চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

সীমাবদ্ধতার বেড়াজালেও প্রসূতি সেবায় সাফল্য

সীমাবদ্ধতা দূর হলে সাফল্য আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব’

ইমাম হোসাইন রাজু

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১২:০৭ অপরাহ্ণ

বছর দুয়েক আগেও সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতী নারীদের স্বাভাবিক প্রসবের বাইরে অস্ত্রোপচারের (সিজার) কথা চিন্তাও করা যেত না। ওই সময়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অস্ত্রোপচার কক্ষসহ কোনো সুযোগ সুবিধাই ছিল না এ হাসপাতালটিতে। জরুরি মুহূর্তে গর্ভবতী নারীদের সরাসরি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দিতেন চিকিৎসকরা। তবে সেই চিত্র পুরোপুরি বদলেছে। বর্তমানে হাসপাতালটিতে অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি নিয়মিতই হচ্ছে স্বাভাবিক প্রসব।

 

হাসপাতালটির প্রধান ডা. মো. নুর উদ্দিন রাশেদ বলেন, ‘একটা সময় অস্ত্রোপচার কক্ষ ছিল না। ছিল না অপারেশন থিয়েটার টেবিল, লাইট ও যন্ত্রপাতিও। এছাড়াও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকটও ছিল প্রকট। কিন্তু এখন সবই হয়েছে। শুধুমাত্র গত এক মাসেই ১৫৮টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। হয়েছে তিনটি সিজারও। প্রসূতিদের সেবার চিত্রও অনেক বদলেছে।’

 

শুধু হাসপাতালটির চিত্রই বদলায়নি। খবর নিয়ে জানা গেছে- অনেকটাই পাল্টেছে চট্টগ্রামের অন্য সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোও। যদিও অবকাঠামো, আধুনিক যন্ত্রপাতি, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত জনবল না থাকাসহ রয়েছে নানা ধরণের সীমাবদ্ধতা। তবুও এত বেড়াজালের মধ্যে ভালো সেবা দিয়ে প্রসূতি মায়েদের নিরাপদ সেবার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো। বর্তমানে ধারাবাহিক সাফল্যও রেখে চলেছে এসব হাসপাতাল।

 

তথ্য অনুসারে, চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ১৮টি গাইনি ও স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ রয়েছে। এরমধ্যে ১৭ জন কর্মরত থাকলেও তাদের মধ্যে একজন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে অন্যজন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে সংযুক্তিতে কর্মরত রয়েছেন। এ দু’জন ছাড়া বর্তমানে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে গাইনি চিকিৎসক আছেন ১৫ জন। তবে সংকটের মধ্যেও ১৫ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিতই স্বাভাবিক প্রসব হচ্ছে। এসব হাসপাতালে প্রতিমাসেই গড়ে শতাধিক স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি হচ্ছে সিজার কার্যক্রমও।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন- বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট থাকা সত্ত্বেও ভরসার কমতি হয়নি। যদিও এনেসথেসিস্ট (অজ্ঞান করার বিশেষজ্ঞ) না থাকায় কয়েকটি উপজেলায় অস্ত্রোপচার কার্যক্রম সচল নয়, তবে স্বাভাবিক প্রসব বন্ধ নেই কোথাও। সকল সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ধাত্রী বিদ্যায় প্রশিক্ষিত নার্সরা স্বাভাবিক প্রসব করানোর কাজ করে যাচ্ছেন। সাফল্য দেখাচ্ছেন প্রসূতি সেবায়।

 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও হাসপাতালের স্ত্রী ও প্রসূতি রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তার বলেন, ‘পুরোপুরি সম্ভব না হলেও সব উপজেলাতেই বর্তমানে প্রসূতি সেবা অনেক উন্নতি হয়েছে। বেসরকারিভাবেও উপজেলা পর্যায়ে প্রসূতি সেবা অনেক এগিয়েছে। একসময় কিছুই হতো না। সরকারিভাবে এ সেবার মান আরও বৃদ্ধির সুযোগ আছে। এ জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত জনবল। জনবল থাকলে সবকিছুই সম্ভব হবে। এ সীমাবদ্ধতা দূর হলে সাফল্য আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’

 

প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল এন্ড গাইনোকলজিক্যাল সোসাইটি অফ বাংলাদেশ (ওজিএসবি) চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামরুন নেসা রুনা বলেন, ‘একসময়ে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে নিরাপদ সিজার কিংবা নরমাল ডেলিভারির কথা চিন্তাও করা যেত না। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতালেই তা হচ্ছে। যার ফলে মাতৃমৃত্যুর হারও এখন অনেক কমেছে।

প্রসূতি সেবায় শহরের তুলনায় উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো কোন অংশে পিছিয়ে নেই। কম-বেশ সব হাসপাতালেই গাইনি চিকিৎসক আছেন। যদিও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, তবুও সেবাদানের ক্ষেত্রে অনেক বড় অর্জন রয়েছে। তাছাড়া কিছু কিছু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনেসথেসিস্ট (অজ্ঞান করার চিকিৎসক), ব্লাড ব্যাংক ও যন্ত্রপাতি না থাকায় জরুরি সিজার কার্যক্রম ব্যঘাত ঘটছে। আধুনিক প্রসূতি কেন্দ্র গড়ে তুলতে অবশ্যই নিত্যনতুন যন্ত্রপাতিসহ চিকিৎসক ও জনবল বৃদ্ধি করার প্রয়োজন আছে।’

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট