চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪

সর্বশেষ:

৪০ বছরের পরিশ্রমে ভাগ্য ফিরিয়েছেন ৩০ লাখ মানুষের

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ জুলাই, ২০২৩ | ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

সাধারণ মানুষের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করার জন্য ইচ্ছাশক্তি আর একাগ্রতা মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। ন্যায়নীতি আর সততাকে সঙ্গী করে আলোর দিকে ধাবিত হচ্ছেন রফিক আহামদ। উন্নয়নকে হাতিয়ার বানিয়ে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে গত চার দশক ধরে।

 

রফিক আহামদেরর নেতৃত্বে গড়া সংগঠন মমতা এখন দেশের সামাজিক উন্নয়নের সুনাম ছড়িয়েছে বিশেষত; চট্টগ্রাম বিভাগে। একসময় বসার মতো চেয়ার ছিল না, শীতল পাঠি, মাদুর কিংবা তালপাতার বিছানায় হাঁটু গেড়ে বসে অফিস করতেন এই সংগঠনের কর্মীরা। এখন তারাই স্বপ্নপূরণ করে হাজারো মানুষের খাবার, বাসস্থান আর আধুনিক জীবন গড়তে সহযোগিতা করছে। গত ৪০ বছরে ৩০ লাখ মানুষকে আয়ের মুখ দেখিয়েছেন মমতা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রফিক আহামদ।

 

জানা যায়, ১৯৪৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বন্দর নগরী চট্টগ্রামের বাংলাবাজার এলাকায় তৎকালীন বজল মিয়ার বাড়িতে (বড়বাড়িতে) জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পিতা বজল আহমদ ও মাতা সবুরা খাতুন দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি আভিজাত্য আর ধনসম্পদে পরিপূর্ণ পরিবেশে বড় হলেও নিজেকে দেখেছেন একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষেই সমাজের মানুষের জন্য কাজ করার মানসে নেমে পড়েন রফিক আহামদ। তার পিতা আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম বজল আহামদ সওদাগর পুরোদস্তুর একজন ব্যবসায়ী হওয়া সত্ত্বেও স্বভাবজাতই একজন সমাজসেবক ও মানবতাপ্রেমী ব্যক্তি হিসাবে তার পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

 

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম শহর আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর একজন আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

রফিক আহামদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্নের মাধ্যমে শিক্ষাজীবন শেষ করেই কিছুকাল পিতার ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন তবে তা বেশিদিন স্থায়ীত্ব পায়নি। পিতার ব্যবসায়িক কাজ থেকে ফেরার সময় চট্টগ্রামের বন্দরটিলা, পতেঙ্গা এলাকা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়া রোগীদের বিশেষত; প্রসব বেদনায় ছটফট করা মায়েদের আর্তনাদ প্রায়শই তার চোখে পড়তো। কেননা সে সময়ে উক্ত এলাকা সমূহে তেমন কোন প্রাতিষ্ঠানিক হাসপাতাল ছিলো না, যেখান থেকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল বা সুবিধাবঞ্চিত রোগীরা সেবা গ্রহণ করতে পারতো। অনেক সময় পথিমধ্যে প্রসব বেদনা সহ্য করতে না পেরে অনেক মায়ের মৃত্যু হতো যা তাকে বেশ ব্যথিত করে তুলে। এসব ঘটনাসমূহ সচক্ষে দেখে রফিক আহামদ সিদ্ধান্ত নেন এসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কিছু করে যাবেন। সেই থেকে তিনি ও তার কয়েকজন বন্ধুপ্রতীম মানুষদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন উন্নয়ন সংগঠন মমতা। রফিক আহামদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত সংগঠন মমতা ১৯৮৩ সনে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি দিয়ে যাত্রা শুরু করে। ধীরে ধীরে এই সংগঠনের সঙ্গে অনেকেই যুক্ত হতে থাকেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হিসেবে বিভিন্নজনের সহযোগিতায় অবহেলিত মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যায় মমতা। বাড়তে থাকে বিস্তৃতি। এরপর সবই রূপকথার মতো। যা এখন চোখে দেখা যায়। অত্যন্ত সুনামের সাথে সেবাদানের মাধ্যমে গরীব ও অসহায় মানুষের অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল হয়ে মমতার প্রতিষ্ঠিত মমতা মাতৃসদনসমূহ।

 

রফিক আহামদ সরকারিভাবে শ্রেষ্ঠ সমাজকর্মীর পদক পেয়েছেন ২০০০ সনে, চট্টগ্রাম সিটি করর্পোরেশন কর্তৃক স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননা পদক পেয়েছেন ২০২৩ সনে, ইউনেস্কো অ্যাওয়ার্ড ১৯৯২, এছাড়াও পেয়েছেন দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক ৩০টিরও বেশি সম্মাননা ও পদক। তিনি চট্টগ্রামকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে সবই করছেন।

 

জনগোষ্ঠীর চাহিদার ভিত্তিতে মমতা বর্তমানে ২৪টিরও বেশি সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে রয়েছে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, সমৃদ্ধি, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষা, পোশাক শ্রমীকদের অধিকার ও সচেতনতা, যক্ষা নির্মূল কর্মসূচি, বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী গয়াল পালন ও সংরক্ষণ, বিলুপ্তপ্রায় চট্টগ্রামের লাল গরু সংরক্ষণ ও প্রসার, সুবিধাবঞ্চিতদের শিক্ষার সুযোগ, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও পয়ঃনিষ্কাশন নিশ্চিতকরণ কৈশোর কর্মসূচি, দেশিয় সংস্কৃতিক চর্চা ও উন্নয়নসহ অন্যান্য বিষয়।

 

পূর্বকোণ/জেইউ/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট