চট্টগ্রাম শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪

বন্দর জলসীমায় বাড়ছে জাহাজে দস্যুতার ঘটনা ­

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ | ১২:০৭ অপরাহ্ণ

টানা কয়েক বছর দস্যুতা মুক্ত থাকার পর আবারও চট্টগ্রাম বন্দর জলসীমায় বাড়ছে জাহাজে দস্যুতার ঘটনা। চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ঘটেছে ছয়টি জাহাজে অপ্রীতিকর ঘটনা।

এরমধ্যে গত ২৪ মে চট্টগ্রাম বন্দরের ডলফিন জেটি-৩ নম্বরে বার্থিংয়ে থাকা ইন্ডিয়ান পতাকাবাহী জাহাজ এমটি সাকসেস এ চুরির ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জাহাজের মাস্টার জানান, ছয় অপরাধী জোরপূর্বক লম্বা ছুরি নিয়ে জাহাজে উঠে। তারা জাহাজের একটি কক্ষের তালা ভেঙ্গে রুমে ঢুকে ১০ ক্যান রং চুরি করে। ঘটনার পর পর বাংলাদেশ কোস্টগার্ড জাহাজে উঠে তদন্ত শুরু করে। পরে অবশ্য কোস্ট গার্ড বন্দরের স্থল ও জল এলাকার কাছাকাছি অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া জিনিস উদ্ধার করে।

এই ঘটনা ছাড়াও গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ঘটেছে আরো পাঁচটি ঘটনা। এরমধ্যে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বহির্নোঙ্গরে থাকা জাহাজ এমভি হানিফে, ৭ জুন বহির্নোঙ্গরে এমভি এনসিসি মেসিলা, পরদিন ৮ জুন বহির্নোঙ্গরে এমভি টিম ফোকাস, ৪ জুলাই বহির্নোঙ্গরে এমটি ওরিয়ন এক্সপ্রেস ও এমভি মেলিনা জাহাজে চুরির ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মুরিং, বয়া, পোর্ট ফ্যাসিলিটি জেটিসমূহ ও বহির্নোঙরে অবস্থানরত জাহাজে ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এই ৬টি চুরি/ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে গত ৮জুন বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, র‌্যাব-৭, নেভি, ডিসি পোর্টসহ অন্যান্য সংস্থাদের সাথে সভা করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। সভায় সিদ্ধান্ত হয়- ‘যে কোন জাহাজ বন্দরে আগমনের সাথে সাথে চট্টগ্রাম বন্দরের ওয়াচম্যান সংক্রান্ত নিয়মাবলী ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্যাবলী জাহাজের এজেন্ট কর্তৃক জাহাজের মাস্টারকে অবহিত করতে হবে এবং এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করবে। জাহাজে বন্দরের ওয়াচম্যান সেল থেকে ওয়াচম্যান নেয়া বাধ্যতামূলক’।

তবে ওয়াচম্যান দিয়ে জাহাজে চুরি/ডাকাতি এড়ানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে বন্দরের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে সরকারি নিয়োগে ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গেজেট আকারে একটি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করা যেতে পারে। এতে বিদেশি জাহাজে নিরাপত্তার বিষয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম বাড়বে।

এদিকে, ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা কয়েক বছর চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা দস্যুতা শুন্য ছিল। তবে ২০২২ সাল থেকে আবার শুরু হয় দস্যুতার ঘটনা। ওই বছরে চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় ঘটছে ৩টি ঘটনা। এছাড়া মোংলা বন্দর এলাকায় ঘটেছে ২টি ঘটনা।

সমুদ্রে বিদেশি জাহাজে সংঘটিত দস্যুতা ও চুরির ঘটনা রেকর্ড করা আন্তর্জাতিক সংগঠন রিক্যাপ বাংলাদেশ জল সীমায় ২০২২ সালে মোট ৫টি ঘটনা রেকর্ড করে। যদিও এসব ঘটনায় চুরি যাওয়া অধিকাংশ মালামাল উদ্ধার করে শিপিং এজেন্ট ও জাহাজের ক্যাপ্টেনের কাছে হস্তান্তর করেছে কোস্ট গার্ড।

এরপর চলতি বছরের প্রথম সাত মাসের মধ্যেই ঘটে গেল ৬টি চুরি/দস্যুতার ঘটনা। এতে আবারো ঝুঁকিতে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা।

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট