চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্বিগুণ বেড়েছে

৪ বছরে ১৪ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০%

মরিয়ম জাহান মুন্নী

২৬ আগস্ট, ২০২৩ | ১২:৩০ অপরাহ্ণ

চার বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রামে ১৪ ভোগ্যপণ্যের দাম গড়ে সাড়ে ২৯ শতাংশ বেড়ে গেছে। যদিও করোনার ধাক্কা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাজারে সব পণ্যের দামই বেড়েছে। তবে এই ১৪ নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।  দাম বৃদ্ধি পাওয়া ১৪ ভোগ্যপণ্য হচ্ছে- চাল, আটা, ময়দা, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, গরুর মাংস, ব্রয়লার মুরগি, ফার্মের ডিম, পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, রুই-কাতল মাছ, আলু ও কাঁচামরিচ। কৃষি বিপণন দপ্তর, বাজার মনিটরিং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে বাজারের এই চিত্র পাওয়া গেছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা সিদ্ধ সরু চাল বিক্রি হত ২২০০-২৬০০ টাকায়। ওই সময়ে আটার কেজি ছিল ৩২-৩৫ টাকা, ময়দার কেজি ৪৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯৫ টাকা, চিনির কেজি ৭৫ টাকা, পেঁয়াজের কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, ডিমের ডজন ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, তেলাপিয়া ১০০-১২০ টাকা, রুই-কাতল ২৫০-৩০০ টাকা, আলু ২০-২৫ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হত।

 

২০২৩ সালে এসে এই ১৪ পণ্যের দাম গড়ে বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

 

বর্তমানে ৫০ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা সিদ্ধ চাল বিক্রি হচ্ছে ২৮০০-৩১৫০ টাকায়, আটার কেজি ৫৫-৬০ টাকা, ময়দার কেজি ৬৫-৭০ টাকা, ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১৭৫-১৮০ টাকা, চিনির কেজি ১৩০ টাকা, পেঁয়াজের কেজি ৭৫-৮০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ডিমের ডজন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা, পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, রুই-কাতল ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, আলু ৩৮-৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৯০-২০০ টাকা এবং গরুর মাংস ৮০০-৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে ।

 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূলত করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক মন্দার পর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে দেশে সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ডলার সংকটের কারণে ডলারের দাম বাড়ায় আমদানি নির্ভর পণ্যগুলোর আমদানি ব্যয় বেড়ে গেছে। দেশে পরিবহন এবং মজুরি খরচও বেড়েছে। এসব কারণে পণ্য ভোক্তা পর্যন্ত আসতে প্রায় সব খাতে খরচ বেড়ে গেছে।

 

ষোলশহর দুই নম্বর গেটের কর্ণফুলী কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম বলেন, এখন কিছু পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। পেঁয়াজ এখন ৭৫-৮০ টাকা বিক্রি হলেও এটি করোনা পরবর্তী সময়ে ৩০০ টাকাও উঠেছিল। আবার তেল ১৯৫-২০০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। তবে এখন দাম কমেছে। আটা-ময়দার দামও কমেছে। তবে পূর্বের দামে ফিরবে না।

 

সবজির বাজারে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে আলু, কাঁচামরিচের দাম। ১৫-২০ টাকার আলু এখন ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৬০ থেকে ১০০ টাকার কাঁচামরিচ এখন ১৯০-২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এ চিত্র শুধু এই দুই পণ্যেই নয়, এখন প্রায় সব পণ্যের দামই চড়া।

 

বহদ্দার হাটের বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহাদাত বাজার করেন নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার থেকে। প্রতিবারের মত গতকালও তিনি সপ্তাহের কাঁচাবাজার করতে যান। বাজারে গিয়ে প্রথমে যে সবজিটা নিতে চাইলেন দাম শুনে পিছু হটেন। পরক্ষণে অন্য সবজির দাম জানতে চান। এভাবে প্রায় সব সবজির দামই তিনি জেনে নেন। শেষমেশ ৪০ টাকা দরে তিন কেজি আলু কিনে চলে যান মাছের বাজারে। সেখানে ব্যবসায়ীদের কথা শুনে তিনি আরো হতাশ। সস্তা দামের পাঙ্গাসেও হাত দেয়া যাচ্ছে না। এখানেও তিনি দেড় কেজি ওজনের একটা পাঙ্গাস মাছ কিনেন। সপ্তাহের বাজার করতে এসে মাত্র দুইটি পণ্য কিনে ঘরে ফিরেন।

 

এটি শুধু ক্রেতা শাহাদাতের অবস্থাই নয়, এখন বাজার করতে আসা সব ক্রেতারাই সবজি, মাছ ও মাংসের দাম শুনে পরিমাণ কমিয়ে বাজার নিয়ে ঘরে ফিরেন। আরেক ক্রেতা নাজমুল রনি বলেন, ২০১৯ সালেও পাঁচ থেকে এক হাজার টাকার বাজার দিয়ে মোটামুটি সপ্তাহ চলতো। এখন সেইটা হয় না। পাঁচ কেজি সয়াবিন তেল (বোতলজাত) ৪৭৫ টাকায় কিনেছিলাম। এখন সেই পাঁচ লিটারের তেল ৮৭৫- ৯০০ টাকায় কিনেছি।

পূর্বকোণ/আরডি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট