চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৯ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে জুলাইয়ে ডেঙ্গুরোগী ভর্তি বেড়েছে ৮ গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১ আগস্ট, ২০২৩ | ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে মশার কামড়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত জুনে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ২৮৩ জন রোগী। যা ছিল চলতি বছরের মধ্যে রেকর্ড। তবে সেই রেকর্ড ভেঙেছে বিদায়ী জুলাই মাসে এসে। জুনে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ডেঙ্গু ভয়ংকর হয়ে ওঠে জুলাইয়ে। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা আট গুণের বেশি ছাড়িয়েছে জুলাইয়ে।

 

শুধু ভর্তির সংখ্যাই রেকর্ড গড়েনি, বরং মৃত্যুর সংখ্যাও রেকর্ড গড়েছে জুলাইয়ে। এ মাসে জুনের তুলনায় আড়াইগুণ বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে মশার কামড়ে। চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত ডেঙ্গু রোগীর তথ্য পর্যালোচনায় এসব পাওয়া গেছে।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে অস্বাভাবিক বৃষ্টি আর অপরদিকে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ না করার কারণেই এমন পরিস্থিতি। যদি এখনও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার না করা হয়, তাহলে বাকি দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হবে বলেও আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকসহ কিটতত্ত্ববিদরাও। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

 

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুধুমাত্র গেল জুনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৮৩ জন। জুলাইয়ে এসে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩১১ জনে। যা জুনের চেয়ে ৮গুণ বেশি। আর জুনে ৬ জনের মৃত্যু হলেও জুলাইয়ে এসে ১৬ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়। যা জুনের তুলনায় আড়াইগুণ বেশি।

 

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, অতীতের তুলনায় এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বেশি পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি এখন যেমন রয়েছে, হয়তো সামনের দিনে আরও বাড়তে পারে। জুলাইয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যু দুটোই রেকর্ড গড়েছে। তাই এখন থেকেই সকলকে সচেতন থাকতে হবে।

 

রক্ষা নেই শিশুদের : বড়দের পাশাপাশি কোনভাবেই নিরাপদ নয় বাড়ির ছোটরাও। ডেঙ্গুর প্রকোপে ভুগছে বিভিন্ন বয়সী শিশুরাও। চট্টগ্রামে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের বড় একটি অংশই হচ্ছে শিশু। মৃত্যুর হিসেবের তালিকাতেও নাম রয়েছে তাদের। এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৫ জনের মৃত্যু হলেও তাদের মধ্যে ১৪ জনই হচ্ছে শিশু। যা মোট মৃত্যুর সাড়ে ৫৬ শতাংশ। আর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা প্রায় ২৬ শতাংশ।

 

পূর্বকোণ/মাহমুদ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট