চট্টগ্রাম বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

ব্যাংকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

জড়িতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

ভবনের নকশা অনুমোদনের ফরমে ব্যাংকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠার এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

 

এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। এমন কি এ ঘটনায় কোন তদন্ত কমিটিও গঠন করেনি সংস্থাটি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিডিএ’র কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ বিষয়ে সেবা প্রার্থীদের কাছে সিডিএ’র সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

 

জানা যায়, সিডিএ’র অথরাইজড বিভাগের এমএলএসএস ও এলডি পদের দুই কর্মচারী এ কাজের সঙ্গে জড়িত। তারা বেশ কয়েক বছর ধরে ভবনের নকশা অনুমোদনের ফরমে ব্যাংকের সিল স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্মসাৎ করে আসছে। গত রবিবার (২৭ আগস্ট) বিষয়টি জানাজানি হলে সিডিএতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রতিষ্ঠানটির সচিব বরাবর একটি চিঠিও দিয়েছেন।

 

জানা যায়, এ ঘটনায় জড়িতরা গত চার বছর ধরে ভুয়া ব্যাংক স্লিপ দেখিয়ে নকশা অনুমোদন ফাইল পাশ করিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তবে দীর্ঘদিন পর্যন্ত এ ঘটনা কারো নজরে আসেনি। নিয়ম অনুযায়ী সিডিএ’র নির্ধারিত পূবালী ব্যাংকের শাখায় ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদনের জন্য প্রতি ফরম বাবদ ২ হাজার টাকা জমা দিতে হয়। এসব নকশা অনুমোদনের কাজ বেশিরভাগই করে একটি দালাল চক্র। এরমধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির নিম্নপদের কর্মচারী থেকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও।

 

সিডিএ’র একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট অথরাইজড শাখা-১ এ নকশা অনুমোদনের জন্য জমা হওয়া প্রায় ৪৭টি বিসি কেস নথির মধ্যে ৪৬টি নথির ব্যাংকে জমা করা টাকার স্লিপ জাল। যার বেশিরভাগই অভিযুক্ত দুই কর্মচারীর হাত দিয়ে জমা পড়েছে। বিষয়টি গ্রাহকরা জানতে পারলে ওই দু’কর্মচারীর কাছে টাকা ফেরত চান। এতে বাধ্য হয়ে টাকা ফেরতও দেন তারা। একইভাবে ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্রের জন্য জমা দেওয়া নথিতেও ব্যাংক স্লিপ জাল করে জমা দেওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। ফলে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদন আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

 

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, এ ঘটনায় সিডিএ’র সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। ঘটনা জানার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমি নিজে সচিবকে চিঠি দিয়েছি।

 

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা হয়নি। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট