চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

সেই বানরটির চিকিৎসা চলছে এখন সিভাসুতে

চিকিৎসা নিতে নিজেই হাসপাতালে এসে তোলপাড়

সৌমিত্র চক্রবর্তী 

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

সীতাকুণ্ড হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে তোলপাড় সৃষ্টি করা সেই বানরটিকে অবশেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিভাসুতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এটির উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

 

গতকাল (সোমবার) উপজেলা প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকা থেকে বানরটিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিলেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা আরজু।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে এসে অসচেতন জনতার ধাওয়া খেয়ে রক্তাক্ত আহত হয় একটি বানর। এরপর এটির শরীর রক্তাক্ত ক্ষত হয়ে গেলে চিকিৎসার আশায় সেটি সীতাকু- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশে ঘুরতে থাকে। সব শেষে শনিবার বানরটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাশে ঘুরতে থাকলে তারা বানরটির শরীরে ওষুধ দিয়ে ক্ষত’র ব্যথা দূর করার চেষ্টা চালান। কিন্তু পরদিন (রবিবার) বিকালে বানরটি আবারো স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এসে বসে থাকে। বানরটি দেখে এগিয়ে আসেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাও। শেষে তিনি বানরটির ক্ষত স্থানে ড্রেসিং করে ওষুধ প্রদান শেষে ব্যান্ডেজ করে দেন। এসময় বানরটি চুপচাপ বসে চিকিৎসা গ্রহণ করছিলো। চিকিৎসা শেষে সেটি বাগানের গাছে ফিরে যায়। কিন্তু সোমবার (গতকাল) সকালে বানরটি আবারো হাসপাতালে আসে। এতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা বানরটির পূর্বের ব্যান্ডেজ খুলে পুনরায় ড্রেসিং করে দেন। এদিকে একটি বানর প্রতিদিন হাসপাতালে আসার এই খবর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বারবার বন বিভাগ ও প্রাণী সম্পদ কার্যালয়কে জানাতে থাকলে সোমবার (গতকাল) সকালে চিকিৎসা শেষে এটিকে প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ে নিয়ে যান ঐ বিভাগের কর্মকর্তা প্রিয়ঙ্কা চৌধুরী। এসময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য মানুষ উপস্থিত হয়ে বানরটিকে কৌতূহল ভরে দেখেন।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ জানান, খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসা বানরটি অসচেতন জনতার ধাওয়া খেয়ে দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে গুরুতর আহত হয়। বানরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত ক্ষত হয়। ক্ষত নিয়ে এটি  প্রতিদিন হাসপাতালে আসতে থাকে। প্রথম দিন আমরা এটিকে সামান্য কিছু ওষুধ দিই। তাতে বানরটি চলে গেলেও পরদিন রবিবার বিকালে সেটি আবারো আমার কার্যালয়ের সামনে এসে পৌঁছায়। এসময় আমি সেটির ক্ষতস্থান ড্রেসিং করে ব্যান্ডেজ ও ওষুধ দেবার পাশাপাশি বন বিভাগ ও প্রাণী সম্পদ কার্যালয়কে খবর দিই। কিন্তু দু’দিনেও তাদের কোন সাড়া পাইনি। সোমবার (গতকাল) সকাল ৯টার দিকে বানরটি আবারো আমার কার্যালয়ের কাছাকাছি চিকিৎসা নিতে আসলে আমি পূর্বের ব্যান্ডেজ খুলে আবারো ড্রেসিং করে ওষুধ দিয়েছি। অবশ্য এরপর প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা এসে নিয়ে গেছেন।

 

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা আরজু বলেন, বানরটির উন্নত চিকিৎসার জন্য চিটাগাং ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে গেছি। বিকাল থেকে সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে এটির উন্নত চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট