চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

অর্থসংকটে সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প

ইমরান বিন ছবুর

৮ আগস্ট, ২০২৩ | ১২:২৮ অপরাহ্ণ

বাস্তবায়নের মাঝপথে এসে অর্থসংকটে পড়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্প। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে নেওয়া সবচেয়ে বড় এই প্রকল্পে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ মিলছে না। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (আরডিপিপি) অনুমোদন আটকে থাকায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান- ২০১৭ সালের আগস্টে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অনুমোদন দেয় একনেক। সেই সময় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয় ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত। পরে প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়।

 

তবে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণসহ কিছু কাজে খরচ বাড়ায় গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৪ এর ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ব্যয় ৩ হাজার কোটি টাকা বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে আরডিপিপি পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে। এরমধ্যে গত জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ এবং আরডিপিপি অনুমোদন না হওয়ায় এখন নতুন করে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ চাইতে পারছে না সিডিএ।

 

জানা গেছে- জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৯৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে সিডিএ। এরমধ্যে ’১৭-১৮ অর্থবছরে ১৫০ কোটি, ’১৮-১৯ অর্থবছরে ৪২৫ কোটি, ’১৯-২০ অর্থবছরে ৮০০ কোটি, ’২০-২১ অর্থবছরে ৬৮৯ কোটি ৯৯ লাখ, ’২১-২২ অর্থবছরে ৬৫৪ কোটি ৬১ লাখ এবং ’২২-২৩ অর্থবছরে ৭২৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ পায় সিডিএ। তবে ’২৩-২৪ অর্থবছরে প্রকল্পটির জন্য কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

 

নতুন করে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা নেমে আসার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন- বাজেটের নিশ্চয়তা না পেলে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করা যাবে না। বিল না পেলে ঠিকাদাররা কাজও করবেন না। প্রকল্পের পুরোপুরি সুফল পেতে পুরো কাজ শেষ করতে হবে। একটি ৫০০ মিটার খালের মধ্যে ৪০০ মিটারের কাজ শেষ হলেও সেখান থেকে পুরোপুরি সুফল মিলবে না।

 

সিডিএ’র দেওয়া তথ্যানুযায়ী- জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রকল্পের অধীন ৩৬টি খাল রয়েছে। এরমধ্যে ১৬টি খালের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। ৯টি খালের কাজ শেষ হওয়ার পথে। তবে অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় বাকি ১১টি খালের ভূমি অধিগ্রহণই সম্পন্ন করা যায়নি। ফলে যেখানে কাজ শেষ হয়েছে সেখানে পানি দ্রুত নেমে গেলেও যেখানে কাজ করা যায়নি সেখানে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

 

জানতে চাইলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লে. কর্নেল মো. শাহ আলী বলেন, জলাবদ্ধতার নিরসন প্রকল্পের বর্ধিত সময় ২০২৩ সালের জুনে শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত নতুন করে সময় বৃদ্ধি করা হয়নি। সিডিএ থেকে আমরা আরডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। কিন্তু সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে আটকে আছে।

 

মো. শাহ আলী বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ এবং আরডিপিপি অনুমোদন না হওয়ায় এই প্রকল্পের জন্য নতুন কোনো বরাদ্দ সিডিএ চাইতে পারছে না। বরাদ্দ না পেলে নতুন কোনো কাজ করার সুযোগ আমাদের নেই। টাকা ছাড়া কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন। দ্রুত আরডিপিপি অনুমোদন না পেলে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হবে।

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট