চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

নৌকায় চাঁদাবাজি

সিন্ডিকেটেই জিম্মি কালুরঘাটের ফেরি

পূজন সেন, বোয়ালখালী  

১৯ আগস্ট, ২০২৩ | ৩:২০ অপরাহ্ণ

কালুরঘাট সেতু বন্ধের পর থেকে কর্ণফুলী নদী পারাপারে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সময় মতো ফেরি না চলার কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পারাপার করেন যাত্রীরা। দুইটি ফেরি চালু থাকার কথা থাকলেও দিনের বেশির ভাগ সময় ফেরি চালু থাকে একটি, অপরটি থাকে বন্ধ। এতে দুই পাড়ে দীর্ঘ লাইন পড়ে গাড়ির। এসময় ফেরির অপেক্ষা না করে মানুষ নদী পার হন নৌকা যোগে। তবে অভিযোগ রয়েছে একটি সিন্ডিকেট মাঝিদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করে ফেরি চলাচলে ইচ্ছাকৃত বাধা সৃষ্টি করাচ্ছেন। যাতে নৌকায় পারাপার হতে মানুষ বাধ্য হন। জানা গেছে, যাত্রীবাহী নৌকার প্রতি ট্রিপে মাঝিদের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে নেয় সিন্ডিকেটের লোকজন। দৈনিক একটি নৌকা অন্তত ২০ বার যাত্রী নিয়ে পারাপার করে। সেই হিসেবে একটি নৌকার মাঝি দেন ৬০০ টাকা। কালুরঘাটে যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ৩৫টি নৌকা। এতে দৈনিক ২১ হাজার টাকা পান সিন্ডিকেটের লোকজন। এই টাকা থেকে নদীর দুইপাড়ের থানা ও ফাঁড়ির পুলিশ এবং ফেরির  দায়িত্বশীল লোকজনকে ম্যানেজ করেন। অবশিষ্ট টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি হয়। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় এক পৌর কাউন্সিলরের লোকজন এ চাঁদাবাজিতে জড়িত।   
চাঁদাবাজি বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন মাঝিদের সাথে একাধিকবার কথা বলেছেন। তিনি জানান, ‘নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পেলেও মাঝিরা মুখ খুলতে নারাজ। তবে বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।’  
পৌর মেয়র মো. জহুরুল ইসলাম জহুর বলেন, ‘নৌকার মাঝিদের কাছ থেকে একটি সিন্ডিকেট টাকা নিয়ে ফেরি চালকদের সাথে আঁতাত করে একটি ফেরি বন্ধ রাখতে বলে। মাঝিদের কাছ থেকে নেওয়া টাকার অংশ তাদেরকে দেওয়া হয় বলে জানতে পেরেছি। সেই কারণে বার বার বলা পরও চালকরা একটি ফেরি চালায়। একটি ফেরি চললে ওই সিন্ডিকেটের পোয়াবারো।’
নদীর পশ্চিম পাড়ে পুলিশ যে টাকা নেওয়ার খবর পেয়েছি তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে পৌর মেয়র বলেন, রবিবার জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় চাঁদাবাজির বিষয়টি তুলে ধরবো।’
এদিকে, গত বুধবার বোয়ালখালী পৌরসভার অর্থায়নে ৩০টি নৌকায় ১০টি করে ৩০০টি লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করেছিলেন পৌর মেয়র জহুরুল ইসলাম জহুর। তবে এসব লাইফ জ্যাকেট নৌকার মাঝিদের ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। ফলে যাত্রীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই পারাপার করছেন। পৌর বাসিন্দারা বলেন, লাইফ জ্যাকেটের অর্থ পুরোটাই জলে গেছে।
গত ১ আগস্ট থেকে জরাজীর্ণ কালুরঘাট সেতু সংস্কার কাজের জন্য বন্ধ রয়েছে। নদী পারাপারে ফেরি চালু করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট