চট্টগ্রাম সোমবার, ২২ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

টানা বৃষ্টিতে কদর বেড়েছে ছাতার কারিগরদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ আগস্ট, ২০২৩ | ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রামে বেড়েছে বৃষ্টির প্রবণতা। এতে বেড়েছে ছাতার কদর। বেড়েছে পুরোনো ছাতা মেরামতের হিড়িক। এমন অবস্থায় ফুটপাতে মাথার উপর ছাতা টানিয়ে বসেছে মৌসুমি ছাতা মেরামতকারীরা।

 

বর্ষার শেষদিকে এসে এ কারিগররা কাটাচ্ছেন ব্যস্ত সময়। অনেকে আবার ফেরি করে ছাতা মেরামতের কাজ করছেন। গতকাল নগরীর বহদ্দারহাট, দুই নম্বর গেট, চকবাজারের এলাকায় ছাতা মেরামতের কাজে মৌসুমি কারিগরদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়।

 

বহদ্দারহাটে ফ্লাইওভারের নিচে ছাতা মেরামতের কাজ করছেন নিজাম উদ্দিন। কাজের চাপে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি। কাজ করার ফাঁকে দু’একটি কথার উত্তর দিচ্ছেন। জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে ছাতা মেরামতের কাজ করেন। কিন্তু বর্ষা ছাড়া অন্য সময় রিকশা চালান। ভালো আয়ের আশায় মাস শেষের দিকে ভ্যানগাড়িতে বাসাবাড়ির মালামাল টানেন। এখন বাইরে বৃষ্টি, এ সময় রিকশা চালালে বৃষ্টিতে ভিজতে হয়, আবার বাসাবাড়ি পরিবর্তনের কাজও নেই। এদিকে বৃষ্টির কারণে ছাতার ব্যবহার বেড়েছে। তাই বৃষ্টিতে না ভিজে বিকল্প আয়ের পথ হিসেবে ছাতা মেরামতের কাজকে বেছে নিয়েছেন।

 

তিনি বলেন, আয়ও বেশ ভালো। ছোটখাটো সমস্যা সারিয়ে দিলেই ২০-২৫ টাকা পাওয়া যায়। ছাতার সমস্যা যত বেশি মজুরিও তত বেশি। কোনো কোনো ছাতা মেরামত ১শ টাকার বেশিও রাখি। দৈনিক হাজার টাকার বেশি আয় হচ্ছে। যা আগের চেয়ে বেশি।

 

চকবাজার প্যারেড কর্নারের পাশে ছাতা মেরামতের কাজ করছেন নাদেম আলী। তিনিও বেশ ব্যস্ত। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মৌসুমে এ কাজ করি। এমনিতে ব্যাগের চেইন ঠিক করি। এরকমই টুকিটাকি কাজ করি।

 

চক সুপার মার্কেটের পাশে মো. মুছা ও  আজাদ নামের দু’জন ছাতা মেরামতের কাজ করছেন। তারা জানান, যদিও এটি মৌসুমি কাজ। সারাবছর আয় হয় না। কিন্তু মৌসুমে ভালো কাজ হয়। আবার এখন পারিশ্রমিক বেড়েছে। আগে একটি ছাতার বড় মেরামতে ৩০-৪০ টাকা পেতাম। এখন সেই কাজের পারিশ্রমিক ৬০-৮০ টাকা রাখা হয়। কিছু ক্ষেত্রে দেড়শ টাকার বেশিও রাখা হয় মজুরি।

 

তারা দু’জনে কাজ করছেন। তবুও লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন আরো ৫ জন কাস্টমার। এখানে ছাতা ঠিক করতে আসেন চকবাজারের একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষক মো. নোমান। তিনি বলেন, আমার ছাতার দুইটা শিক এলোমেলো হয়ে গেছে। ছাতা খুললে শিক থেকে কাপড় সরে যায়। এ সমস্যা ঠিক করতে এসেছি। কিন্তু মজুরি চাচ্ছেন বেশি। দুইটা শিক ঠিক করতে ৮০ টাকা চেয়েছেন। দরদাম করে এখন ৬০ টাকায় মেরামত করতে হচ্ছে।

 

একইভাবে কাপ্তাই রাস্তার মাথার বাসিন্দা তৌহিদুল পারভেজ ডাক্তার দেখিয়ে ঘরে ফিরছেন। পথে হাতের আধা ভাঙা ছাতাটি মেরামতের জন্য দাঁড়ান বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের নিচে। ছাতা খুলতে জ্যাম হয়ে যায়। এটি ঠিক করতে হবে। কারিগর মজুরি চাচ্ছেন ৬০ টাকা। ৫০ টাকা দরদামে ঠিক করেন তিনি।

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট