চট্টগ্রাম বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে ধীরগতি, শিক্ষার্থীদের অন্তহীন ভোগান্তি

ইমরান বিন ছবুর

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন নন্দনকাননস্থ কৃষ্ণকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। একই সময়ে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া পাথরঘাটা মেনকা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ তলার কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে, কৃষ্ণকুমারী বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকাদারের ধীরগতির কাজের কারণেই এখনো নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারছে না বলে অভিযোগ কৃষ্ণকুমারী বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের।

 

২০১৮ সালের জুনে কৃষ্ণকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ভাঙা হয়। এরপর থেকে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থায়ীভাবে ক্লাস করছে কৃষ্ণকুমারী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে বেলা ১২টা ৫ মিনিট পর্যন্ত চলে কৃষ্ণকুমারী বালিকা বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম। এরপর বেলা ১২টা থেকে শুরু হয় মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুলের শ্রেণি কার্যক্রম। তবে ছাত্রীদের ছুটি হওয়ার আগেই ছাত্ররা স্কুল প্রাঙ্গণে চলে আসে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবকরা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্লাসরুমের সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়াও ছুটি শেষে ছাত্রীদের বের হওয়ার সময় ধাক্কাধাক্কি করতে হয়।

 

জানা যায়, নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন নন্দনকাননস্থ কৃষ্ণকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করা হয় ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর। ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে দেড় বছর মেয়াদী ছয়তলা বিশিষ্ট ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২২ সালের এপ্রিলে। দেড় বছরে ছয়তলা ভবন নির্মাণের জায়গায় তিন বছরে নির্মাণ করা হয়েছে তিনতলা পর্যন্ত। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. দিলদার হোসেন।

 

তিন বছরেও স্কুলভবন নির্মাণ না হওয়ার প্রসঙ্গে এক অভিভাবক বলেন, নির্ধারিত সময়ে স্কুল ভবন নির্মাণ না হওয়া এটা সত্যিই দুঃখজনক। তাছাড়া, কৃষ্ণকুমারী বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ছুটি হওয়ার আগেই মিউনিসিপ্যাল বিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকে। এ কারণে অনেক নারী অভিভাবক এবং ছাত্রীরা বিব্রতবোধ করেন। এছাড়াও ক্লাসরুমের সংকট তো রয়েছে।

 

কৃষ্ণকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাত ও দিবা শাখা মিলে মোট ১ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে জানা যায়।

 

জানতে চাইলে কৃষ্ণকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আক্তার হোছাইন বলেন, আমাদের একইসাথে পাথরঘাটার মেনকা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বর্তমানে তাদের চতুর্থ তলার কাজ শেষ করে পঞ্চম তলার কাজ চলছে। অন্যদিকে, সম্প্রতি আমাদের বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার কাজ চলছে। দেড় বছর মেয়াদের ছয়তলার এই ভবন নির্মাণের কাজ তিন বছরেও শেষ না হওয়া সত্যিই দুঃখজনক।

 

তিনি আরো বলেন, মেয়েদের স্কুল ছুটির পর অভিভাবকসহ মেয়েরা একে একে স্কুল থেকে বের হতে থাকেন। একই সময়ে মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুলের ছাত্ররা ক্লাসে আসার জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে। এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিভাবকরা আমাদের সাথে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মূলত অভিভাবকদের ভাষ্য হচ্ছে বালিকা বিদ্যালয় হবে নিরিবিলি। যেখানে বাইরের কেউ প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।

 

জানতে চাইলে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. দিলদার হোসেন বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ দেড় বছর থাকলেও পরবর্তীতে তা বৃদ্ধি করে ২০২৫ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের ধীরগতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় নির্মাণের কাজ শেষ করবো। তাছাড়া, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভবনের তৃতীয় তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজ শেষ করে আমরা পাঠদানের উপযোগী করবো।

 

এ ব্যাপারে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শাহ জাব্বারিয়া সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন