ব থাকায় ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময়ে তার লোক দিয়ে কাজ করে থাকেন। ভিজিডি কার্ড, পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম ভুল সংশোধন, পঙ্গু ভাতা পাওয়ার চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলে আওয়ামী লীগ নেতা জালাল আহাম্মেদ বাছুরু ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে একই এলাকার নজির আহাম্মদ বাছুরুর মাধ্যমে তাদের কাছে টাকা চেয়েছেন। তবে গত উপজেলা নির্বাচনে জালাল আহাম্মেদ বাছুরুর কথামতো ভোট না দেয়ায় ভিজিডি ও পঙ্গু ভাতার তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। এ যাবত টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। পঙ্গু ওমর সাঈদ চিকিৎসার অভাবে গত ২১ এপ্রিল রবিবার মারা যায়।
টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে জালাল আহাম্মেদ বাছুরু বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন কাজ করেন। তবে ভিজিডির তালিকায় নাম উঠানোর জন্য টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন।
ইউপি চেয়ারম্যান হাবীব উল্লাহ বলেন, ভিজিডি কার্ড করার জন্য কোনো টাকা নেওয়া হয় না। নেয়া হয়েছে ইউপি চৌকিদারী টেক্সের টাকা। যারা তালিকাভুক্ত হয়েছেন, কেউ এ ধরনের অভিযোগ করতে পারবেন না। কার্ড না পেয়ে এ ধরনের অভিযোগ অনেকে করতে পারেন।
ইউএনও সাদিয়া আফরিন কচি বলেন, অভিযোগ পেয়ে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুসকে সরজমিনে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সত্যতা পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষি অফিসার জানান, তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে সঠিক তথ্য নিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করবো।
অভিযোগকারী ছালেহা বেগম জানান, আমি অভিযোগ করেছি। তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও শুনেছি। তবে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার ঘরে বসে তদন্ত করলে তাতে সঠিক তদন্ত হবে কিনা সন্দেহ থাকে। তার জন্য দৌছড়ি ইউনিয়নের ১ নং বাঁকখালী ওয়ার্ডে সরেজমিনে তদন্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট