চট্টগ্রাম শনিবার, ২০ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

ময়নাতদন্তে মিলবে সায়ানের মৃত্যু রহস্য

অজ্ঞাতনামা আসামি দিয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা

নাজিম মুহাম্মদ

৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১২:০০ অপরাহ্ণ

নগরীর হাজী মুহাম্মদ মহসিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আদ্রিপ অহন সায়ানের মৃত্যুর কারণ এখনও জানা যায়নি। গত ২৯ আগস্ট স্কুলে যাবার পর আর বাসায় ফিরেনি সে। একদিন পর ৩১ আগস্ট দুপুরে কোতোয়ালি থানার অভয়মিত্র ঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীতে ভাসমান অবস্থায় সায়ানের মৃতদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ-থানা পুলিশ। সায়ানের বাবা স্কুল শিক্ষক বিশ্বজিৎ দাশের দাবি, তার ছেলেকে হত্যা করে লাশ গুম করতে নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি বাদী হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলায় কাউকে আসামি করা হয়নি। বিশ্বজিৎ আশাবাদী পুলিশের তদন্তে ছেলে হত্যার রহস্য বেরিয়ে আসবে।

 

সদরঘাট নৌ থানার ওসি একরাম উল্লাহ দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘সায়ানের বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলাটি নৌ পুলিশ তদন্ত করছে।’

 

ওসি একরাম বলেন, ‘স্কুল ছাত্র সায়ানের মৃতদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসলে মৃত্যু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।’ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে বলে জানান ওসি একরাম।

 

সায়ানের  বাড়ি নরসিংদী জেলার সদর থানার দুই নম্বর ওয়ার্ডের  উত্তর কান্দা পাড়ার গুরুপদ দাশ বাড়িতে। নগরীর বাকলিয়া থানার দেওয়ান বাজার কেডিএস গলির কুদ্দুসের ভবনের দ্বিতীয় তলায় তাদের ভাড়া বাসা।

 

বিশ্বজিৎ দাস বলেন, তার ছেলে আদ্রিপ (১৩) হাজী মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। গত ২৯ আগস্ট সকাল পৌনে সাতটার দিকে দেওয়ানবাজারের বাসা থেকে বের হয়ে প্রতিদিনের মতো স্কুলে যায়। বেলা পৌনে বারোটা পর্যন্ত স্কুলের ক্লাসে ছিল সায়ান। স্কুল ছুটির পর যথাসময়ে বাসায় না এলে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোজাখুঁজি করি। কোথাও না পেয়ে রাতে চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। ৩১ আগস্ট বিকেল তিনটায় চকবাজার থানা পুলিশ ফোন করে জানায়, কোতোয়ালি থানার অভয়মিত্র ঘাট এলাকা কর্ণফুলী নদী থেকে একটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। আমরা গিয়ে ছেলের মৃতদেহ শনাক্ত করি। ছেলের পরনে তখনো  স্কুল ড্রেস ছিল।

 

বিশ্বজিৎ জানান, তারা নৌ পুলিশের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন বেলা দেড়টায় (৩১ আগস্ট) অভয়মিত্র ঘাট এলাকা থেকে আনুমানিক ২৫০ গজ দূরে পানিতে ভাসমান অবস্থায় সায়ানের মৃতদেহ দেখতে পায়। পরে সদরঘাট নৌ থানা পুলিশ মৃতদেহটি অভয়মিত্র ঘাটে নিয়ে আসে। বিশ্বজিতের দাবি- ২৯ আগস্ট বেলা পৌনে বারটা থেকে ৩১ আগস্ট দুপুর দেড়টার মধ্যে তার ছেলেকে হত্যা করে মৃতদেহ গুম করতে লাশ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দিয়েছে।

 

পুলিশের সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃতদেহের মুখমণ্ডল ও সমস্ত শরীর ফুলা ছিল। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চামড়া উঠানো ও  ফোসকা পড়া ছিল। নাক, কান ও মুখ দিয়ে লালচে তরল পদার্থ বের হয়েছে। মুখমণ্ডল বিকৃত, চোখ বন্ধ, মুখ খোলা ছিল এবং  মৃতদেহটি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট