চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

সামরিক বাহিনীর কার্ড ও মনোগ্রাম ব্যবহার করে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ আগস্ট, ২০২৩ | ৭:১৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর মধ্যম হালিশহর এলাকায় সামরিক বাহিনীর মনোগ্রাম ব্যবহার করে প্রতারণাসহ নানা অপরাধের অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার দেহুন্দার আহেদ আলীর ছেলে মো. হারিফ মিয়া (২৩), বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার মো. ফজলুর রহমানের ছেলে মো. ইয়ার হোসেন (৪২), একই এলাকার দুলাল খানের ছেলে মিলন খান (৩০) ও ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার চরজিতরের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো. ইউসুফ মিয়া (৪০)।

 

রবিবার (২০ আগস্ট) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা। তিনি বলেন, গতকাল বিকেলে ঘর ভাড়ার টাকা নিয়ে বিবাদের সূত্র ধরে ৯৯৯-এর মাধ্যমে অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর ধুমপাড়া সাগরপাড় মা কলোনির একটি বাসায় যাই। সেখানে তাদের কথা শোনার সময় মিলন খান নামে এক ব্যক্তি মোবাইল নিয়ে এসে আমাকে কথা বলতে বলে। মোবাইলের অপর প্রান্ত থেকে তিনি বলেন, আপনি কে? ওখানে কেন গিয়েছে? আমি কি কৃষ্ণকে বলব, নাকি তুমি বিষয়টি ওখানে শেষ করবে। তখন উনাকে পরিচয় দিতে বললে তিনি নিজেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এইচ এম শফিকুল আলম বলে জানান। তারপর তিনি আমাকে বলেন, তোমার বাড়ি ফেনীতে জেলার এসপিকে পাঠাচ্ছি। এরপর মিলন খান আমাকে উনার একটি ভিজিটিং কার্ড দেয়। বিষয়টি সন্দেহ হওয়ায় কার্ডে থাকা দুটি ফোন নম্বর যাচাই বাছাই করা হয়। ফোন নম্বর দুটি হারিফ মিয়া নামে এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন পাওয়া যায়। পরে নম্বর দুটির অবস্থান নির্ণয় করে দেখা যায় নম্বর তিনটি ওই ঘটনাস্থলেই রয়েছে। পরে ওই এলাকায় হারিফ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে তার ঘর থেকে সামরিক বাহিনীর পরিচয়ে বানানো ভিজিটিং কার্ড, ফরম, সেনাবাহিনীর মনোগ্রাম সম্বলিত মানিব্যাগসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে নিয়ে ধুমপাড়া সাগরপাড় মা কলোনি থেকে অপর সহযোগীদের আরও তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হারিফ মিয়া মূলত নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদবীসহ নানা পদবীর আইডি কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে তার সহযোগীদের মাধ্যমে ভিকটিমদের চাকরি ও বিদেশ নেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন অংকের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এমন ভুক্তভোগী ৬ জনকে আমরা শনাক্ত করেছি। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ১৪০/১৭০/৪১৯/৪০৬/৪২০/১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

পূর্বকোণ/পিআর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট