চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

মাদকাসক্তদের কারণে হালিশহরে বেড়ে চলছে অপরাধ প্রবণতা

চুরি এখন নিত্যদিনের ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ আগস্ট, ২০২৩ | ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সামাজিক অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতে গত শুক্রবার হালিশহর নতুন পাড়া হযরত বজল আহমদ পীরের মাজারে এসেছিলেন বোয়ালখালীর পূর্ব গোমদণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা মো. কাউসার উদ্দিন রহিম। নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি বাইরে তালাবদ্ধ করে মসজিদে গিয়েছিলেন জুমার নামাজ পড়তে। ফিরে দেখেন উধাও হয়ে গেছে তার মোটরসাইকেলটি। পরে মাজারের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখতে পান তালা ভেঙে তার গাড়িটি নিয়ে গেছে এক দুর্বৃত্ত। নগরীর হালিশহর থানা এলাকায় অপরাধ যেন এখন নিত্যদিনের ঘটনা। রাতের বেলা চুরির পাশাপাশি দিনের বেলায় বাসায় ঢুকে তালা ভেঙে মালামাল নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। শুধু বাসাবাড়ি নয়, মসজিদ, মাদ্রাসা, গ্যারেজ সবখানেই হানা দিচ্ছে এসব দুর্বৃত্ত। এলাকাবাসীর অভিযোগ এলাকায় মাদক বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই সংগঠিত হচ্ছে এসব অপরাধ।

 

ভুক্তভোগী কাউসার বলেন, মোটরসাইকেল চুরির পর হালিশহর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছে। তবে গাড়ির সন্ধান এখনও দিতে পারেনি।

 

এর আগের শুক্রবার সবুজবাগ মারকাজুল কোরআন মাদ্রাসার হাফেজ মওলানা শওকত আলীর বাসা থেকে ক্যাশবাক্স ভেঙে দুর্বৃত্তরা নিয়ে গেছে নগদ প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। হাফেজ মওলানা শওকত আলী বলেন, ১৮ আগস্ট মাদ্রাসাসংলগ্ন সবুজবাগ কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম। ফিরে দেখি ক্যাশ বাক্স ভেঙে সব টাকা নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দেয়া আছে। তবে এখনও কাউকে আটক করা যায়নি।

 

গত মাসে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জুমার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন নিউ আই ব্লক জামে মসজিদে। মোবাইল ও মানিব্যাগ পাশে রেখে নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে দেখেন মোবাইল ও ম্যানিব্যাগ চুরি হয়ে গেছে। শত চেষ্টা করেও হালিশহর এলাকার মসজিদে চুরি ঠেকাতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। হালিশহর বিডিআর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ভেতর থেকে নামাজ পড়া অবস্থায় এক মুসল্লির পকেট থেকে ম্যানিব্যাগ চুরি করার ভিডিও ভাইরাল হলেও সে চোরকে এখনও আটক করা যায়নি।

 

হালিশহর আই ব্লকের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম দুলাল বলেন, গত ১৪ আগস্ট বাসার নিচ থেকে দিন দুপুরে তালা কেটে আমার সহকর্মীর সাইকেল নিয়ে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুই যুবক কাটার দিয়ে তালা কেটে নিয়ে গেছে সাইকেলটি। এসব অপরাধ যেন হালিশহরের এখন নিত্যসঙ্গী।

 

গত মাসেই এক গ্যারেজ থেকে চুরি হয়ে গেছে দুটি ব্যাটারি চালিত রিকশা। ৩০ জুলাই রিক্শা নিয়ে পালিয়ে গেছে জাকির নামের এক চালক। থানায় লিখিত অভিযোগ করে এর কোন প্রতিকার পাননি বলে জানান গ্যারেজের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক লিটন।

 

হালিশহর জে ব্লক সমাজ কল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা মো. শরীফুদ্দিন বলেন, এলাকায় মাদকের বিস্তার বেড়ে যাওয়ার কারণে এলাকায় বেড়ে গেছে অপরাধ প্রবণতা। জে ব্লকের ইবনে সিনা স্কুলের সামনে দিয়ে যাওয়া সড়কের মাথায় মাদকাসক্তদের আড্ডা রয়েছে। এদের বেশির ভাগই বহিরাগত। বিভিন্ন সময় তারা মূল সড়কে এসে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। আমরা এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার একত্রিত হয়ে তাদের ধাওয়া করেছি। কিন্তু একদিন পর আবারও তারা এসে জড়ো হয়। এসব মাদকাসক্তদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করতে না পারলে স্থায়ী সমাধান আসবে না।

 

স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, সবুজবাগ এলাকায় বেশ কয়েকটি স্থানে মাদক বেচাকেনা হয়। এছাড়া আইব্লক ৯ নম্বর রোড মসজিদ সংলগ্ন মাঠ, ১২ নম্বর কালভার্ট এবং বি ব্লক খালের পড়ে রয়েছে মাদকাসক্তের নিয়মিত আড্ডা। মূলত মহেশখালের দু’পাশে সন্ধ্যার পর অন্ধকারে এরা মাদক সেবন করে। বিভিন্ন সময়ে পুলিশ অভিযান চালালেও স্থায়ীভাবে তাদের বিতাড়িত করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

সিএমপি উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে ১২টি চুরির অভিযোগে তদন্ত চলছে হালিশহর থানায়। পুলিশ অপরাধীদের ধরতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধ নির্মূল করতে চাইলে এলাকাবাসীকে সচেতন হতে হবে। মাদকের সাথে জড়িতদের কোন ছাড় নেই।

 

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট