চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১২ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

বাঁধা গেল না আলু ডিম-পেঁয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে দাম বেঁধে দিয়েছে সেই দামে হিমাগার থেকে আলু কেনা যাচ্ছে না, এমন দাবি খুচরা ব্যবসায়ীদের। গতকাল মুন্সিগঞ্জসহ যেখান থেকে সারাদেশে আলু সরবরাহ হয় সেসব এলাকার হিমাগারেই আলুর কেজি ছিল সাড়ে ৩৮ টাকা। আর মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দাম হল হিমাগার পর্যায়ে ২৬ থেকে ২৭ টাকা এবং খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এবং রিয়াজুদ্দিন বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি হিমাগারগুলোতে অভিযান না চালালে আলুর দামে লাগাম টানা যাবে না।

 

অথচ বাজারে লাগাম টানতে আলু, ডিম ও পেঁয়াজের দাম বেঁধে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। যা গতকাল শুক্রবার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। রিয়াজউদ্দিন বাজার, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এবং খুচরা বাজার দুই নম্বর গেটস্থ কর্ণফুলী কমপ্লেক্সসহ কয়েকটি কাঁচাবাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দাম কমেনি। কোথাও কোথাও বেড়েছে।

 

গতকাল শুক্রবার ষোলশহর দুই নম্বর গেটে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজি ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় এবং দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। আলু বিক্রি হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। এছাড়া আকার ভেদে (মাঝারি ও বড়) প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। খুচরায় একটি ডিম ১৩ টাকার বেশিও পড়ে। গতকাল শুক্রবার নগরীর এ তিন বাজারে তিনটি পণ্যের এমন চিত্র দেখা যায়।

 

চাক্তাইয়ের পাইকারী ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন পূর্বকোণকে জানান, কিছু সিন্ডিকেট আলুর মৌসুমে কম দামে কিনে হিমাগারে জমা করে রেখেছে। এদের মধ্যে অনেকেই প্রকৃত ব্যবসায়ী নয়। তারা এখন বেশি দামে বিক্রি করছে। এ কারণে আলুর দাম বেশি। এখন আড়তদাররা আলু সাড়ে ৩৮ টাকায় বিক্রি করছে। আমরা ৩৯ টাকা বিক্রি করছি। খুচরায় আসতে আসতে দাম বেড়ে যাচ্ছে। আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে বাজারে নয়, হিমাগারে অভিযান চালাতে হবে। তবেই আলুর দাম কমবে।

 

খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ খান মার্কেট কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস পূর্বকোণকে বলেন, মন্ত্রণালয় দেশি পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করেছে। চট্টগ্রাম দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় না বললেই চলে। বর্তমানে কৃষকের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে প্রতি মণ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকায়। কেজি প্রায় ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। অথচ মন্ত্রণালয় বলেছে দেশি পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৫৩ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি করতে। এর দাম কমাতে হলে কৃষকের ঘরে অভিযান চালাতে হবে। সেটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। তবে চট্টগ্রামে এই পেঁয়াজ তেমন বিক্রি হয় না। তাই এ নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। মন্ত্রণালয় আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিয়ে কোন কথা বলেনি। এর কোন প্রভাবও আমদানি করা পেঁয়াজের দামে পড়েনি। খাতুনগঞ্জে পাইকারিতে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৫৮ টাকায়।

 

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ডিম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুস শুক্কুর লিটন পূর্বকোণকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উৎপাদন পর্যায়ে ডিমের দাম নির্ধারণ করেছে সাড়ে ১০ টাকা। আর খুচরা পর্যায়ে ১২ টাকা। কিন্তু বাস্তবতা হল খামারি থেকে আড়তদার হয়ে পাহাড়তলী পাইকারি বাজারে ডিম পৌঁছানের পর যে দামে বিক্রি করতে হচ্ছেতাতে খুচরা পর্যায়ে কোনভাবেই ১২ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব নয়। গত পাঁচদিন ধরে ডিমের পাইকারি দর চলছে প্রতিটি ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১ টাকা ৪০ পয়সা। পাহাড়তলী বড় পাইকার থেকে ছোট পাইকার এই দামে ডিম কিনে আবার গলির দোকানে বিক্রি করবে। সেখান থেকে খুচরা ক্রেতার হাতে পৌঁছবে। পরিবহন খরচ, নষ্ট হওয়াসহ নানা খরচ যোগ করার পর ডিমের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আসলে ডিমের দাম কমাতে হলে আগে পোল্ট্রি খাবারের দাম কমাতে হবে। তাহলেই দাম কমবে।

 

তবে দুই নম্বর গেট কাঁচাবাজারে কুমিল্লা ডিমের আড়ত নামের দোকানের স্বত্বাধিকারী মাসুদ রানা বলেন, গতকাল পাহাড়তলী পাইকারি বাজার থেকে ১শ’ পিস ডিম কিনতে হয়েছে এক হাজার ২৪০ টাকায়। তাহলে কোথায় দাম কমলো। বেশি দামে কিনলে তো বেশি দামেই বিক্রি হবে। এসময় তিনি আরো বলেন, দাম কমাতে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। তবে অবশ্যই আগে পাইকারি বাজারের আড়তগুলোতে। তারা কমালেই খুচরায় দাম কমবে।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট