চট্টগ্রাম রবিবার, ২১ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

স্যালাইন সংকট চট্টগ্রামে

নিজস্ব প্রতিবেদক

৫ আগস্ট, ২০২৩ | ১:১৭ অপরাহ্ণ

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গত জুলাই থেকে স্যালাইনের চাহিদাও বাড়তে শুরু করে। চাহিদার চাপে চট্টগ্রামের বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ডেঙ্গু রোগীদের প্রাণরক্ষাকারী স্যালাইনের। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

যদিও সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। তবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অনেকটাই ‘টেনেটুনে’ চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একটি নরমাল স্যালাইন পেতে নাভিশ্বস উঠছে রোগীর স্বজনদের। দোকান দোকান ঘুরেও মিলছে না স্যালাইন। কোথাও পাওয়া গেলেও কিনতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি মূল্য দিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার তাগিদ সংশ্লিষ্টদের।

 

চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গু রোগীদের রক্তের তারল্য ঠিক রাখতে ও রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত স্যালাইন দিতে হয়। একজন ডেঙ্গু রোগীকে সুস্থ করে তুলতে দিনে কমপক্ষে চার থেকে পাঁচ ব্যাগ স্যালাইনের প্রয়োজন হয়। যে পরিমাণ রোগী বাড়ছে, তাতে চাহিদা বেড়েছে নরমাল স্যালাইনের। কিন্তু বাজারে স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না।

 

হেলাল উদ্দিন নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘অনেক খোজাখুঁজির পর চমেক হাসপাতালের একটি ফার্মেসিতে স্যালাইন পেয়েছিলাম। তাও আবার একশ’ টাকার স্যালাইন কিনতে হয়েছিল ৪শ টাকা দিয়ে। তবে অনেক ঘুরতে হয়েছে। বহু দোকানে খুঁজে পাওয়া যায়নি।’

 

স্যালাইন না পাওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে চট্টগ্রামের বৃহত্তম ওষুধের পাইকারি বাজার হাজারী গলির ওষুধ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সদ্য বিদায়ী সভাপতি সফিউল আজম বলেন, ‘কোম্পানিগুলোকে বারবার তাগাদা দেয়ার পরও গত ১০ দিন ধরে একটি স্যালাইনও পাইনি। নরমাল স্যালাইনের একদম সরবরাহ নেই বললেই চলে। প্রতিটি দোকানের চিত্র প্রায় একই। পর্যাপ্ত উৎপাদন না থাকার কারণেই এমন সংকট সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানিগুলো।’

 

কোম্পানিগুলোর পর্যাপ্ত স্যালাইন সরবরাহ না দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে চমেক হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের ফার্মেসির দোকানের মালিক সঞ্জয় সেন বলেন, ‘উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদামতো স্যালাইন সরবরাহ করছে না। চাহিদার বিপরীতে স্যালাইন দিচ্ছে খুব কম। ১শ স্যালাইন চাওয়া হলে দিচ্ছে মাত্র আট থেকে ১০টি। ডেঙ্গু রোগীর পরিস্থিতি ঊর্ধ্বমুখীর পর থেকেই এমন অবস্থা বিরাজ করছে।’

 

স্যালাইন সংকটের কারণে রোগীদের চিকিৎসায় হিমশিম অবস্থায় পড়তে হচ্ছে উল্লেখ করে বেসরকারি পার্কভিউ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এটিএম রেজাউল করিম বলেন, ‘বহুদিন ধরেই নরমাল স্যালাইনের খুবই সংকট চলছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একশটি স্যালাইনের অর্ডার দিলে তারা দেয় পাঁচটি। চাহিদা থাকায় বাইরের দোকান বা ফার্মেসি থেকে চড়া মূল্যেই ক্রয় করতে হচ্ছে। চরম সংকটের মধ্যে আছে স্যালাইন। এমন পরিস্থিতি থাকলে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় হিমশিম অবস্থায় পড়তে হবে।’

 

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে গত জুলাই থেকেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেবে- প্রতিদিন  গড়ে ৭৫ জন করে রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ভর্তি হওয়া কমবেশ সকলেরই স্যালাইনের প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বিপরীত চিত্র সরকারি হাসপাতালে : বাজারে নরমাল স্যালাইনের সংকট থাকলেও বিপরীতে সুখরব হচ্ছে- চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুদ রয়েছে। মজুদকৃত এসব স্যালাইন দিয়ে আরও কয়েক সপ্তাহ যাবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

চমেক হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘ ‘সবমিলিয়ে আমাদের প্রায় ২০ হাজার স্যালাইন মজুদ আছে। আপাতত স্যালাইনের সংকট চমেক হাসপাতালে নেই।’

 

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘হাসপাতালে গড়ে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের জন্য যে পরিমাণ স্যালাইন থাকার প্রয়োজন তাতো আছেই, পর্যাপ্ত মজুদ করা হয়েছে। হাসপাতালে কোন রোগীর ক্ষেত্রে স্যালাইনের সমস্যা হবে না।’

 

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুর উদ্দিন রাশেদ বলেন, ‘বর্তমানে চারজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তবে স্যালাইনের ঘাটতি নেই। বরং পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুদ রয়েছে। আশা করে সমস্যা হবে না।’

 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত স্যালাইন মজুদ রয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি- সাধারণ ক্রেতারা গিয়ে ফার্মেসিতে স্যালাইন পাচ্ছেন না।’ অসাধু ব্যবসায়ীরা সংকট তৈরি করেছেন এমন অনুমান করে সিভিল সার্জন আলোচ্য বিষয়ে প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট