চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নগরবাসী

মোহাম্মদ আলী

৯ আগস্ট, ২০২৩ | ১২:০৩ অপরাহ্ণ

জলাবদ্ধতায় ভুক্তভোগী নগরবাসী দুই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে। জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ যখনই সৃষ্টি হয় তখনই চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) থেকে বলতে শোনা যায় ‘আগামী বছর’ থেকে সুফল পাবে নগরবাসী। এ কথাটি শুনতে শুনতে পার হয়েছে অনেকগুলো বছর। জলাবদ্ধতা যেন তাদের নিয়তির লিখনে পরিণত হয়েছে। তাই নগরবাসীর প্রশ্ন- সেই কাঙ্ক্ষিত ‘আগামী বছর’ আসবে কবে? জলাবদ্ধতা থেকে তাদের কখন মুক্তি মিলবে? গত কয়দিনে নগরীর সীমাহীন জলাবদ্ধতায় এ প্রশ্ন আবারও ঘুরপাক খাচ্ছে নগরবাসীর মনে। আরও একটি প্রশ্ন নগরবাসীর মনে নতুন করে উঁকি দিচ্ছে। প্রায় ৭০ লাখ নগরবাসীর দুঃখ লাঘবের লক্ষ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৮ সালের এপ্রিলে শুরু হয় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটিরও বেশি টাকার মেগা প্রকল্প।

 

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের স্মরণকালের বৃহৎ এ প্রকল্পটি শুরুর সময়ে তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছিলেন, ‘বর্তমান সরকারের প্রায় সব অর্জনই মাটি হয়ে যাচ্ছে এই জলাবদ্ধতার কারণে। অর্থহীন হয়ে পড়ছে সব উন্নয়নকাজ। এ কারণে চট্টগ্রামের মানুষের জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ এ উপহার। আগামী তিন বছরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে আশাকরি জলাবদ্ধতা শব্দটি জাদুঘরে জায়গা করে নেবে।’ গত কয়দিনে টানা জলাবদ্ধতার কারণে ভুক্তভোগী নগরবাসীর এখন প্রশ্ন, আবদুচ ছালামের এ বক্তব্যের তিন বছরের স্থলে এখন পাঁচ বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে কিন্তু জলাবদ্ধতা জাদুঘরে স্থান তো নেয়নি, উল্টো এটি ক্রমাগত বড় ধরনের জনদুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। তাই নগরবাসীর প্রশ্ন- নগরীর জলাবদ্ধতা কখন জাদুঘরে যাবে? 

 

জানতে চাইলে নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা মওসুম এলে নগরীতে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। তখন সিডিএ থেকে বলতে শুনি- আগামী বছর থেকে নগরীতে জলাবদ্ধতা আর হবে না। কিন্তু বাস্তবে আজও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায়নি নগরবাসী। গত কয়দিনের বৃষ্টিতে নগরবাসীর কাছে তা আবার প্রমাণিত হলো। ‘আগামী বছর’টা কবে আসবে, তা স্পষ্ট জানতে চায় নগরবাসী। মূলত অপরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। জনগণের স্বার্থে প্রকল্পগুলো কাজ করছে কিনা এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি না থাকায় প্রকল্প থেকে সুফল পাচ্ছে না জনগণ।’ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে টানা বৃষ্টিপাতে নগরীর লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী। জীবনযাপন করছে মানবেতর।

 

গত বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) থেকে টানা পাঁচদিন নগরীতে কখনো থেমে থেমে আবার কখনো একটানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর মধ্যে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত কার্যত অচল ছিল নগরী। নগরীর এ চিত্র কয়েক বছরের নয়, কয়েক যুগের। দীর্ঘ এ সময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে মেয়র ও কাউন্সিলর এসেছেন বেশ কয়েকজন। একই সময়ে সিডিএ’র চেয়ারম্যানও হয়েছেন বহুজন। কিন্তু শহরের দুর্ভোগপূর্ণ এলাকার সমস্যার সমাধান আজও হয়নি। বরঞ্চ দিনে দিনে এসব এলাকার সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। এখন মেঘ দেখলেই আঁতকে উঠে এলাকাবাসী। নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, বাদুরতলা, বাকলিয়া, কাপাসগোলা, ষোলশহর ২নং গেট, মুরাদপুর, বিবিরহাট, চকবাজার, ফিরিঙ্গিবাজার, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও আবাসিক বি-ব্লক, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। তাতে জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ। পানিবন্দী হয়ে পড়ে জনগণ। কয়েক যুগ ধরে এ সমস্যা চলে আসলেও কার্যত প্রতিকারে টেকসই কাজ হচ্ছে না।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট