চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন

শঙ্খ নদীতে চলছে ব্রিজ নির্মাণকাজ

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ

১২ মে, ২০১৯ | ১:৫২ পূর্বাহ্ণ

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের রেললাইন নির্মাণের কাজ। চট্টগ্রামের সাথে পর্যটননগরী কক্সবাজারের রেল যোগযোগ চূড়ান্তভাবে চালু হবে ২০২২ সালে। তারপর উন্মোচিত হবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অপার সম্ভাবনার দ্বার। যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাধিত হবে আমূল পরিবর্তন।
সরকারের ক্ষমতার ধারাবাহিকতা থাকায় শুরু হয়েছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণের কাজ।
জানা যায়, চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়া, ঈদগাঁও, রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত
সম্প্রতি রেললাইন প্রকল্পের কাজের সার্বিক অগ্রগতি পরিদর্শনের জন্য কক্সবাজারে আসেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজনসহ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, কক্সবাজারের সাথে রেলপথ সংযুক্ত হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে। পর্যটকরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারবেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোহাজারী থেকে সাতকানিয়া, লোহগাড়া, চকরিয়া, রামু ও কক্সবাজার পর্যন্ত উপজেলার ঝিলংজা ও রামুর প্রকল্প এলাকায় বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। কিছু স্থানে রাস্তা নির্মাণ ও মাটি ভরাটের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। কিছু জায়গায় জিও টেক্সটাইল বসানো হচ্ছে। গাড়ি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করছেন শত শত শ্রমিক। শঙ্খ নদীর ব্রিজের ওপর রেললাইনের ৫টি পিলার স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে অনেকাংশে সম্পন্ন হয়েছে।
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেললাইনের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. মফিজুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার ভূমি অধিগ্রহণও শেষ হয়েছে। কক্সবাজার সদরেই ঝিনুক আকৃতির রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ কাজও এগিয়ে চলছে। ঝিনুক আকৃতির এ স্টেশন দেখলেই বোঝা যাবে এটি সমুদ্র সৈকতের রেলওয়ে স্টেশন। তিনি জানান, কক্সবাজারের ঈদগাঁও মৌজায় ক্যাম্প অফিস কাম কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড, রামুতে মেটেরিয়াল টেস্টিং ল্যাবরেটরি নির্মাণ শেষ হয়েছে। ১২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার অংশে ব্যাকফিলিংসহ মোট ২৯ কিলোমিটার অংশে এম্বাস্কমেন্ট নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। ৪ দশমিক ৭০ কিলোমিটার অংশে জিও টেক্সটাইল ও সেন্ডব্লাংকেট স্থাপন ও ১ দশমিক ১৮ কিলোমিটার অংশে পিভিডি স্থাপন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ৩৫ কোটি টাকা। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, রামু হবে জংশন স্টেশন। সেখান থেকে একটি লাইন চলে যাবে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশে। অপর একটি রেললাইন পূর্বদিকে মিয়ানমারের কাছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম পর্যন্ত পৌঁছাবে। এ রেলওয়ে নেটওয়ার্ক মিয়ানমার-বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান-ইরান হয়ে যাবে ইউরোপের তুরস্ক পর্যন্ত।
সৈকতের স্টেশনটি হবে বিশাল ঝিনুক আকৃতির। এ ঝিনুকের ভিতরেই হবে প্লাটফর্ম, যাত্রী আসা-যাওয়া ও বসার লাউঞ্জ। প্রকল্পের কাজের তদারকি করছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে।
রেলপথ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পর্যটক ও স্থানীয় জনগণের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন ঘটবে। সহজ ও কম খরচে মাছ, লবণ, কাগজের কাঁচামাল, বনজ ও কৃষিজ দ্রব্যাদি পরিবহন করা যাবে। দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কি.মি. রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কি.মি. ও রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ১২৮ কি.মি. রেলপথে স্টেশন রয়েছে ৯টি, শভ হচ্ছে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চকরিয়ার সাহারবিলের রামপুর, ডুলাহাজারা, ঈদগাঁও, রামু, কক্সবাজার, উখিয়া ও ঘুমধুম।
এতে কম্পিউটার বেইজড, ইন্টারলক সিগন্যাল সিস্টেম থাকবে ৯টি, ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম থাকবে ৯টি। শঙ্খ, মাতামুহুরী, বাঁকখালী নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে সেতু। এছাড়া ৪৩টি মাইনর সেতু, ২০১টি কালভার্ট, সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া এলাকায় একটি ফ্লাইওভার, ১৪৪টি লেভেল ক্রসিং, রামু ও কক্সবাজার এলাকায় দুটি হাইওয়ে ক্রসিং নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে এ প্রকল্পে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে করিডোরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন হয়ে যাবে। যার কারণে আঞ্চলিক, উপ-আঞ্চলিক রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে সিল্ক রুট (চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ) ও ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে বিদ্যমান রেলপথটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট