চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

দক্ষিণ জেলা বিএনপি : বিভক্তি-সংঘাতে শক্তি ক্ষয়

মোহাম্মদ আলী 

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে এসব কি হচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সবার। কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ও পদবঞ্চিতদের অসন্তোষ এখন দলের সবখানে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে বেড়েছে বিভক্তিও। এর মধ্যে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দীর্ঘদিন ধরে বাইরে থাকা পটিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েলের বাসায় বৈঠক নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে আরো নানা কৌতূহল ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত ২০ সেপ্টেম্বর দলের নাসিমন ভবনস্থ কার্যালয়ের সামনে নিজ দলের কর্মীদের হামলায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খান ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল হোসেন রবি গুরুতর আহত হলে দলের মধ্যে বিভক্তি আরো তীব্র হয়ে ওঠে।

সরকারের পদত্যাগসহ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে আগামী ৫ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে ফেনী, মিরসরাই হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রোডমার্চ কর্মসূচি নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে গত বুধবার দলের নেতারা সভা করছিলেন নগরীর কাজীর দেউড়ির নাসিমন ভবনে বিএনপি কার্যালয়ে। এ সভায় অংশগ্রহণের কথা ছিল দলের নেতাদের। কিন্তু এ সভায় পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপির দ্বিধাবিভক্ত দুই গ্রুপ কেন সংঘর্ষে জড়াল- এ প্রশ্ন এখন সবার।

দলের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনে যোগ্যদের বাদ দিয়ে নতুন নতুন কমিটি ঘোষণা করার কারণে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে। এর আগে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কোন্দলে জড়িয়ে পড়েন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম ও সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান। এনামুল হক এনামকে মোস্তাক আহমেদ খানের দেওয়া এক কোটি ১৫ লাখ টাকার দুইটি চেক ডিজঅনার নিয়ে দুইজনেই একে অপরের বিরুদ্ধে মামলায় জড়িয়ে পড়েন। তাতে বেশ কিছুদিন ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে মাঠে নেই মোস্তাক আহমেদ খান। এ নিয়ে দুই নেতার অনুসারীদের নিয়ে দলের মধ্যে দুইটি বলয় সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন এনামুল হক এনামের অনুসারীরা। তাতে দলের মধ্যে অনেকটা কোনঠাসা মোস্তাক আহমেদ খান।

তাই দলের কোন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির বাইরে থাকা পটিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েলকে মাঠে আনার চেষ্টা চালান মোস্তাক আহমেদ খান। তাতে তিনি অনেকটা সফলও হন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর গাজী শাহজাহান জুয়েলের নগরীর বাসায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির বর্তমান ও সাবেক নেতৃত্বের একাংশকে নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মোস্তাক আহমেদ খানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির অনেকে এ বৈঠককে দলের মধ্যে ‘নতুন মেরুকরণ’ বলেও উল্লেখ করে ছিলেন। কিন্তু এ বৈঠকের পাঁচ দিনের মাথায় গত ২০ সেপ্টেম্বর দলের নাসিমন ভবনস্থ কার্যালয়ের সামনে নিজ দলের কর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমদ খান ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল হোসেন রবি। এমন কি ওই বৈঠকে যোগ দিতে দিতে এসে দলের একাংশের ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগানের শিকার হন গাজী শাহজাহান জুয়েল। ফলে এ নিয়ে দক্ষিণ জেলা বিএনপিতে কোন্দলের মাত্রা এখন সীমাহীন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। তাতে রীতিমত হতাশ দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।

পটিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘বিগত ওয়ান-এলেভেনের পর রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন না গাজী শাহজাহান জুয়েল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হেরে তিনি পটিয়ায় স্বশরীরে আর কোন রাজনৈীতিক কর্মসূচিতে উপস্থিত হননি। পটিয়ার বিএনপি নেতাকর্মীরা মামলায় জর্জরিত। অথচ গাজী শাহজাহান জুয়েলের বিরুদ্ধে থানায় একটি জিডিও নেই। তাই দলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ২০ সেপ্টেম্বর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ সেøাগান দেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাছাড়া মোস্তাক আহমেদ খান বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনে বাণিজ্য করেন। এতে দলের ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা তার উপর হামলা করেছে বলে শুনেছি।’ অভিযোগ প্রসঙ্গে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, নতুন কমিটি ঘোষণায় কারো কাছ থেকে বাণিজ্য করেছি- এমন অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারলে আমি দলের পদ ও সাধারণ কর্মী থেকে পদত্যাগ করবো। ২০ সেপ্টেম্বর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এনামের পক্ষে সেøাগান দিয়ে তারা আমার উপর অমানবিক হামলা করেছে। অথচ গত ৪০ বছর ধরে আমি দল করছি। ছাত্রদল, যুবদল ও সর্বশেষ বিএনপি করছি। আজ আমাকে দলের নেতাকর্মীর হামলার শিকার হতে হলো, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এনামুল হক এনাম বিএনপিতে এসেছেন ১০/১২ বছরও হয়নি। তার মধ্যে স্বৈরাচারী মনোভাব রয়েছে। তাতে দলের নেতাকর্মীরা এখন হতাশার মধ্যে রয়েছেন।’ পটিয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য গাজী শাহজাহান জুয়েল বলেন, ‘কারো প্রতি আমার বিদ্বেষ নেই। যারা পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করে তারাই উঠে আসুক, তাতে দলের মঙ্গল হবে। অন্যথা দক্ষিণ জেলা বিএনপির মধ্যে শান্তি আসবে না। বিভক্ত হবে তরুণ প্রজম্ম।’

 

 

 

পূর্বকোণ/এসি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট